somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

লাল মিয়ার সিরিয়াস পোস্ট :: পলিটিক্যাল ট্র্যানিজম

২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৭:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্যান যে এইখানে পইড়া আছি মাঝে মাঝে নিজেরে জিগাই। মাঠ ছাইড়া দিলে রাজাকাররা গলা উচা কইরা কথা কয়। ওদের মুখ হা করা দেখলেই আমার রেচনতন্ত্র সক্রিয় হয়, কথা শুরু করলে পরিপাকতন্ত্র। মনে হয় এক্কেরে কানায় কানায় ভইরা দিয়া আসি। ভিজিট না করলেই তাগো চ্যাদারা দেখা লাগে না। কিন্তু বাংলা ব্লগ স্ফিয়ারের বৃহত্তম প্লাটফর্ম রাজাকার আর তাগো গৃহপালিত চতুস্পদের একচ্ছত্র বিচরণক্ষেত্র হইবো এইটা মানতে মন সরে না। কথা হইল একজন তুচ্ছ লাল মিয়ার মন সরাসরিতে কতটা কি আসে যায়? একসময় ব্লগে অশান্তি লাগলে, ঝগড়া লাগলে চুটকি লেইখা হাওয়া হালকা করতাম। সেই অশান্তি বাড়তে বাড়তে একসময় দেখি জায়গাটা সাইক্লপসের খাঁচা হইয়া গেছেগা। ইউলিসিস গং সেই ক্ষেত্রে ইটা মারতে বাধ্য। সেই ইটা মারামারি পরিস্থিতির একটা বড় শোডাউন হইছে গত ৭ জানুয়ারী। চ্যালেঞ্জ দিছিলো নিপুপাওয়ারফুল। পরে তার লগে যোগ দিছে ছানারাম। তাগো ঠেকাইতে ফাইট দিছে সুস্থ ব্লগাররা। আমি দূর্ভাগ্যবশত সেই ফাইট মিস করছি। যখন লগ ইন করলাম ততক্ষণে সাইক্লপস লোটিশ লটকাইছে। তারপর বিরতি, কেউ কেউ আনব্যান ইত্যাদি। আইজকা বাড়ি ফিরতে দেরী হইছে। লগইন কইরা দেখলাম পিয়াল ভাই এর পুরান পোস্ট সব হাওয়া। প্রথম চাইর পাচ পেইজ ভইরা রীতিমতো লাদি ছাইকা পোস্ট দেখা লাগে। এতদিন পরে আইজকা কেমন জানি ক্লান্ত লাগতাছে। একেকটা গ্যাঞ্জাম লাগবো আর ক্লকারহগ সাহেবের হিটের ডেগচিতে বলগ আইবো, এই বোম্পাট আর কয়দিন ভাললাগে? আমার কি লাভ? আমি হুদা কামে চিপড়াইয়া বাইর করা কয়েক ফোটা সময় ক্যান দিমু হ্যার পকেট ভরতে? গত কয়েক দশকে সামরিক-বেসামরিক সরকারগুলা রাজাকার পালছে, এই পরদেশীও তাই করতাছে। তারে আলাদা কইরা ধরার কি আছে? ধরার একটা যুক্তি ছিল, এতদিন গ্রেটার অর্থে প্রিন্ট মিডিয়া বা লেখালেখির জায়গাগুলা থিকা আলবাঁদররা মোটামুটি বিতাড়িত ছিল। ওপেন প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন কায়দায়, কখনো নরম কখনো গরম কখনো দ্যাহেন ভাই দ্যাহেন এই পিচাইশগুলা আমারে মারে এইসব বয় উঠাইয়া নিজেগো জায়গা বানানোর চেষ্টা কইরা যাইতাছে। ২০০৬ সালে কৌশিকের আগুনের পরশমনি নামের সাক্ষাতকারের অনুষ্ঠাণ চলার সময় কথাটা একটুক্ষণের জন্য ফুচকি মাইরা গেছিল। ঐসময় পাত্তা দেই নাই। পরে টানা একবছর সতর্ক পর্যবেক্ষণের পরে ওদের পরিকল্পনা সম্পর্কে নিশ্চিত হইলাম। ব্লগ ছাড়ি নাই এতোদিন,কারণ এইটা খোলা জায়গা যে কোন লোক যে কোন ফুটা দিয়া সান্দাইতে পারে। সান্দাইয়া দেখবো যে বাহ এইখানে কি সুন্দর বরাহনন্দনদের সাথে উত্তরাধুণিক সহাবস্থান...এই সহাবস্থানে আমার আর লগে আমার মতো আরো অনেকের আপত্তি। এই অনেকে কথাটার আড়ালে যারা আছে তারা যে সংখ্যায় কম না, খুব কাঁচা ব্যবসায়ী না হইলে সাইক্লপস বয়াতী ও তার দলের এতদিনে বুঝার কথা। বুঝে নাই। এখন এই না বুঝারে কি অর্থে অনুবাদ করুম? এসপার? ওসপার? নাকি মাঝগাঙ্গে খাড়াইয়া আছে নেশার ঘোরে, পিনিক ছুটতে ছুটতে কুমিরে ঢেকুর তুলবো?


