somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

টিভি সিরিজ রিভিউঃ Strike Back

০১ লা জানুয়ারি, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



তুমুল গোলাগুলি ভালো লাগে? সারাউন্ড সাউন্ড সিস্টেমে উড়ে যেতে মজা পান অথবা হেডফোন কানে দিয়ে পারলে নিজেই যুদ্ধে নেমে যেতে ভালোবাসেন? তাহলে ৪৬ এপিসোডের টিভি সিরিজটি বানানো হয়েছে আপনার জন্যই।

রিভিউ বা পার্সোনাল অপিনিয়ন শেয়ারিং- যেটাই বলি না কেনো, শুরু করার আগে বলে নিই এই সিরিজটি বানানো হয়েছে একজন প্রাক্তন SAS(Special Air Service) এর সদস্য Chris Ryan রচিত উপন্যাস থেকে। সিরিজটিতে উপন্যাসের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। ক্রিস রায়ান একাধারে এক্স-এসএএস সোলজার, ঔপন্যাসিক, টেলেভিশন প্রেজেন্টার, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ।

সিরিজের শুরুতেই দেখা যায় ব্রিটিশ ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্সের সিক্রেট ব্রাঞ্চ ‘সেকশন ২০’ একটি রেসকিউ টিম পাঠায় ইরাকের বসরাতে একজন গুরুত্বপূর্ন বন্দিকে উদ্ধার করে আনার জন্য। যেকিনা আসাদ নামের এক হাই প্রোফাইল ইরাকি টেরোরিস্টের বন্দি। সময়কালঃ ইরাক যুদ্ধের শুরুর ৪৮ ঘন্টা আগে। কিন্তু মিশনে গোলমাল হয়ে যায় আর মারা পড়ে দুজন অপারেটর। যার দায়ভার গিয়ে পড়ে প্রথম সিজনের নায়ক জন পোর্টারের (রিচার্ড আর্মিটেজ) উপর। ছাঁটাই হতে হয় তাকে। কিন্তু ঘটনা চক্রে রিঅ্যাসাইন করা হয় তাকে যখন সেইম টেরোরিস্ট একজন সিনেটরের মেয়েকে কিডন্যাপ করে। তারপর বাকিটা নিজেই দেখে নিন পোর্টার আসলেই দোষী ছিল নাকি ষড়যন্ত্রের শিকার, আসাদেরই বা কি হলো।



প্রথম সিজন ৬ এপিসোডের। বাকি চার সিজন ১০ করে। সিরিজটির খোঁজ পাই আরেক অ্যাকশন ধর্মী সিরিজ Banshee দেখতে গিয়ে। ব্যানশি শেষ করে হা-হুতাশ করছি কোপাকুপি-হাতাহাতি-গোলাগুলি-রক্তারক্তির অভাবে, তখনই চোখে পড়লো এটি। আমেরিকান টিভি সিরিজ দেখে অভ্যস্ত হলেও ব্রিটিশ টিভি সিরিজ হিসেবে চমৎকার লেগেছে আমার কাছে। প্রতিটা এপিসোডেই মনে হবে ৪৫-৫০ মিনিটের অ্যাকশন মুভি দেখছেন। আর সিরিজটির লোকেশন পরিবর্তন করা হয়েছে কাহিনীর প্রয়োজনে। কখনো ভারত কিংবা পাকিস্তান বা থাইল্যান্ড, আবার কখনো ব্রিটেন, সোমালিয়া থেকে উড়ে গেছে জিম্বাবুয়ে, ইরাক কিংবা হাঙ্গেরি আর কেনিয়াতে।



প্রথম দুটো সিজনে কেবল হা করে গিলেছি। মুহুর্মুহু গোলাগুলি, সিআইএ-ডিআই এর ইন্টেলিজেন্স সুলভ ডায়গল, গেজেট-ওয়েপনের ঝনঝনানিতে ভরপুর। তৃতীয় সিজনটা আমার কাছে তেমন ভালো লাগেনি যদিও অ্যাকশনে ভাটা পড়েনি। কিন্তু চতুর্থ সিজনে আবার কাহিনী জমে যাবে।এক নিঃশ্বাসে শেষ করে ফেলার মত। আর পঞ্চম সিজনেও দেখবেন সমান পরিমাণে বুলেট খরচ হচ্ছে আর টপাটপ দুষ্টের পতন ঘটছে। বোনাস হিসেবে পাবেন লোকেশন থাইল্যান্ড, মনে হবে- আরে পাশের দেশেই তো হচ্ছে!!

