স্বাধীনতার পর ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত আট বছর কখনো একমঞ্চে কখনো যুগপৎভাবে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে এরশাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শরিক হয়েছে। তারা একমঞ্চে সাংবাদিক সম্মেলনও করেছে এবং তার ছবি পত্র-পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলে প্রকাশিত ও প্রদর্শিত হয়েছে।
১৯৮৩ সালের শেষের দিকে জামায়াত নির্দলীয় নিরপেক্ষ কেয়ারটেকার সরকারের ফর্মূলা দেয় এবং স্বৈরাচার উচ্ছেদের পর আওয়ামী লীগ এই ফর্মূলাটি লুফে নেয় এবং সংবিধানে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা সংযোজনের জন্য জামায়াত ও জাতীয় পার্টিকে নিয়ে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলে। এই আন্দোলনকে সফল করার জন্য এই আওয়ামী লীগই জামায়াতের সাথে সভা-সমাবেশ করেছে।
১৯৯৬ সংবিধানে কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থার সংযোজন বিএনপি বিরোধী তাদের প্রায় ৩ বছরব্যাপী যৌথ আন্দোলনেরই ফসল ছিল। সে সময় জামায়াত কেয়ারটেকার আন্দোলনে বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান না নিলে আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় বার ক্ষমতায় আসতে পারতো না বলে অনেকে বিশ্বাস করেন।
এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে ৮ বছর এবং বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ৩ বছর ধরে যখন আওয়ামী লীগ জামায়াতের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একসাথে আন্দোলন করেছে তখন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের কেউই জামায়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনেনি। যেমন আনেনি স্বাধীনতা পরবর্তী তাদের প্রথম সরকারের আমলে ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত কিংবা দ্বিতীয় সরকারের আমলে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সাথে জামায়াতের অসংখ্য বৈঠক হয়েছে। এই সব বৈঠকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মরহুম আব্দুস সামাদ আজাদ, আবদুল জলিল, তোফায়েল আহমদ, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, আমীর হোসেন আমু এবং মোহাম্মদ নাসিম এবং জামায়াতের পক্ষ থেকে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা এবং এটিএম আজহারুল ইসলাম উপস্থিত থাকতেন।
১৯৯১ সালের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি কোন দলই একক শক্তিতে ক্ষমতায় যাবার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়নি। ঐ সময় জামায়াত ১৮টি আসন পেয়েছিল। এই অবস্থায় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আমীর হোসেন আমু এই মর্মে সরকার গঠনে জামায়াতের সাহায্য চেয়েছিল যে, যদি তারা অর্থাৎ জামায়াতের ১৮ জন এমপি আওয়ামী লীগকে সমর্থন করে তাহলে তারা সংরক্ষিত মহিলা আসনের কয়েকটি এমপি পদ ছাড়াও জামায়াতকে ২/৩টি মন্ত্রীত্বের পদ দিতে রাজি আছেন। জামায়াতের কাছে এই প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়নি। তারা বিনাশর্তে বিনা মন্ত্রীত্বে বিএনপিকে সরকার গঠনে সহযোগিতা করে।
ক্ষমতায় যাবার জন্য সহযোগিতা না পেয়ে এর পর আওয়ামী লীগ ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির মাধ্যমে জামায়াত বিরোধী প্রচারণা শুরু করে এবং গণআদালতের নামে নৈরাজ্যের সূচনা করে জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে ফাঁসি দেয়ার নাটক মঞ্চস্থ করে। কিন্তু পরবর্তীকালে বিএনপি বিরোধী আন্দোলনে এই জামায়াতের সাথেই তারা এক মঞ্চে বৈঠক সম্মেলন করেছে। পত্র-পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী এই বৈঠকগুলোতে অন্যান্যরা ছাড়াও তখন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তৎকালীন জামায়াত পার্লামেন্টারি পার্টির নেতা ও বর্তমান আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী আওয়ামী লীগ নেত্রী বেগম সাজেদা চৌধুরী ও সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত উপস্থিত থাকতেন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা যদি ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধ করে থাকেন তাহলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা তাদের সাথে ১২ বছর ধরে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন, সভা সমাবেশ ও সাংবাদিক সম্মেলন করলেন কিভাবে? তারা জামায়াতের সাথে কোয়ালিশনে গিয়ে সরকার গঠনের প্রস্তাবই বা দিলেন কিভাবে?
আবার এখন ৩৯ বছর পর এসে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধের শ্লোগান তুলে আরেকটা মানবতাবিরোধী আইনের অধীনে বিচারের নামে প্রহসন করে তাদের ফাঁসি দিতে চাচ্ছেন কেন?
জাতির কাছে এটা আজ বড় প্রশ্ন। এখানে দেয়া ছবিতে আন্দোলন সংগ্রামে জামায়াতের সাথে আওয়ামী লীগ সহ অন্যন্য দলের একাত্মতার কিছু নিদর্শন রয়েছে। !!!
প্রশ্নঃ তখন কি জামায়াত নেতারা অপরাধী ছিলেন? তখন যদি অপরাধী না হয়ে থাকেন ৩৯ বছর পর এসে অপরাধী হলেন কিভাবে?
লেখাটি সংগৃহীত
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ১২:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