অনেকক্ষণ মনখারাপ কইরা বইসা ছিলাম। রাজনীতি করার রাস্তা বানাইয়া দিছে অবৈধ সামরিক সরকারগুলা। পরে সাপোর্ট নিয়া, কোয়ালিশন কইরা বিচি খাউজাইছে ভোটের রাজনীতিকরা। এখন প্রিন্ট মিডিয়াতে, কমিউনিটি ওয়েব প্লাটফর্মে জায়গা কইরা দিতাছে কারা? এইখানে তো ওদের জায়গা ছিল না। ওদের মুখ হা করার সুযোগ কারা দিতাছে?


দিতাছে সুশীল বইলা পরিচিত কিছু গুডবয়। তারা "সবার কথাই শুনতে হইবো"...."গালি দেওয়া খারাপ" ইত্যাদি নির্বিজ কথাবার্তা দিয়া বরাহগুলার বাহবা লইয়া নিজেরা "পজিশন" পাকা করতাছেন লগে এতদিন ধইরা...এমনকি ৫ বছর জোট সরকারের ক্ষমতায় থাকার সময় পর্যন্ত প্রিন্ট মিডিয়াতে বিতাড়িত থাকা চিহ্নিত ফ্যাসিস্ট চক্ররে সাংস্কৃতিক পুনর্বাসনের জায়গা কইরা দিতেছেন।


ফ্যাসিস্টগো ইন্টেলেকচুয়াল স্ফিয়ারে প্রতিষ্ঠিত হওনের এই প্রক্রিয়াটার নাম কি হইতে পারে ভাবতেছিলাম। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে আসলাম পলিটিক্যাল ট্র্যানিজম ছাড়া এইটার আর কোন নামই দেওন যায় না।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৭:৩৯
২৬টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনঃ কেন আমি বিএনপিকে ভোট দিবো?

লিখেছেন ভুয়া মফিজ, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:২৯



আসছে ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকারপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই নির্বাচন হবে বিতর্কমুক্ত এবং উৎসবমুখর পরিবেশে। আমার অবশ্য এই দুই ব্যপারেই দ্বিমত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামিলীগ আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫



চাঁদগাজী বলেছিলেন,
"যেসব মানুষের ভাবনায় লজিক ও এনালাইটিক্যাল জ্ঞান না থাকে, তারা চারিপাশের বিশ্বকে সঠিকভাবে বুঝতে পারে না, কোন বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। সমাজে তাদের অবদান... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘বাঙালি মুসলমানের মন’ - আবারও পড়লাম!

লিখেছেন জাহিদ অনিক, ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আহমদ ছফা'র ‘বাঙালি মুসলমানের মন’ বইটা আরাম করে পড়ার মতো না। এটা এমন এক আয়না, যেটা সামনে ধরলে মুখ সুন্দর দেখাবে- এমন আশা নিয়ে গেলে হতাশ হবেন। ছফা এখানে প্রশংসা... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাতানো নির্বাচনে বিএনপিকে কিভাবে ক্ষমতায় বসানো হল-(১) অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট শাসনের পর চাওয়া ছিল একটি সুষ্ঠ নির্বাচন।

লিখেছেন তানভির জুমার, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:২১

১/ ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের ভিতরে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। অর্থাৎ মানুষকে ফোন বাসায় রেখে আসতে হবে। কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার পক্ষপাতিত্ব করলে কেউ রেকর্ডও করতে পারবে না। কেন্দ্রে কোন অনিয়ম, জালভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলেজ ও ভার্সিটির তরুণরা কেন ধর্মের দিকে ঝুঁকছে? করনীয় পথ নকশাটাই বা কী?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৬


ধর্মের দিকে ঝোঁকার মানচিত্র

অচেনা পথে হাঁটে আজ তরুণের দল
পরিচয়ের কুয়াশায় ঢেকে গেছে কাল
শিক্ষা, কর্ম, সম্পর্ক সবই আজ প্রশ্নবিদ্ধ
কোথায় জীবনের মানে মন দ্বিধাবদ্ধ।

এই দোলাচলে ধর্ম দেয় দৃঢ় পরিচয়
উদ্দেশ্য, শৃঙ্খলা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×