মাঝে মাঝে মনে হয় দেশের কথিত বিশিষ্ট নাগরিকদের মধ্যে জাফর ইকবাল স্যার একাই বেঁচে আছেন। বিগত কয়েক মাসে SSC এবং HSC পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তাঁকে ছাড়া আর কাউকেই খুব একটা কথা বলতে দেখা যায়নি। অথচ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার মান রক্ষায় দূর্নীতি ও যুদ্ধাপরাধ বিচার ইস্যু গুলোর মতই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষিত শ্রেনীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া থাকা উচিত ছিল। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত ছিল এটাকে ইস্যু করে আন্দোলন করা। তারা করেনি, কারণ তাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে মাথা ব্যথা নেই। তাদের মাথা ব্যথা ক্ষমতায় থাকা কিংবা ক্ষমতায় আসা নিয়ে।
দূর্ভাগ্যক্রমে শিক্ষা বিষয়ক বেসরকারী প্রতিষ্ঠান, এনজিও, অন্তর্জাতিক সংস্থা কেউই এটা নিয়ে কথা বলছেনা। অথচ এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীরা পড়াশুনা বাদ দিয়ে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের পেছনে ছুটবে। আর উত্তর খুঁজে নিয়ে কোন টাচস্ক্রিন মোবাইলে সেটা সরংক্ষন রেখে পরীক্ষার সময় হুবুহু উত্তর তুলে দিয়ে আসবে। কিছুদিন আগে সরকারী কোন এক কলেজে একাদশ শ্রেনীর ছাত্রদের প্রথম বর্ষের পরীক্ষায় এমন করতে শুনেছি। এর মানে এমনটা দাঁড়াচ্ছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়াটা একটা স্বাভাবিক ব্যপার মাত্র। বর্তমান সরকারের নিরুত্তাপ প্রতিক্রিয়া অনেকটা এমনই বোঝায়।
এই ব্যপারটি নিয়ে জাফর ইকবাল স্যার যেন একাই লড়ে যাচ্ছেন। একাধিক পত্রিকায় “স্যার কিছু একটা করেন” শিরনামে তার লেখা পেয়েছি। আর প্রথম আলো ব্লগে সম্মানিত দুই একজন ব্লগার লড়ছেন। ব্লগের বিশিষ্ট অনেক ব্লগারই এ নিয়ে কথা বলতে নারাজ। কারণ তারা তাদের দল নিয়ে একটা কথাও বলতে রাজি না। যদিও তারা নিজেদের নির্দলীয় বলে পরিচয় দেন। আমি বলি, এই ব্যপারে দলের নাম কেন আসবে। এটাতো আমাদের ভবিষৎ প্রজম্ম নিয়ে প্রশ্ন। শুধু সার্টিফিকেটধারীদের নিয়ে আমরা কী করব। আামাদের মত দেশে দশম শ্রেনী পর্যন্ত শীক্ষার্থীদের ফ্রী বই দেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে, খুব ভাল একটি সাফল্য আমরা পেয়েছি। কিন্তু কোন বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁসের পর বিনা পরিশ্রমে পাশ এবং এ প্লাস পাওয়াটা এর চাইতে বড় ব্যর্থতা।
সবশেষে দেশের শিক্ষাগুরুদের ও শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে অকুল আবেদন, আপনারা একটু এগিয়ে আসুন, ঘটনার সাথে জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করুন। তা হলে অতি সহজেই এই সমস্যার সমাধান পাওয়া যাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



