somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্মের নামে ব্যবসা, রাজনীতি এবং সন্ত্রাস বন্ধ করতে হবে

০২ রা আগস্ট, ২০১৫ রাত ৯:১৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ধর্ম এসেছে মানবতার কল্যাণে। মানবজাতি যখন এবলিসের প্ররোচনায় অন্যায় অশান্তিতে নিমজ্জিত হয়, তখন মানবজাতিকে শান্তি দিতে যুগে যুগে আবির্ভূত হয়েছেন নবী-রসুল-অবতারগণ। তাঁরা আল্লাহর কাছ থেকে যে কেতাব বা শাস্ত্র নিয়ে এসেছেন, যখন মানুষ সেই বিধানগুলি দিয়ে নিজেদের জীবন পরিচালিত কোরেছে, সমাজ-রাষ্ট্র পরিচালিত কোরেছে, তখনই মানবজীবন শান্তিময় হয়েছে। প্রাচীন ভারতবর্ষে তাই হয়েছে, পৃথিবীর অন্যান্য সভ্যতার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। তাই মানুষের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সর্বোপরি আধ্যাত্মিক-পারত্রিক মুক্তির জন্য ধর্ম এসেছে স্রষ্টার পক্ষ থেকে। এটা তাই আল্লাহ ও মানুষের পারস্পরিক একটি চুক্তির বিষয়। মানুষ আল্লাহর বিধান মানলে উভয় জীবনে শান্তি পাবে, না মানলে উভয় জীবনে শাস্তি পাবে। এই চুক্তিভিত্তিক লেনদেনের মাঝে মধ্যসত্ত্বভোগী কোন শ্রেণির অস্তিত্ব ধর্ম অর্থাৎ আল্লাহ স্বীকার করেন না। সুতরাং ধর্মের কাজ করে বিনিময় গ্রহণ সবধর্মে নিষিদ্ধ, ধর্মের কাজের বিনিময় নিতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহর কাছ থেকে। এই নিষিদ্ধ হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো, পার্থিব বিনিময় নিলে ধর্মের সঠিক রূপ বিকৃত হয়ে যায়। তথাপি প্রতিযুগেই নবীদের বিদায়ের পর প্রতি জাতিতে একটি বিশেষ শ্রেণির জন্ম হয়েছে, ধর্মকে যারা তাদের জীবন-জীবিকার মাধ্যমে পরিণত করেছেন। এভাবেই সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবীর তাবৎ মোল্লা-পুরোহিত-যাজক সম্প্রদায়। আল্লাহর কোনো নবী এবং তাঁদের সাহাবীরা কোনোদিন এসলামের কোনো কাজের জন্য বিনিময় গ্রহণ কোরেছেন বলে জানা যায় না। সুতরাং যারা এই কাজ করছে তারা কোন নবীরই উম্মত নয়, তাই তাদের কাছ থেকে এসলামের শিক্ষা গ্রহণ অবান্তর, হাস্যকর, অন্যায়। এ যেন অন্ধের কাছে পথের সন্ধান প্রত্যাশা করা।
দ্বিতীয়ত, ধর্মের নামে রাজনীতি। বর্তমানে সারা দুনিয়ায় পশ্চিমা সভ্যতার সৃষ্ট গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র ইত্যাদির অনুকরণে হাজার হাজার রাজনৈতিক দল গড়ে উঠেছে। এসলামপন্থীরাও যুগের হাওয়ার সঙ্গে তাল মেলাতে এসলামের চেহারা পরিবর্তন করে মডারেট এসলাম, গণতান্ত্রিক এসলাম, সমাজতান্ত্রিক এসলাম ইত্যাদি ‘আধুনিক’ রূপ দান করেছে। এই ভাবে এসলাম প্রতিষ্ঠার নামে নির্বাচন, মিছিল, মিটিং, ঘেরাও, হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও পোড়াও ইত্যাদি সর্বপ্রকার কর্মসূচি নিয়ে থাকে। এই পথ আল্লাহ দেন নি, সুতরাং এগুলিকে দীনের মধ্যে সংযোজন বা বেদাত বলাই বাঞ্ছনীয়। আল্লাহর রসুল বা তাঁর প্রকৃত উম্মাহ অর্ধেক পৃথিবীতে এসলাম প্রতিষ্ঠা কোরেছিলেন কঠোর সংগ্রামের পথে, নির্বাচন করে নয়। যারা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষদেরকে ধর্মের দোহাই দিয়ে এই ভ্রান্তপথে নিয়ে যাচ্ছে তারা এর জন্য হাশরের দিন আল্লাহর আদালতে অবশ্যই অভিযুক্ত হবেন।
এসলাম এসেছে সকল প্রকার সন্ত্রাসকে নির্মূল করার জন্য, অথচ আজ এসলামের সঙ্গে টেররিজম বা সন্ত্রাসবাদ শব্দটি একত্রে উচ্চারণ করা হয়। এর কারণ এই জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ এসলাম প্রতিষ্ঠার জেহাদের নামে এখানে ওখানে, আদালতে, সিনেমা হলে বোমা মারছে, অসংশ্লিষ্ট মানুষ হত্যা করছে। আল্লাহর রসুল এবং তাঁর আসহাবগণ যতদিন না কোনো সার্বভৌম ভূখণ্ডের অধিকারী হয়েছেন তারা ততদিন কেবলমাত্র মানুষকে তওহীদের দিকে আহ্বান করে গেছেন। এর জন্য বহু নির্যাতিত হয়েছেন কিন্তু কখনও অস্ত্র হাতে নেন নি। যখন আল্লাহ তাঁদেরকে মদীনায় একপ্রকার স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রক্ষমতা দান কোরলেন তখন স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের নীতি পরিবর্তিত হয়ে গেল। কারণ একটি আন্দোলন এবং একটি রাষ্ট্রের নীতি কখনোই এক হতে পারে না। রাষ্ট্র সেনাবাহিনী রাখতে পারে, অস্ত্র রাখতে পারে কিন্তু একটি দলের জন্য সেটা বৈধ হয় না। কিন্তু যারা জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী তারা আপামর জনতার সমর্থনপুষ্ট রাষ্ট্রশক্তি না পেয়েই অস্ত্রবাজি করছে। এটা রসুলাল্লাহর সুন্নাহ পরিপন্থী, সুতরাং অবৈধ। তাদের এই আত্মদানকে তারা এসলামের খেদমতে করা হচ্ছে বলে বিশ্বাস করলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের এই কাজ এসলামের কোনো উপকারে আসছে না, বরং এই কাজ এসলামের ক্ষতি করছে। তাদের এই অবৈধ কাজে আল্লাহ ও রসুলের মর্যাদায় কালিমালেপন করার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে এসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠী। এতে করে তারা দুনিয়াও হারাচ্ছেন, আখেরাতও হারাচ্ছেন।
কাজেই আমরা পরিষ্কার করে সকল ধর্মপ্রিয় মানুষকে জানাতে চাই, যারা প্রকৃতপক্ষেই আল্লাহ রসুলকে, অবতারদেরকে ভালোবাসেন, যারা মানুষের কল্যাণ চান, এসলামের জন্য কিছু করতে চান সেই সকল সত্যনিষ্ঠ মানুষদেরকে বলবো, আপনারা আসুন। আপনাদের জন্য এসে গেছে হেযবুত তওহীদ। হেযবুত তওহীদ এমন একটি আন্দোলন যা কেবলমাত্র আল্লাহ ও রসুলের নির্দেশনা মোতাবেক আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছে, ঠিক যেভাবে রসুলাল্লাহ করে গেছেন। তারা এই পথে নিজেদেরকে উৎসর্গ করেছে, তারা কোনো পার্থিব বিনিময়ের লোভে এই কাজ করছেন না। তারা গত ১৯ বছর ধরে মিছিল, হরতাল, ভাঙচুর, বোমাবাজি, নির্বাচন ইত্যাদি না করেও জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সমগ্র মানবজাতিকে সত্যের পথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান করে যাচ্ছে। আজ পর্যন্ত তাদের দ্বারা একটি আইনভঙ্গ বা অপরাধ সংঘটনের নজির নেই, সন্ত্রাস সৃষ্টি তো দূরের কথা। যারা প্রকৃত এসলামের পুনরুত্থান আশা করেন তাদের একতাবদ্ধ হওয়ার জন্য যামানার এমামের পতাকাতলে সমবেত না হয়ে উপায় নেই। উপরন্তু মহান আল্লাহ একটি বিরাট মো’জেজার মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছেন, হেযবুত তওহীদ তাঁর মনোনীত আন্দোলন, হেযবুত তওহীদের এমামও তাঁর মনোনীত এবং তিনি এই হেযবুত তওহীদ দিয়েই সমগ্র পৃথিবীতে তাঁর সত্যদীন প্রতিষ্ঠা কোরবেন। মানবজীবনে চূড়ান্ত ন্যায় সুবিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা আগস্ট, ২০১৫ রাত ৯:১৪
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গান - জীবন যেন স্রোতের মাঝে ভাসমান দ্বীপের মতো

