somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমেরিকার দিনগুলো--সাউথ-ওয়েস্ট ভ্রমনের কিছু গল্প!

৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমেরিকার সামারের দিনগুলো খুব মজার... আমার জন্য বিশেষ করে,-- কারন বাচচাদের স্কুল ছুটি থাকে বলে। আমরা প্রায় প্রতি বছর সামারেই বাংলাদেশে যেতাম, যেবার গুলোতে যেতামনা, সেবার চেস্টা করতাম আমেরিকাতেই ঘুরতে! ২০১৫ তে একবার ডালাস যেতে হয়েছিলো পারিবারিক কারনে, একজনকে হেল্প করতে। সেবার বাচ্চাদের (একজন ১৫, আরেকজন ১১ ছিল তখন--বাচ্চা বলাটা ঠিক না বোধহয়/ টিন এজার ঠিক আছে!) নিয়ে আমি আগে চলে গিয়েছিলাম ডালাসে, আর আমার বর পরে যোগদান করেছিলো। সেই আত্মিয়ের ঝামেলা মেটার পর বাকি ছুটির সময়টা কাজে লাগিয়েছিলাম বেড়াতে গিয়ে--আমার বহুদিনের শখ ছিলো American South-West ট্রিপ দেয়ার! তাই প্ল্যান করলাম ডালাস থেকে যতদুর যাওয়া যায়, দক্ষিন-পশ্চিম বরাবর..একেবারে নেভাদা পর্যন্ত!
একদিন খুব ভোরে আমরা চারজন একটা গাড়ি রেন্ট করে বের হয়ে গেলাম..একটানা ৯ ঘন্টা চালিয়ে টেক্সাস পেরিয়ে নিউ মেক্সিকোর সান্‌তা ফে শহরে পৌছালাম (মাঝে মাঝে খাবার আর তেলের জন্য বিরতি নিয়েছিলাম)। মুল শহর পেরিয়ে টেক্সাস রাজ্য ছাড়ানোর সময় শুধু খাঁ খাঁ শুন্যতা, সীমাহিন সমান প্রান্তর আর একাকী দাড়িয়ে থাকা উইন্ডমীল ছাড়া আর কিছু চোখে পড়লনা! তবুও খারাপ লাগেনি--আমরা চারজনই সাউথ-ওয়েস্টের এই বিরাণ, ধ ধু প্রান্তর খুবি পছন্দ করি...আসলে নিউ ইয়রকের কঠিন ঠান্ডা, বিষন্ন ওয়েদারে বিরক্ত সবাই! রাতে সান্‌তা ফের একটা হোটেলে থেকে সকালে নতুন শহরের রুপ দেখে আমরা অভিভুত! সান্‌তা ফের বাড়িঘর, দালান সবকিছু মাটির --এগুলো কে আ্যডোবি স্থাপনা (Adobe Architecture) বলে। অতিরিক্ত তাপ আর শুস্ক আবহওয়ার জন্য (দিনে প্রচন্ড গরম, রাতে কনকনে ঠান্ডা) এরকম বাড়িঘর বানানো হয়, যাতে এই মোটা দেয়াল গুলো দিনের বেলার প্রচুর তাপ শোষন করে ঠান্ডা রাখে আর, রাতের বেলায় তা বিকিরণ করে ঘর গরম করতে পারে। সানতা ফে তে প্রচুর আর্টিস্ট, কবি আর পর্যটকের আনাগোনা..কেমন উৎসব উৎসব ভাব সবসময়! খুবি ভাল লেগেছিলো আমার এই শহরে, আবারও যেতে ইচ্ছে করে!..


টেক্সাস থেকে নিউ মেক্সিকো যাওয়ার পথে ধ ধু প্রান্তর!


নীল পাহাড়ের কোল-ঘেষা রাঙামাটির মায়াবতী সান্‌তা ফে শহর!


