
কালকে রাতের ঝাঁকুনিতে তো যথারীতি দৌড়াদৌড়ি করে নেমে গেলাম বিল্ডিং থেকে। পরে সিঁড়ি বেয়ে উঠার সময় হঠাত এই কিছুটা পুরানো মুভির কথা মনে পড়ে গেল। আহামরি কিছুই না। দেখার পরে ভাল্লাগেনি। আইএমডিবি রেটিং সেটারই সাক্ষ্য দেয়, ৪.৮/১০। লেখার উদ্দেশ্য মুভির রিভিউ না। মুভিটা যে আমাদের দেশের জন্য ভাল একটা প্রিভিউ যে সত্যিই যদি ভূমিকম্পে ঢাকা ধসে পড়ত তাহলে কি হত, সেটার।
যারা দেখেছেন তাদের জন্য না, যারা দেখেননি এখনো সাজেস্ট করব না দেখতে; কিন্তু লেখায় স্পয়লারের ছড়াছড়ি। পড়া না পড়া আপনার ইচ্ছে কারন হাল্কা উপর ঝাপসা করে মুভির কাহিনী তুলে দিচ্ছি।
মুভির পটভূমি চিলিতে। গ্রিংগো, অ্যারিয়েল আর পোলো- তিন পর্যটকের সাথে পরিচয় হয় তিন সুন্দরী ললনা- মনিকা, কাইলি আর রাশিয়ান ইরিনার সাথে এক পার্টিতে। ভ্যালপারাইসোতে এক ক্লাবে কাহিনীর সূত্রপাত। ভূমিকম্পে ধ্বসে পড়ে গোটা বিল্ডিং পার্টির উম্মাদনায় মেতে ওঠা নারী-পুরুষের উপর, হাত কাটা পড়ে অ্যারিয়েলের। প্রাণে বেঁচে বের হয় ছয় তরুণ-তরুণী কিন্তু পথিমদ্ধে মারা পড়ে অ্যারিয়েল। মড়ার উপর খাঁড়ার ঘায়ের মত শহরে ছড়িয়ে পড়ে জেল পালানো কয়েদীরা। লুট-তরাজ, অগ্নি সংযোগ, খুন-ধর্ষনে কেঁপে উঠে গোটা শহর আরো একবার ভূমিকম্প ছাড়াই। দুর্ভাগ্য ক্রমে পালানোর সময় মেয়েরা চোখে পড়ে যায় কয়েদীদের। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও আদিম চাহিদা মেটানোর জন্য তাড়া করে মেয়েদের। ভাঙা ইট-পাথরে চাপা পড়ে গ্রিংগো, পরিণত হয় গলায় রশি বাঁধা ছাগলে। বাকিটুকু অনুমান করাই যায়। পশুপ্রবৃত্তির শিকার হয় হয় ইরিনা। ইরিনার যন্ত্রনা দেখে অসহায় গ্রিংগো কাঁপা হাতে ইট ছুঁড়ে মারে। যার মূল্য দিতে হয় অ্যালকোহলে ভিজে আগুনে পুড়ে। পালায় বাকিরা প্রাণ হাতে নিয়ে। শেষ পর্যন্ত কেউ বাঁচে কিনা সেটা জানতে হলে দেখে ফেলুন টাইম পাসিং মুভিটা (সাজেশন দিলাম না কিন্তু
যে জন্য এত কিছু লিখলাম সে কথায় আসি।
ফেবুতে অনেক কিছু দেখলাম 'খুল ডুড জেনারেশন' পাব্লিশ করেছে। আতঙ্কের চোটে নেমে আসা অনেক মেয়েরই নাকি গলায় ওড়না ছিলনা। খুল ডুডেরা ওড়না ছাড়া অংশ দেখে খুবই মজা পেয়েছেন। আবার তাদের মেকাপ ছাড়া চেহারায় নাকি প্রতিবেশী মেয়েকেও চেনেননি। 'শিট ম্যান! কি দেখলাম!' মার্কা স্ট্যাটাস-মেমেতে ভরপুর আমার ফেবু ওয়াল। আফটারশকের জেলপালানো কয়েদীগুলোও আমার মতে এইসব ডিজিটাল পার্ভাটদের চাইতে বরং ভাল আমার মতে। কারন তারা সরকারী সীল দেয়া অপরাধী। ভদ্রতার মুখোশ পড়ে নীরব ধর্ষকদের চাইতে অনেক গুনে সৎ। অপরাধ প্রকাশ্যে করে বুঝিয়ে দেয় কে ভাল, কে খারাপ। আর আমাদের ডুডেরা তো সেটা করেন না।
আর অনেকেই ফজরের নামাজ পড়ে ঘুমিয়েছে। শাবাশ! ভালো কাজ করেছেন। ভূমিকম্প আল্লাহ আর যাতে না ঘটান তার ঘুষ হিসেবে নামাজী হয়ে গিয়েছিল দেশের একটা অংশ। ফরজ কাজ হিসেবে না- এই মতামত দিয়েছেন অনেকেই ইনডিরেক্টলি।
নামাজ পড়া, সেটা হোক এক ওয়াক্ত আর পাঁচ ওয়াক্তই; পড়া ফরজ। আর ভূমিকম্পের ভয়ে অ-নামাজীও যদি নামাজ আদায় করে তাহলে সমস্যা কি? আল্লাহ বান্দাকে পরীক্ষায় ফেলে তার ঈমানের শক্তি পরীক্ষা করেন। সেই পরীক্ষা চরম অধার্মিক লোকও আল্লাহর নাম মুখে নেয় তাতেও উপরওয়ালা খুশি হবেন বলে আমার ধারনা। এখানে সেটা নিয়ে রসিকতা করার কি আছে? আমার ক্ষুদ্র মাথায় ঢুকে না।
কোনকিছুই একদিনে তৈরি হয় না। ছিঁচকে মাস্তান, হেরোইনখোর ধীরে ধীরে পরিণত হয় ধর্ষক-খুনীতে। বাইকে করে আজকে যে টান দিয়ে ব্যাগ নিয়ে গেল, কালকে সে ঘরে ঢুকে জবাই করে যাবে টাকার বিনিময়ে। আজকে যে মানুষটা শিশুর পায়ুপথে গ্যাস ঢুকিয়ে খুন করছে, ভূমিকম্পের তৈরি করা ধ্বংসস্তূপের ফাকে আপনার বুকে সে ছুরি ঢুকাবে না- এমন ভাবাটা বাহুল্যতা। ভিডিও দেখেছি আমরা তাই জানি কি করেছে সে, যারা ভিডিও ছাড়াই এমন করছে তারা যে আফটারশকের কয়েদীর দলে পরিণত হবে সেটা কেউ বলতে পারবে?
যাইহোক অনেক ত্যানা পেঁচাইলাম। মোদ্দা কথা হলঃ নতুন প্রজন্মের (আমি নিজেও যার অংশ) সবাই খারাপ না, বিপদ মোকাবেলা করার উদ্দেশ্য নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরা রক্তগরম পাগল অনেক আছে, অগুনিত। যেটা দেখা যায় যে কোন দুর্যোগেই। কিন্তু লুকানো পশুগুলোকে নিয়েই আমার ভয়। আমার পরিবারকে নিয়ে ভয়, আপনজনের নিরাপত্তা নিয়ে ভয়, মেয়েদের নিয়ে ভয়; সেটা হোক বোন-সহপাঠী-অচেনা কোন লাস্যময়ী সপ্তদশী।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ১০:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




