বাবা-মা বড়ই শখ করে নাম রেখেছিলেন - "তওহিদ মাহমুদ হোসেন"। ডাক নাম 'সাজু'।
যেদিন থেকে এই নাম লেখা আর বলা শুরু করলাম, অদ্ভুত সব অভিজ্ঞতা লাভ করতে লাগলাম।
প্রথমেই ইংরেজি স্পেলিং এবং প্রোন্যান্সিয়েসন।
Tauheed Mahmud Hussain (Shaju)
বাংলা করলে হয় তাওহিদ (তওহিদ নয়) মাহমুদ হুসাইন (হোসেন নয়)। নিজের নামেই দুই ভাষায় ভ্যাজাল। লোকের আর কি দোষ। নিজেকে মাঝে মাঝে হুসাইন মুহাম্মাদ এরশাদ মনে হতে লাগল।
এরপর অন্য বিপত্তি।
ভাল নাম বললে লোকে তিনবার এঁ...এঁ...এঁ... করে রিপিট করতে বলে। পরে সব শুনে টুনে নিচের মত করে যেকোন একটা লেখেঃ
- তহিদ
- তৌহিদ
- তোহিদ
- তৈহিদ ( বিশ্বাস করেন, সত্যি!)
- তুহিদ
- তাউহিদ
আমি প্রথম প্রথম গভীর প্রচেষ্টা দিয়ে লেখককে বোঝানোর চেষ্টা করতাম নামের বানান। বাংলাটাই। এরপর হাল ছেড়ে দিয়েছি। এখন কেউ নাম জিজ্ঞেস করলে জড়িয়ে-মড়িয়ে উচ্চারন করে বলিঃ যা ইচ্ছা লিখে নেন ভাই। আই ডোন্ট মাইন্ড। ইচ্ছে হলে কালাম লেখেন।
অনেকে আবার ভালবেসে নামের আগে 'মোহাম্মদ' জুড়ে দেয়। কেউ কেউ মাহমুদকে শুদ্ধ করে মোহাম্মাদ করে দেন নিজেই। আমি আদরের দান গ্রহন করি নির্বিবাদে।
তবে চরম হলো একবার বাসের টিকেট কিনতে যেয়ে। যাব খুলনা। নিভার পোস্টিং তখন ওখানে। গাবতলীতে কাউন্টারে প্রচন্ড ভীড় সেদিন।
আমি আর গাড়লের মত আমার পুরো নাম বললাম না। ভাবলাম, এবার ডাকনাম দিয়ে চট করে সারি। কাউন্টারে কথোপকথন হলো এরকমঃ
- "কই যাইবেন?"
- খুলনা।
- "নাম কন বাই।"
- সাজু।
- "কি? কি নাম কইলেন?"
- সাজু...সাজু...!
- "ও...বুজছি।"
উনি খসখস করে টিকেটে লিখলেন - "সাধু খাঁ"। গন্তব্য খুলনা।
তওহিদ মাহমুদ হোসেন সাজু সেদিন "সাধু খাঁ" হয়ে খুলনা গেল।
---------------------
সাজু/মে-১৭/নিকেতন
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০১৭ রাত ১:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



