somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রবীন্দ্রনাথ, বংগের অংগচ্ছেদ ও আমাদের জাতীয় সংগীত

১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রবীন্দ্রনাথ বাংলা সাহিত্যে ধ্রুবতারা। তার সাহিত্য নিয়ে বিতর্ক করাটা অর্থহীন। যদিও অনেকে তার সাহিত্যে তিনি সাম্প্রদায়িকতার উর্ধ্বে উঠতে পারেননি বলে দু:খ প্রকাশ করেন। আমাদের সমাজে আবার রবী বাবুর অতি ভক্তরা পারলে তাকে দেবতার চেয়েও উঁচু আসনে বসিয়ে দিতে চান, যা দেখলে হয়ত তিনি নিজেও লজ্জা পেতেন। এইসব রবি বাবুর দাসেরা বাংগালী সংস্কৃতির নাম দিয়ে যাবতীয় হিন্দু সংস্কৃতিকে আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিতি করতে অন্তহীন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রবীন্দ্রনাথ সাহিত্যিক হিসাবে অনেক উঁচু মাপের হলেও মানুষ হিসাবে তিনি একজন গোঁড়া উঁচু বর্ণের হিন্দুদের বাস্তব প্রতিচ্ছবি। যখন বংগ ভংগের কথা আসলো, তখন যেসব উগ্র হিন্দুত্ববাদিরা তাদের আধিপত্যের অবসান হবে বলে বংগ ভংগের বিরোধিতা করেছিলেন রবি বাবু তাদের মধ্যে অন্যতম। তাদের দাবী ছিলো দুই বংগের অংগচ্ছেদ করা যাবেনা, তাহলে পূর্ববংগের পশ্চাতপদ জনগোষ্ঠির উপর হিন্দুদের জমিদারিত্বের অবসান ঘটবে, মুসলমানরা তাদের হারানো অধিকার ফিরে পাবে, এটা কিছুতেই হতে দেয়া যায়না। আমাদের দেশে এখনো কালের স্বাক্ষী হয়ে যে সব জমিদার বাড়ি বিদ্যমান তাদের মধ্যে মুসলমান জমিদারের দেখা পাওয়া সাপের পাঁচ পা দেখার মত বিরল; যদিও ইংরেজ আমলেও এই জনপদে মুসলমানরা ছিলো সংখ্যাগরিষ্ঠ। ইংরেজ শাসনের শেষের দিকে মুসলমান নেতাদের দাবীর মুখে যখন বৃটিশরা পূর্ববংগে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার পরিকল্পনা করলো, তখন মহান হিন্দু বাবুরা হায় হায় করে উঠলেন, তাদের সব শেষ হয়ে গেলো বলে। কুলি মজুর মুসলমানরা শিক্ষিত হবে- এটা কিছুতেই মেনে নিতে পারেন নি তারা। এই কারণে যে সব উগ্র হিন্দু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের অন্যতম মদদ দাতা ছিলেন আমাদের মহান সাহিত্যক রবি বাবু। বংগ ভাংগা প্রতিরোধ করার জন্য তিনি বেশ কয়েকটি গান রচনা করেছিলেন। তার মধ্যে একটি হলো আমাদের জাতীয় সংগীত, আরেকটি হলো:

বাংলার মাটি, বাংলার জল,
.............ধ্ণ্য ধ্ণ্য হোক.....।

আজকাল রবি বাবুর কিছু দাস নতুন ইতিহাস রচনা করার চেষ্টা করছে প্রভুর বড়ত্ব জাহির করার জন্য। তাদের বলি, মনটাকে আবর্জনামুক্ত করুন, আর কত মিথ্যার বেশাতি ছড়াবেন। অবশ্য মিথ্যার মধ্যে যাদের বসবাস, তাদের কাছে মিথ্যাই সত্য। আমার প্রশ্ন হলো যে সাহিত্য রচিত হয়েছে পূর্ব বাংলার জন্ম ঠেকানোর জন্য, কালের নির্মম পরিহাসে সেটিই আজ আমাদের জাতীয় সংগীত। এ ব্যাপারে আবার কথা বলতে গেলে তকমা লেগে যাবে মৌলবাদি, স্বাধীনতাবিরোধী বলে।

জাতীয় সংগীত বদল- নিয়ে এখন আলোচনা করা মানে মৌচাকে ঢিল ছোঁড়া। শুনেছি বংগবন্ধু জাতীয় সংগীত-

'আমার সোনার বাংলা..."

