– “এইযে ভাই! গায়ে ঘামের ফোঁটা পরছে…”
– “হুমমম“
– “কি হল? কথাটা কানে যাচ্ছে না?”
– “হুমমম… জানি….”
– “আচ্ছা ঠ্যাঁটা লোক তো ? জেনে শুনে….”
– “ওমা! কেন জানব না?”
একে অসহ্য গরম, তাতে আবার বাসের জানলার ধারে বসে থাকা ওভার সাইজড ভদ্রমহিলা গলদঘর্ম হয়েও, ভোঁস ভোঁস করে ঘুমতে ঘুমতে ঝিলিককে সিটের একেবারে কিনারায় এনে ফেলেছে। তার ওপর আবার কাটা ঘায়ে নুনের ছিটের চিড়বিড়ে জ্বলুনির মত সামনের হ্যান্ডেল দু’হাতে আঁকড়ে ধরে দাঁড়িয়ে থাকা নির্লজ্জ লোকটার অবিরাম ফোঁটায় ফোঁটায় ঘামবর্ষণ, তাও আবার আমেরিকা প্রবাসী ছোটখালুর উপহার দেওয়া মিনি স্কার্টটার ওপর। অসহ্য বিরক্তিটা ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দিতেই ঝাঁঝিয়ে উঠল ঝিলিক-
– “ছ্যাগলামি হচ্ছে? তখন থেকে বলছি আপনার চিবুক বেয়ে আমার স্কার্টে ঘামের ফোঁটা পরছে…”
– “ইসসস.. এইভাবে আমার মুখের দিকে তাকাবেন না! আমার লজ্জা করছে…”
রাজার কুৎসিত মোটা দাগের রসিকতায় ঝিলিকের জ্বলুনিটা যেন এক লাফে বেড়ে গেল বহুগুণ। একেবারে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে ঝিলিকের ধমক-
– “আপনার লজ্জা করে না? একে গায়ে ঘাম ফেলছেন তার ওপর আবার নির্লজ্জের মত ছ্যাগলামি করছেন?”
– “আপনি কি ভেবেছিলেন? এই গরমে বাসে দাঁড়িয়ে ঘাম নয়, আমার চিবুক বেয়ে মধু ঝরবে আর আপনি চেটে চেটে খাবেন?”
রাজার অসভ্যতার আর কোনও জবাব খুঁজে না পেয়ে বেশ উচ্চস্বরে “জানোয়ার” বলে জানালার দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে বসে বাইরের গরমে ভাজাভাজা হওয়া পথচারী দেখতে দেখতেই ঝিলিকের কানে এলো শেয়ালের মত খ্যাঁক খ্যাঁক করে হাসি সহ সেই অসভ্য জংলী লোকটার গলা। যেন তাকে উদ্দেশ্য করেই বলছে-
– “এই জানোয়ারটাকে আপনার সিটে বসতে দিন আর সামনে দাঁড়িয়ে যত খুশি ঘর্মপাত করুন, কিচ্ছু বলব না।”
ঘাড় ঘুরিয়ে রাজার দিকে এক ঝলক অগ্নিদৃষ্টি বর্ষণ করে মোবাইল ফোনের হেডফোনটা কানে গুঁজে চোখ বন্ধ করল ঝিলিক। ওর কাঁধ পর্যন্ত ছাঁটা চুলের যে সরু গোছাটা হেয়ার ব্যান্ডের শাসন অগ্রাহ্য করে কানের পাশে ঝুলছে, সেটা হাত দিয়ে সরাতেই কপালে জমে থাকা ঘাম গড়িয়ে নামতে লাগল গাল পেরিয়ে চিবুকের দিকে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১১:০১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




