somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন রাজা মিয়ার কাহিনী

২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০১২ দুপুর ১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশের ইতিহাসে রাজা মিয়া একজন চমক। জন্ম ভারতে। জন্মসূত্রে ভারতের নাগরিক। কিন্তু নিজ দেশে টিকতে পারলেন না। চলে এলেন পাকিস্তানের পবিত্র ভূমিতে। যোগ দিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে। অতি ধুরন্ধর। তরতর করে পাক সেনাবাহিনীতে বেশ কয়েকটা প্রমোশন বাগিয়ে নিলেন। ১৯৭১ সাল। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলো। রাজা মিয়া পাকিস্তানে রয়ে গেলেন। তৎকালীন ৯ মাসে কয়েকবার পূর্ব পাকিস্তানে আসা-যাওয়া করলেন। কিন্তু মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিলেন না। আর বীরশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধা বাংলার দামাল সন্তান মতিউর রহমান পাকিস্তান বিমানবাহিনীর একটি বিমান নিয়ে পালিয়ে আসতে চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সাথী অপর পাইলটকে কাবু করতে পারেননি। নিজে নিহত হলেন। বিমানটি বিধ্বস্ত হলো।

আর আমাদের কথিত রাজা মিয়া পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যেসব বাঙালি কর্মকর্তা প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করেছেন, প্রচারণা চালিয়েছেন তাদের বিচারের জন্য Tribunal গঠন করলেন। রাজা মিয়া ছিলেন সেই বিচার কমিশনের চেয়ারম্যান। এটাকে বলে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। তার নিষ্ঠুর নির্যাতনে কত বাঙালি সামরিক কর্মকর্তা জীবন দিলেন তার হিসাব আজও আমাদের জানা নেই। কোনো দিন হয়তো জানা যাবেও না, এমনি বিশ্বস্ত, পাকিস্তান সরকারের অনুগত এই রাজা মিয়া।
এতক্ষণ যার নাম বলছি রাজা মিয়া। তিনি হচ্ছেন আমাদের এক কালের স্বৈরশাসক জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। ১৯৮২ সালে এক নাটকীয় সেনা অভ্যুত্থান ঘটিয়ে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র আঁটেন এই রাজা মিয়া। তারপর তিনি আরো সচতুর অভিনয় করেন। তার ষড়যন্ত্রের জাল যাতে প্রকাশিত না হয় সে জন্য তিনি জেনারেল মঞ্জুরসহ অনেক মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে হত্যা করেন। আর নিজে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি জাস্টিস আ: সাত্তারের সরকারকে উৎখাত করেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেন। বাংলার মসনদ দখল করেন। আর বিএনপিকে ভেঙে এবং সুবিধাবাদী কিছু রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে গঠন করেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি। কঠিন স্টিমরোলার চালিয়ে দীর্ঘ নয় বছর বাংলাদেশকে শাসন করেন। ১৯৮৬ সালে প্রহসনের নির্বাচন করেন। গণতন্ত্রকর্মী ডা: মিলনকে হত্যা করেন। গণতন্ত্রের মানসপুত্র নূর হোসেনের বুক ঝাঁঝরা করেন। জনতার ওপর ট্রাক উঠিয়ে দেয়ার ঘটনা তার আমলেই ঘটে। ছাত্রসমাজের মধ্যে গু ামি করার জন্য গঠন করেন জাতীয় ছাত্রসমাজ। কিন্তু তার প্রতিষ্ঠিত ছাত্র পাণ্ডাদের গুণ্ডামি বেশি দিন টিকে নেই।

নিজে উপাধি নেন পল্লীবন্ধু। বেগম রওশন এরশাদকে বানান ফার্স্টলেডি। বাংলাদেশে তিনি এই পদ্ধতির প্রথম প্রবর্তক। কবিতা রচনার অভিনয় করেন। অনেক বিখ্যাত লেখককে দিয়ে কবিতা লিখিয়ে নিজের নামে প্রচলন করেন। অনেক সুখী পরিবারে ভাঙন ধরান। নিজের বউ থাকতেও পরকীয়ায় পারঙ্গম এই আশি বছরের বৃদ্ধ আমাদের রাজা মিয়া ওরফে মুহম্মদ এরশাদ।

তিনি আবার রাজনীতির মাঠ গরম করছেন। সম্প্রতি ভারত থেকে সবক নিয়ে এসেছেন। বাংলাদেশের মানুষ আর যা-ই হোক ভারতের দালালি পছন্দ করে না। সম্প্রতি তিনি ১১০ জন নিজ দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে চমক দিয়েছেন। এসব ভুঁইফোড় রাজনৈতিকদের নেতাদের জনগণ চেনে। ভোটের সময় ভোটটি তারা উপযুক্ত জায়গায় দেন। তিনি অত্যন্ত আঞ্চলিকতাবাদী। প্রয়োজনে রংপুরের বিভাগকে নিয়ে আলাদা দেশ গড়তে কুণ্ঠিত হবেন না। ভারতের আনুকূল্য তো আছেই। তার চটকদার স্লোগানে জনগণ বিভ্রান্ত হবে না। তিনি কখন যে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন তা টেরও পাওয়া যাবে না। রাজনীতিতে পাক্কা খেলোয়াড় একজন বিখ্যাত সাংবাদিকের মতে, He is unpredictable, তিনি স্ববিরোধী বক্তব্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ।

জাতির দুর্ভাগ্য বলতেই হয়, বিএনপি তথা খালেদা জিয়া সব কিছু জেনেও তার বিচার করলেন না। স্বামী হত্যার বিচার হলে জনগণের সামনে তার আসল চেহারা উদঘাটিত হতো। সে দিন আসবে কি? জনগণের কাঠগড়ায় তাকে কি দাঁড় করানো হবে?

সূত্র: আলী আহমদ ওয়াসেকপুরী
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়: সব কিছু ভেঙে পড়ে

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৬ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:২৮


"তোমরা যেখানে সাধ চলে যাও - আমি এই বাংলার পারে
র’য়ে যাব; দেখিব কাঁঠালপাতা ঝরিতেছে ভোরের বাতাসে;
দেখিব খয়েরি ডানা শালিখের..."

জীবনানন্দ দাশ ''রূপসী বাংলা'র কবিতাগুলো বরিশালে তাঁর পৈতৃক বাড়িতে বসে লিখেছিলেন। জীবনানন্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার কারণে দিদি হেরেছন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৬ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩




আপা এপারের হিন্দুদেরকে স্নেহ করতেন তাতে ওপারের হিন্দু খুশী ছিল। আপা ভারতে বেড়াতে গেলে মোদীর আতিথ্যে আপা খুশী। কিন্তু আপার আতিথ্যে দিদি কোন অবদান রাখলেন না। তাতে হিন্দু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×