টেস্ট দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে নবীন দল। মনে রাখতে হবে, অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড ছাড়া প্রতিটা টেস্ট প্লেইং দেশই প্রথম দুই যুগ অত্যন্ত কঠিন সময় পার করেছে, সেই তুলনায় বাংলাদেশ মাত্র ১৫ বছরের মধ্যেই নিজেদের অনেকটাই গুছিয়ে এনেছে। অন্যান্য টেস্ট প্লেইং দেশগুলো জন্য কাজটা একটু সহজ ছিলো এই অর্থে যে, তখন ক্রিকেট টা খেলা হিসেবেই চলতো, এবং অন্যান্য টেস্ট দেশগুলো তাদের খেলার মাধ্যমে সাহায্য করেছে। কিন্তু গত দুই/তিন বছর যাবত নতুন দেশগুলোর জন্য ক্রিকেট খেলাটাই কঠিন করে দিচ্ছে ভারত এবং তাদের সাথে সাক্ষীগোপাল হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড কে রেখেছে, যারা খেলাটিকে একটা নিচুমানের ব্যাবসায় পরিণত করবার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। সেই সাথে ক্রিকেটের আইন কানুন এতো বেশী বদলে ফেলা হচ্ছে, যে সত্যিকারের খেলা আর প্রতিযোগিতা এখান থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ- পাওয়ার প্লে এবং ফিল্ডিং রেস্ট্রিকশন নিয়ে গত পাচ বছরে এতোবার আইন বদলানো হয়েছে, যেখানে মূল বিবেচ্য বিষয় ছিলো, কীভাবে ইন্ডিয়ান ব্যাটসম্যানরা বেশী রান করতে পারে, ওই উইন্ডো খুলে দেয়া। ফলস্বরূপ দেখবেন ওয়ানডের প্রথম পাচজন দুই শ রান ই করেছে ভারতীয় খেলোয়াড়, এবং তাদের মধ্যে সবগুলোই ইন্ডিয়ার পিচে। সেই সাথে যেহেতু ঐতিহাসিকভাবেই ভারতের দলে খুব বেশী ভালো বোলার আসে নাই, সেহেতু ওয়ানডের নিয়ম কানুনে বোলারদের স্রেফ খুন করা হচ্ছে। একটা ভালো ডেলিভারী কিংবা ভালো স্পেলের মর্যাদা আগে অনেক বেশী থাকলেও এখনকার আইনকানুনে এই একটা ভালো বোলিং করা ভয়ঙ্কর কঠিন কাজে পরিণত হয়েছে। সেই সাথে বিশ্বব্যাপী জুয়ার আসর বসাতে মরিয়া ভারত ক্রমাগত খেলার ফলাফলকে প্রভাব বিস্তারের জন্য আম্পায়ার/ অফিসিয়ালদের ও হাত করে ফেলেছে। আজ থেকে দশ বছর আগেও প্রযুক্তির স্বল্পতার কারণেও কোন আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্ত ভুল হিসেবেই সবাই মেনে নিতো, এবং আম্পায়াররাও কোন ভুল নিজেরাই অকাতরে স্বীকার করে নিতেন। কিন্তু এখন প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যাবহারের যুগে আম্পায়ারদের ভুল গুলো ভুল বলে মানা অসম্ভবই বলা যায়। সুযোগ থাকবার পরও ভুল ডিসিশনগুলো আম্পায়ারের অজান্তে ভুল বলে মানার কোন প্রশ্নই ওঠেনা। বরং মোটামুটি নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়, আম্পায়ারেরা ইচ্ছা করেই এবং জেনেশুনেই খেলা প্রভাবিত করতে ভুল সিদ্ধান্ত দিচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশ ভারতের ম্যাচেই বোঝা যায়, যে চারটি ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে এগুলোর কোনটিই আম্পায়ারদের অনিচ্ছাকৃত ভুল নয়। আধুনিক যুগের খেলায় এ জাতীয় প্রতিটা সিদ্ধান্তই আম্পায়রেরা পুঙ্খানু পুঙ্খভাবে বিশ্লেষন করেই দেয়, সেখানে থার্ড আম্পয়ারের ধার না ধরেই একটি ফুলটসকে নো ডেকে দেয়া এবং একটি ছয়কে তাড়াহুড়া করে আউট দিয়ে দেয়া (অনেক খেলায়, দর্শকেদর ধরা একটি ক্যাচের দৃশ্যও ওর থেকে বেশীবার টিভিতে রিপ্লে দেখানো হয়) । ডিআরএস কারসাজীতে এলবি ডব্লিও ঘটনার কথা নাই বলি, শুধু এটুকু বলি, যারা কম্পিউটারে রিপ্লাইটা দেখতে পারেন, তারা বল পিচকরার দৃশ্যটা স্টিল করে রুলার দিয়ে দেখলেই বুঝতে পারবেন কী ঘটেছিলো। আর নাসিরের ক্যাচের দৃশ্যটা কেউ দেখে বুঝলে একটু আমাকে বইলেন। নাসিরেরর ক্যাচ ধরার দৃশ্যটা বোধহয় ১৯৮৫ সালের ক্যামেরা দিয়ে তোলা হয়েছিলো, যেটার রিপ্লাইও তার চেয়েও ঘোলা, এবং একবারের বেশী দেখানোর প্রয়োজন মনে করেনাই টিভি কর্তৃপক্ষ। সবচেয়ে বড় কথা হলো এতো সব পরিস্কার ভুলের পরও আম্পয়ারদের মধ্যে বিন্দুমাত্র অনুশোচনা কাজ করে নাই বরং আইসিসি প্রসিডেন্টের বিরুদ্ধে মামলা করাবার চিন্তাও তারা করছেন। কেননা তারা জানেন তারা আসলে ভুল করেন নাই, তারা ইচ্ছা করে এবং জেনেশুনেই অন্যায় করেছেন। মোদ্দা কথা হলো এই যে, খেলাটাকে যে দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাতে করে তিন জমিদার এবং আইসিসির বিদ্যমান কাঠামো ভেঙে র্যাঙ্কিংয়ে উন্নতি করাটা কতটা কঠিন তা বোঝা যাচ্ছে । ক্রিকেটের এই ক্রান্তিকালীন সময়ে ক্রিকেট টা ব্যাবসা থেকে খেলায় পরিণত হওয়ার আগ পর্যন্ত সাপোর্টারদের সঠিক সমর্থন দিয়ে যিতে হবে।
আলোচিত ব্লগ
চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....
চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....
বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন
তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?


“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন
১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।