এখন দেশে ও দেশান্তরে অনেক রাত। এমন রাতে আমি অবশ্য ঘুরে বেড়াই।
4 বা 6 ট্রাম ধরে পেস্টে চলে যাই, দানিয়ুব পেরোলেই কিছু শব্দ। এখানকার জায়গাগুলো চেনা নামে ছকে নিয়েছি নিজের মত করে। নুগ্যতি টার কে গৌহাটি বললে সকলেই দেখেছি বুঝতে পারে। আমি আসছি দি্লিী থেকে, স্টপের নাম দেল প্যালিদুযার। যার পরের স্টপ মস্কো, বোর্ডে নাম ফুটে ওঠে, মস্ক ভাটিয়ের। আর একটা শব্দ চিনি, ভিগালমস, দি্লিী বা মস্কো সব যায়গায়, ভিগালমস, ট্রাম বা বাস খালি করে দাও।
এমন না বোঝা আর এক ঝাঁক নিজের শব্দের ভিতের দাঁড়িয়ে জোনাকিদের বড় চেনা লাগে, কিন্তু কারুরই তো নাম জানিনা। ওক্তোগান, ব্লাহা টের, আর আমাদের কলেজ স্ট্রিট রাকোসি উত পেরিয়ে ডেরেকটের। হু হু বাওয়া রাত এখানে বাচ্চা।ঠান্ডা বাড়ছে চোঁ চোঁ করে, আর ভিড়।
সম্ভবত উইক এন্ড। বার পাব জমজমাট। ঘসা কাঁচের োপাশে স্ট্রিপটিজ চলছে। বদলে যাওয়া রঙের ভিতর নারী শরীর স্পষ্ট। মোবাইলে তাই ধরার চেস্টা করি আর সে ফসকে ফসকে যায়। দুপাশ থেকে দুজন মহিলা এসে টানতে শুরু করে হাত। নেম নেম বলাতে বদলে যায় হাবভাব, চেঁচায়, পাপারাতজি পাপারাতজি বলে।
হিরো স্কোযারে বাচ্চারা স্কিয়িঙকরছে, আর দুপাশে দুটো মিুজিয়াম, একটাতে হাত কামড়ানো ভ্যান গফ, অন্যটায় সেই ল্যাম্প শেড। ফোরেন্ট যা আছে তার জন্য রাস্তাই বেশ।
রবিনের কাছে বসে তার গত তিন বছরে প্রেমের অক্লান্ত ইতিহাস। গীর্জার ঘন্টা বাজে মাহিদুল ইসলাম রবিন ঘন্টার হিসাব পেয়ে নামাজ পড়তে উঠে পড়ে।তার ঘরের দেওয়ালে চাঁদ মাসের ক্যালেন্ডার, দেশের সময় তার ঘরের দেওয়ালে, যা দেখে রোজই হাসি, তিন বছর তো হল', ও হ্যাঁ এই তিন বছরে রবিন দেশে যায়নি একবারও।
মনে হয়, নানি্নএম্মুরর কথা। ও নিশ্চয় নামাজ পরছে, অন্য ফোনটা থেকে নম্বর নিয়ে মিস কল দেওয়ার চেস্টা করি। পায় কি পায না, কে জানে, ঘোত ঘোত আওয়াজ।
তুমি যদি না ঘুমিয়ে থাক? নাহ এখন ফোন বাজান ঠিক হবে না।ক'দিন যা ভুগলে।কাল দোল, নিশ্চয় রঙ খেলবে না। লুকিয়ে চুরিয়ে একটু সময় করে ছবি বন্দোপাধ্যায়ের হোরিখেলা শুন, আমিও এখানে শোনার চেস্টা করছি। নাহ পাইনা। একানে বসন্ত এখনো আসেনি। রোজই জল ঝরছে। কিন্তু আমারো একটা অন্য ঘড়ি আছে, যতই রবিনের উপর হাসি। তাই কাল দোল এটা মাথায় নড়ে। ছবি বন্দোর কীর্তন শুনতে ইচ্ছে করে।
আমি কীরকম একটা জবুথবু বাঙালি হয়ে পড়ছি দিনদিন।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০০৭ বিকাল ৫:৪৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



