মনীষী অাহমদ ছফার সঙ্গে
লেখক অাহমদ ছফার লেখা পড়েছি, যখন অামি কলেজে, ঝিনেদা কে.সি. কলেজের ইন্টারের ছাত্র। সেই সময়েই পড়েছিলাম অাহমদ ছফার প্রথম উপন্যাস, 'সূর্য তুমি সাথী'। পড়লাম ছফার অনুবাদে 'তানিয়া'_ সেই রাশান বালিকার সাহসী অালেখ্য। তখনই সংগ্রহ করেছিলাম ছফা অনূদিত গ্যেটের 'ফাউস্ট' প্রথম খণ্ড। 'ফাউস্ট' পাঠ করে তখন বোঝার কথা নয় অামার। পরে ঝিনেদা ছেড়ে যখন খুলনা অার্ট কলেজে ভর্তি হই, ছফাকে নড়াইলে দেখেছি, মাছিমদিয়ায়, শিল্পী সুলতানের বাড়িতে। খুলনা অার্ট কলেজ থেকে প্রাক-বিএফএ সার্টিফিকেট কোর্স, যেটার পরীক্ষা দিতে হতো তখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে, যেহেতু খুলনায় তখনও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা পায়নি, তবে গল্লামারীতে পুরনো রেডিও সেন্টারে অবস্থিত খুলনা অার্ট কলেজ ক্যাম্পাসই পরে হয়ে গেল খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।
তো খুলনা থেকে মাইগ্রেট করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে চলে এলাম বিএফএ ও এমএফএ করার উদ্দেশ্যে। তখন, ঢাকায় বসবাসের প্রথম দিকেই অামাদের চারুকলার অগ্রজ শাহীন ভাই (অারিফ শাহীন) এক সন্ধ্যায় অামাকে নিয়ে গেলেন বাংলামোটরে, অাহমদ ছফার বাসায়। ততদিনে পড়েছি 'বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস' 'যদ্যপি অামার গুরু' 'পুষ্প, বৃক্ষ এবং বিহঙ্গপুরাণ' 'বাঙালি মুলমানের মন' বা ছফার অারো অনেক রচনা। প্রথম পরিচয়ের পর, ছফা বললেন, বাড়ি কোথায় তোমার?
ঝিনাইদহ। যশোর।
ছফা বললেন, ঢাকায় অাসতে কতক্ষণ লাগে?
বললাম, কামারখালি ফেরিঘাট ও দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে সময় যায়, এই অাট ঘণ্টা লাগে হয়তো।
ছফা বললেন, দেশভাগের অাগে, যশোর-ঝিনেদার নিকটবর্তী রাজধানী কোলকাতায় যেতে কতক্ষণ লাগত তোমাদের?
বললাম, দুই-অাড়াই ঘণ্টা।
তাহলে '৪৭ এর পর নতুন রাজধানী ঢাকায় সঙ্গে সংযোগে একটু বেশিই পিছিয়ে পড়ল তোমাদের অঞ্চল, ভেবেছ?
চাটগাঁর সন্তান অাহমদ ছফার সঙ্গে এই ছিল অামার প্রথম দেখার গপ্পো। গল্প-কবিতা-উপন্যাস বা বাংলাদেশ নিয়ে দূরদৃষ্টির মনীষী অাহমদ ছফার সঙ্গে বারো-তেরো বছর অনেক মিশেছি। শিখেছি। মাত্র ৫৭ বছর বয়সে ছফা প্রয়াত হলেন। ছফা অামার কাছে মাঠের শিয়রে দাঁড়ানো এক প্রাচীন বটগাছ। ছফার কথাগুলোই ঝুরি হয়ে নেমে গেছে মাটিতে মাটিতে...

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

