
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট্ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যাওয়ার ২৫ দিনের মাথায় জামিন পেলেও একের পর এক আইনি জটিলতায় আটকে আছে বিএনপি চেয়ারপারর্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে সাড়ে ছয় মাস। ওনার বিরুদ্ধে করা ৩৬টি মামলার মধ্যে ৩৪টিতে তিনি জামিনে রয়েছেন, বাকি কুমিল্লার দু’টি মামলা (নাশকতা ও হত্যার অভিযোগে করা বাকি দু’টি মামলায় ) নিম্ন আদালতে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। যার একটি আগামীকাল ৩০ আগস্ট আদেশের জন্য কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ কে এম সামছুল আলম ধার্য্য করেন অন্যটি নথি পাওয়া সাপেক্ষে সেপ্টম্বরের ০৫ তারিখ আদেশের জন্য রয়েছে কুমিল্লাতে। ওখানে জামিন না হলে জামিনের জন্য উচ্চতর আদালতে আসা হবে।
এখানে উল্লেখ্য যে, কুমিল্লার হত্যা মামলাটিতে হাইকোর্টে বেগম খালেদা জিয়া জামিন পেয়েছিলেন; কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টকে শুনানি করে রুল নিষ্পত্তি করার আদেশ দেন। কিন্তু বিএনপির আইনজীবীরা ওই শুনানিতে অংশ নেননি। কারণ নিম্ন আদালতে এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া শেষ করেই উচ্চ আদালতে আসতে হবে। উচ্চ আদালতও নিম্ন আদালতকে এই দু’টি মামলা একটি যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে শুনানি করতে বলেছেন। ( সংক্ষেপে ঘটনা হলো-
ওই মামলায় চলতি বছরের গত ২৩ এপ্রিল কুমিল্লার বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জামিন চেয়ে আবেদন দাখিল করেন তার পক্ষের আইনজীবীরা। ট্রাইব্যুনাল গত ৭ জুন ওই আবেদনের ওপর শুনানির জন্য দিন ধার্য রাখেন।এ অবস্থায় ওই ট্রাইব্যুনালে শুনানি না করেই আইনজীবীরা সরাসরি হাইকোর্টে জামিন চান। গত ২৮ মে হাইকোর্ট এই মামলায় ৬ মাসের জামিন আদেশ দেয়। রাষ্ট্রপক্ষ ওই জামিন স্থগিত চেয়ে আবেদন করে। ওই আবেদন নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ গত ২৬ জুন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন বহাল রাখার আদেশ দেয়। একইসঙ্গে ট্রাইব্যুনালে শুনানি ও নিষ্পত্তি না করে সরাসরি হাইকোর্টে জামিন চাওয়ার আবেদনটি আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে কিনা তার ওপর শুনানির জন্য হাইকোর্টকে নির্দেশনা দেয়া হয়। ওই নির্দেশনার পর হাইকোর্টে আবেদনের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট গত ১৩ আগস্ট আবেদনটি নিষ্পত্তি করতে নিম্ন আদালতকে নির্দেশ দেয়)।
উল্লেখ্য, বিএনপি চেয়ারপাসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে দুর্নীতি,ইতিহাস বিকৃতি, ভুয়া জন্মদিন, হত্যা, নাশকতা, মানহানিসহ নানা অভিযোগে ৩৬টি মামলার মধ্যে গ্যাটকো, নাইকো, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি চারটি মামলা দুর্নীতির এবং এ চারটি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে, বাকি মামলা বর্তমান সরকারের আমলে করা হয় যার মধ্যে ১৯টি মামলা বিচারাধীন এবং তদন্তাধীন রয়েছে আরও ১২টি মামলা।
২০১৪ সালের পর বিভিন্ন সময়ে পুলিশ, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও আইনজীবীরা ৩০টি মামলা করেন। এর মধ্যে ২৫টি মামলা হয়েছে ঢাকায়। এছাড়া কুমিল্লায় তিনটি এবং পঞ্চগড় ও নড়াইলে একটি করে মামলা রয়েছে।
৩৬ টি মামলার মধ্যে স্থান সংকুলান না হওয়া ও নিরাপত্তার কারণে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ২-এ বিচারাধীন শাহবাগ থানার একটি মামলা [মামলা নং- ৫৩(২)০৮], তেজগাঁও থানার ২০(১২)০৭ নম্বর, ৫(৯)০৭ নম্বর, ১৫(০৮)১১ নম্বর ও দুদকের করা রমনা থানার ৮(৭)০৮ , বিশেষ ক্ষমতা আইনে করা দারুসসালাম থানার ৬২(১)১৫ নম্বর, ৩(৩)১৫ নম্বর, ৮(২)১৫, ৫(২)১৫, ৬(২)১৫, ৩১(২)১৫, ১২(২)১৫ ও ২৯(২)১৫, যাত্রাবাড়ী থানায় করা বিশেষ মামলা ৫৯(১)১৫ এবং মহানগর হাকিম আদালতে (আদালত-৭) বিচারাধীন পিটিশন মামলা ১০৯৬/১৬ ও ১১০/১৫, জিয়া অরফানেজ,গ্যাটকো, নাইকো, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি চারটি বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিশেষ এজলাসে স্থানান্তর করা হয়েছে।
জানা থাকা ভালো, খালেদা জিয়া এ নিয়ে পাঁচবার কারাবন্দী হয়েছেন। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হিসেবে দলে যোগ দেবার পর এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ১৯৮৩ সালের ২৮ নভেম্বর গ্রেফতার হন। এরপর ১৯৮৪ সালের ৩ মে, ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর গ্রেফতার হন। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর ৩ তারিখে দুর্নীতির অভিযোগে পুত্রসহ গ্রেফতার হন। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তিনি হাইকোর্টের নির্দেশে মুক্তিলাভ করেন। সর্বশেষ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে গত ৮ ফেব্রুয়ারি জেলে রয়েছেন।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১১:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