সিরিজটির আইএমডিবি রেটিং বেশ ভালো- ৮.৩। রোটেন টোমাটোতেও একদম ফ্রেশ- ৯১%। লোকমুখে অত জনপ্রিয়তা পায়নি কারন কাহিনী টিপিক্যাল ব্রিটিশ-আমেরিকান প্রপাগান্ডা মূলক মুভি দেখতে দেখতে আপনি-আমি সবাই চোখ পচিয়ে ফেলেছি বলে। তবে সিরিয়াল খোর হলে অবশ্যই দেখবেন আপনি। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর আমার কাছে আহামরি না লাগলেও মানিয়ে গেছে, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভালো ছিলো বেশ। সতর্কবার্তা দিয়ে রাখা ভালোঃ এডাল্ট টিভি সিরিজ যেহেতু, নুডিটির ছড়াছড়ি আছে প্রায় এপিসোডেই। নিরাপদে দেখার দায়িত্ব সম্পুর্ণ আপনার নিজের।

সিরিজের কাস্টিঙে পরিচিত মুখের অভাব নেই। পুরো সিরিজ জুড়ে আছে সবার মুখচেনা সব তারকা - হবিট ট্রিলজির মাথা গরম ডোয়ার্ফ নেতা থোরিন ওকেনশিল্ড- রিচার্ড আর্মিটেজ, গেম অফ থ্রোন্সের টাইউইন ল্যানিস্টার- চার্লস ড্যান্স, আন্ডারওয়ার্ল্ডের রোনা মিত্র, ব্লাইন্ডস্পট আর ৩০০:রাইজ অফ এন এম্পায়ার খ্যাত সুলিভান স্ট্যাপেলটন, চাইনিজ অ্যাক্ট্রেস মিশেল ইয়োহ প্রমুখ। প্রথম সিজনে রিচার্ড আর্মিটেজ প্রধান চরিত্রে থাকলেও পরের সিজন গুলোতে নতুন মুখ দেখা যাবে। তবে সেটা বেমানান লাগবে না মোটেও।

এখনো প্রায় দেড় সিজন শেষ করা বাকি, কিন্তু তার আগেই লিখে ফেললাম। পিওর অ্যাকশন ফ্যান হলে মাস্ট ওয়াচ। নিরাশ হবেন না এইটুকু গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি। তবে যদি নিরেট কাহিনী, শক্ত প্লট, কিংবা ব্রেকিং ব্যাডের মত ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট, গেম অফ থ্রোন্সের মত মিনিংফুল ডায়গল খুঁজতে যান তাহলে মেবি এটা আপনার জন্য না। ইটস পিওর এন্টারটেইনমেন্ট পিপল!

রোলার কোস্টার রাইডের ভক্ত হলে চেপে বসুন, সীট বেল্ট টাইট করুন, ঘর অন্ধকার করে দিন, ভলিউম বাড়িয়ে দিয়ে শুরু করে দিন দেখা।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৭ রাত ৩:১২
১৪টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দরজা ভাঙ্গে যে রাষ্ট্র।। দ্বীপ সরকার

লিখেছেন দ্বীপ ১৭৯২, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪০



দরজা ভাঙ্গে যে রাষ্ট্র

একদা এক রাতে-
রাষ্ট্র, কড়া নাড়তে নাড়তে দরজা ভেঙ্গে
ঢুকে পড়লো
আমি নিথর,নিস্তব্ধ এক জনগণ
বললাম,আমি ভয় পাচ্ছি
রাষ্ট্র হাসতে হাসতে ভাঙ্গা দরজা দিয়ে
এক পা দুই পা করে,লোকালয়ে মিশে গেলো

রাষ্ট্র কি ভয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

×