লালকালো কবিতা
লালকে কি কালো বলা যায়?
এত হত্যা, এত রক্ত অামি কীভাবে ধরতে পারি
কালো কালো অক্ষরে ছাপানো বাংলা কবিতায়?
কালো কালো শব্দে অাজ কীভাবে বাক্য গড়ে ওঠে--
থাকি সেই অসাধ্য-সংকটে!
একদিন, এই দেশে কত নদী ছিল, সেই নদী কই?
একদিন, এই দেশে কত মাঠ ছিল, সেই মাঠ কই?
ধানের ক্ষেতে রৌদ্র-ছায়ার লুকোচুরির গান কই?
তিতির ও পানকৌড়ি ছিল, পাখি কই পাখি কই?
যদি পড়ি অামাদের কবিতার পুরনো বই_
দেখি, পালতোলা কত নৌকা বয়ে যাচ্ছে
বইয়ের মধ্যে, কালো কালো অক্ষরে
ছিপছিপে কিশোরীর ছন্দ, ঘুঙুর
ছাপা হয়ে অাছে
ব্যথা-ভালোবাসা, পুষ্পঘ্রাণ ছাপা হয়ে অাছে
এভাবেই, কবিতার মধ্যে লুকিয়ে কবির স্বপ্ন বাঁচে
কি লেখা হবে কাগজে মাঠহীন, নদীহীন বসন্তহীনে
রক্ত দিয়ে কবিতাকে ছাপিয়ে দাও অাজিকার দিনে
পাঠকও পড়তে পড়তে উঠুক নিজেকে চিনে_
কেন সে কবিতা পড়তে চায়!
কী লাভ তার, অাহত হয়ে, ব্যাধের শিকারে!
হাহাকার অাকার পাচ্ছে, দেখতে দেখতে
কেন যে পরেরদিন অারেকটু হাহাকার বাড়ে!
রক্তের কবিতা লিখিত হচ্ছে কালো কালো অক্ষরে
১৫ জুলাই, ২০১৬. প্রথম অালো সাময়িকী

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