অপূর্ব Adobe Architecture!
সেইদিন বিকেলেই আবার সান্‌তা ফে থেকে রওয়ানা দিলাম আ্যরিজোনার উদ্যেশে, আবারও ৯/১০ ঘন্টার জার্নী! গাড়ির রেডিও তে কান্ট্রি মিউজিক শুনতে শুনতে আর উঁচুনিচু পাহাড়ি রাস্তায়, অন্ধকারের আবছা আলোয় ভুতুড়ে পাহাড়-টিলা দেখতে, দেখতে রাত নটায় আ্যরিজোনার সেডোনা শহরে পৌছালাম। সেডোনার যে হোটেলে আমরা রাতে ছিলাম, সেটা অনেক উচু পাহাড়ী শহরে ছিলো। সেডোনা পৌছাতে, আর ওখানে পৌছে সেই রাতের দুটো ঘটনা জীবনেও ভুলবনা!.. প্রথমটা হচ্ছে, ঐ হোটেলে যেতে একটা পাহাড় বেয়ে নামতে হয়, এটাকে Switch Back Road বলে, ওটার প্রান্ত ঘেষে গাড়ি চালিয়ে নামতে যেয়ে আমি ভয়ে চিৎকার করছিলাম---মনে হচ্ছিল এখনই পাহাড় থেকে শত শত ফিট নিচে গাড়ি ছিটকে পরবে!
পরের ঘটনা হোটেলে পৌছানোর পর। ক্লান্ত স্রান্ত আমরা চারজন ক্ষুধায় অস্থির হয়ে রেস্টুরেন্টের উদ্যেশে বের হলাম! হোটেফাঁকা ল থেকে যখন বের হই, রাত সাড়ে নটা বাজে তখন। কেমন অদ্ভুত ফাঁকা শহর, কেউ কোথাও নেই--এই রাত সাড়ে নটাতেই সবাই ঘুমিয়ে পড়ল? হেটেলে নীচে, লাল মাটির মাঝে ছড়ানো ছিটানো ক্যাকটাস গাছের ঝোপ দেখতে দেখতে আমরা বড় রাস্তায় উঠে এলাম, --একটা দোকানও খোলা নেই, আবার হোটেলের রেস্তোরাও বন্ধ! বাচ্চারা খিদেয় খিটমিটে হয়ে উঠেছে! একটা খাবারের দোকান ঝাঁপি মাত্র বন্ধ করছে দেখে দৌড়ে গেলাম ওখানে, অনেক রিকোয়েস্ট করলাম আবার খুলে দেয়ার জন্য! কিন্তু দোকানী রাজী হচ্ছিলনা কিছুতেই, কি বিশ্রি ব্যবহার এদের! আমাদের সাথে রাগারাগী করছিলো এতরাতে রাস্তায় ঘোরাঘুরি করছি দেখে! অনেক বোঝানোর পরে, আর আমরা সেই নিউ ইয়রক থেকে এসেছি বলে কি মনে করে আবার দোকান খুলে ভেতরে বসে অর্ডার নিয়ে খাবার বানিয়ে দিলো আর খাবার নিয়ে দ্রুত হেটেলে ফিরে যেতে বলল! আসলে ঘটনা কি জানেন? লোকটি খাবার বানাতে বানাতে সেটাই বলল আমাদের, আর যা শুনলাম, তা শুনে এক দৌড়ে হেটেলে যেয়ে দরজা লক করলাম!--- এই শহরে রাত সাড়ে আট টার পরে সব কিছু বন্ধ হয়ে যায় মেয়রের নির্দেশে,-- কারন পাহাড় বেয়ে বিষাক্ত সাপ আর ভালুক মেইন শহরের রাস্তায়, ঘরের আশেপাশে ঘেরাঘুরি করতে থাকে! অথচ কিছুক্ষন আগেই আমরা হেটেলের পাশের ঝোপঝাড়ে ঘুরছিলাম! যা হোক! একটা অভিগ্গতা বটে!..সকালে ঘুম ভেঙে সেডোনার অপূর্ব সৌন্দর্য দেখে গতরাতের সব আতংক ভুলে হা হয়ে গেলাম, ইস কি যে সুন্দর সেডোনা, তা কেউ নিজ চোখে না দেখলে বুঝবেনা!...নাস্তা খেয়ে, একটু ঘুরেফিরে রওনা দিলাম গ্র্যন্ড ক্যনিয়নের পথে!..সে গলপ আরেক দিন না হয় বলি!


সেই সুইচব্যাক রোড!


অপূর্ব সেডোনা, আ্যরিজোনা


সেডোনার রূপে আমি মুগ্ধ!
(সব ছবিগুলো গুগল মামার সহায়তায়)
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১২:৫০
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রসায়ন পরীক্ষায় রসটাই আসল :D

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:০৩

রসায়ন পরীক্ষায় রসটাই আসল। না দেখলে মিস!! =p~


সালোকসংশ্লেষণ B-)

...বাকিটুকু পড়ুন

নক্ষত্রের বিদায়!

লিখেছেন এম টি উল্লাহ, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৬:৫২


দেশবরেণ্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, বাংলাদেশের ১৯তম রাষ্ট্রপতি, সাবেক স্পীকার, সাবেক মন্ত্রী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য, ব্যারিস্টার মুহম্মদ জমির উদ্দিন সরকার স্যার রাত ৪ টা ১০ ঘটিকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণা আলোচনায় থাকারই কৌশল মাত্র

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৮

চব্বিশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া সাবেক স্বৈরশাসক ও বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার আগামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মান্তরের ক্ষুধা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:০৮




ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, সেই সাথে গুমোট আকাশ। মেঘাচ্ছন্ন  আবহ । একটানা টুপটাপ আওয়াজ ছাড়া চারদিক সুনসান।বৃষ্টি তার ক্লান্তি কাটাতে  যেই একটু থমকে দাঁড়িয়েছে অমনি বুনো শালিকেরা নেমে এলো খাবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা খাদক ছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৪৮


আজকে সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু একটা এমন তথ্য দিলেন যেটা শুনে বাংলাদেশের আমজনতা রীতিমতো ক্যালকুলেটর হাতে বসে গেল। কথা হচ্ছে শেখ হাসিনার খাবার খরচ নিয়ে। কোন সালে কত টাকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×