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪

১৯৮৪ সাল। স্কুলের অফিস রুমে গিয়েছি বেতন দেবার জন্য। লাইনে অপেক্ষা আমি আর আমার লাল ঝুটি বন্ধুটি। আমাদের খুঁজে খুঁজে ঐ ভীড়ের মাঝে পুষি এলো। আদর করে পুষি ডাকতাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল ড্রামের রহস্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


ঘরটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ক্ষণে ক্ষণে জানালার ওপাশ থেকে আসা দূরপথের সোডিয়াম বাতির একচিলতে আলো এসে পড়ছে ঘরের ভারী বাতাসের ওপর। ঘামের তীব্র গন্ধ আর উন্মুক্ত ত্বকের উত্তাপ ঘরের পরিবেশকে ভারী করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৮ বছর ১ সপ্তাহ পার !

লিখেছেন মেহবুবা, ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৯


এমনি করে দিন চলে যায়। ১৮ বছর কখন পেরিয়ে গেল এখানে বুঝতে পারিনি। কত জনের কথা, কত ঘটনা মনে আসছে ! এমনি করে সূর্যাস্তের দিকে যেতে যেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিজন দাদা, হারালে কোথায় ?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


নিত্য নতুন পোস্টের ভিড়ে
সেই চেনা মুখটি আজ আর দেখি না
কোথায় হারালে বিজন দাদা
ব্লগের উঠোনে তোমার সেই ছায়াটি আর মেলে না।

কোনো লেখা যখন সদ্য প্রসবের ব্যথায়
শব্দেরা যখন খুঁজত একটু... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১১

লাল বদর, কালা বদর এবং ছাপরি.....

লাল বদরঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া একটি নতুন ও রাজনৈতিক কটূক্তিবাচক শব্দ বা স্লোগান। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সরকার পতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×