পরিবর্তন করে

"ধন ধান্যে পুষ্পে ভরা, আমাদের এই বসুন্ধরা---"

এই মনমুগ্ধকর সংগীতটিকে জাতীয় সংগীত করতে চেয়েছিলেন। তার আগেই তিনি নিহত হন। তিনি পরিবর্তন করে গেলে হয়ত আজকে এত বিতর্ক হতোনা। তবে এখন এসব বিষয় নিয়ে বিতর্ক না করাই উত্তম।

ড: মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর ভাষায়- 'মা, মাতৃভাষা ও মাতৃভূমি - এই তিনটি পরম শ্রদ্ধার বস্তু' - কথাটি সবার মনে রাখা প্রয়োজন।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সন্ধ্যা ৬:৫৭
১৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যুদ্ধ বিরোধী কবিতা: তোমরা বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো

লিখেছেন অর্ক, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৪২



আর আমি ভীষণ দুঃখ পেলাম দেখে
দল বেধে বিড়াল হত্যার উৎসবে মেতেছো
কুয়াশাচ্ছন্ন বরফসাদা হিম রাত শীতের
তোমরা বিরাটকার কালো আলখাল্লা পরা
উলের ভারি দস্তানা ও মুজো হাতে পা’য়ে;
পাশবিক উল্লাসে শীর্ণকায় শিশু বিড়ালটিকে
কামড়ে আঁচড়েহাঁচড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অমর একুশে বই মেলা: প্রযুক্তির যুগে ছাপার বই: প্রয়োজন, না কি স্মৃতির অবশেষ: নাকি সমন্বয়ের ভবিষ্যৎ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:৫০


মানবসভ্যতার জ্ঞানভাণ্ডার দীর্ঘকাল ধরে বহন করে এনেছে মুদ্রিত বই। কাগজে ছাপা অক্ষরের বই একসময় ছিল জ্ঞানের প্রধান বাহন, সংস্কৃতির ধারক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার অপরিহার্য মাধ্যম। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:২৫



জল পড়ে পাতা নড়ে- বলেছেন কবি
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শৈশব বেলায়,
বালক মতিত্বে তাঁর কাব্যের ভেলায়
প্রাথমিক আরোহন কি চমৎকার!
যে হয় সে হয় মূর্ত সাফল্যের ছবি
শুরু থেকে। তার যাত্রা জীবন মেলায়
রাজকিয় হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি সরকার মেয়াদ পূর্ন করতে পারবে কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:০৩



এখন বিএনপি সরকার ক্ষমতায়।
বিএনপির অতীত ইতিহাস মোটেও ভালো না। এরা যখন ক্ষমতায় ছিলো তখন শুধু দূর্নীতি করেছে। দেশের উন্নয়ন হয়নি। গত ১৭ বছর আওয়ামিলীগ বিএনপিকে কোনঠাসা করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Narrative warfare এর যুগে আপনাকে স্বাগতম

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩২


২০২৫ সালের মে মাসে যখন ভারত পাকিস্তানে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল, তখন দিল্লির একটি প্রেস কনফারেন্স রুমে দাঁড়িয়ে ছিলেন দুজন নারী সামরিক কর্মকর্তা। একজন হিন্দু, একজন মুসলিম। ক্যামেরার সামনে তারা কাঁধে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×