somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মেম্বার-চেয়ারম্যানরা চোর আর আমরা সাধু!

০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

করোনার উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যেও প্রতিদিন বাড়িতে সাহায্যপ্রার্থী মানুষজন আসে। বিশেষ করে মহিলারা। চেষ্টা করি তাদের সাথে আলাপ করে নিতে। সম্ভব হলে স্ব-স্ব স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে তাদের আবদার শেয়ার করি সাহায্য প্রার্থীর সামনেই। একদিন দেখি আমার বাড়ি থেকে দশ মাইল দূরেরও এক মহিলা সাহায্যের জন্য আসছে রমজান মাসে। মেম্বার- চেয়ারম্যানদের কথা বলাতেই মহিলাটি আর মুখের সংযম রক্ষা করতে পারলেন না।

ঠিক পরের দিনও এক বয়স্ক ভদ্র মহিলা এসেছেন। আমি তাকে পূর্ব থেকেই চিনতাম। আবার একই কাহিনী। মেম্বার- চেয়ারম্যানের কথা বলতেই তিনি সংযম হারিয়ে ফেললেন। অভিযোগ করছেন গরীবের হক মেরে খাওয়ার। আমি বললাম, মেম্বার- চেয়ারম্যান সাহেবদেরকে বকা দিচ্ছেন কেন, আপনার পাশের বাড়ির হাজী সাহেব আর আপনার খালতো বোনের ছেলে মাস্টার সাহেবও তাহলে গরীবের হক মারার সাথে জড়িত । উনি মন খারাপ করে কথা না বাড়িয়ে মা'র দেওয়া সাহায্য নিয়ে চলে গেলেন।

মা আমাকে বকা দিলেন। বললেন, বেশি কথা বলছ। স্বাভাবিকভাবেই মেম্বার- চেয়ারম্যান এর সাথে হাজী সাহেব আর মাষ্টার সাহেবকে জড়ানোতে ওনাদের খারাপ লাগছে। যে কারোরই লাগার কথা।
কিন্তু আইন কি বলে? বিচার হলে শুধু চোর নয় সহযোগিদেরও হতে হবে। অভিযোগ ওঠলে শুধু মেম্বার-চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে কেন, ইচ্ছায় হোক কিংবা অনিচ্ছায় হোক তাদের কাজের সহিত সম্পৃক্ত দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা বাদ যায় কেন!

বিষয়টি আরো সহজ করে বলি, আমরা সাধারণত ত্রাণ সহ সরকারি সহায়তার বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার নয়ছয় হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে আত্মসাৎ এর অভিযোগ করে থাকি। অথচ, দেশের প্রতিটা ইউনিয়নে "মানবিক সহায়তা কমিটি" নামে একটা বডি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সভাপতি, সদস্য হিসেবে ওয়ার্ড সমূহের মেম্বারগণ এবং ১৭ জন বিশিষ্ট ক্যাটাগরির ব্যক্তিবর্গ ( শিক্ষক-১ জন, মুক্তিযোদ্ধা-১ জন, ইমাম/যাজক/ পুরোহিত -২জন, সমাজের বিশিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তি -২ জন, এনজিও প্রতিনিধি ৩ জন, কৃষক/ মৎস্যজীবী -২ জন, ১ জন করে আনছার ও ভিডিপি প্রতিনিধি, ইউ. পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, রেড ক্রিসেন্ট প্রতিনিধি, সিপিপি প্রতিনিধি, দুঃস্থ মহিলা এবং ইউ. পরিষদ সচিব) সহ এ কমিটি গঠিত হয়।

এবং সরকার নিয়মিত/অনিয়মিতভাবে (কিছু নিয়মিত স্বল্প পরিসরে, কিছু জরুরি পরিস্থিতিতে বৃহৎ পরিসরে) দুঃস্থ, হতদরিদ্র, কায়িক শ্রমের উপর নির্ভরশীল কর্মহীন, সাময়িক সংকটে পতিত (Lean period) বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত শ্রমজীবী মানুষকে এবং
জরুরি ভিত্তিতে ঘোষিত যে কোন প্রকার মানবিক সহায়তা প্যাকেজ প্রদান করে। যার মধ্যে ভিজিএফ (খাদ্য সহায়তা) , জিআর ( নগদ অর্থ সহায়তা) , জিআর (টেউটিন সহায়তা) , জিআর (শীতবস্ত্র সহায়তা), জিআর ( গৃহ বাবদ নগদ মজুরী সহায়তা ) অন্যতম। আর এ সকল সহায়তার নিমিত্তেই " ইউনিয়ন মানবিক সহায়তা কমিটি"।

এলাকার কারা সাহায্য পাওয়ার যোগ্য সে তালিকা প্রণয়ন,যাচাই-বাচাই সহ মানবিক সহায়তা বাস্তবায়নে এই কমিটির মাধ্যমে করাই হচ্ছে বিধান। অর্থাৎ মানবিক সহায়তা কমিটির সদস্যরা ওতপ্রোতভাবে বিষয়টির সাথে সম্পৃক্ত। তাহলে কোন অনিয়ম হলে তাহলে তারা কেন জবাবদিহিতার উর্ধ্বে থাকবে!
এমন কয়েকজনকে আমি জিঞ্জাসা করলে কেউ কেউ বলে, আমাদের নিকট থেকে শুধু স্বাক্ষর নিয়ে যায় কাজ শেষে!, সিস্টেমে নিজের মতো করে অধিকাংশ সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়ে মিটিংয়ের কোরাম করে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়! এটা কোন যৌক্তিক কথা? তাহলে আপনারা কি দায়িত্বে থেকেও দায় এড়াতে পারেন?। মেম্বার- চেয়ারম্যান সাহেবরাই শুধু চোর হয়ে যাবেন আর আমরা সাধু থেকে যাবো!

আসুন শুধুমাত্র কাউকে একচেটিয়া দোষারোপ না করে নিজের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে নিশ্চিতের পাশাপাশি তথ্য প্রবাহের মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করি। প্রাতিষ্ঠানিক বডিগুলোকে জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আনতে ভূমিকা রাখি। আমার/আপনার কর এ প্রদত্ত সরকারি সহায়তা যথাযথ সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকরণে সচেষ্ট হই। সিস্টেম ঠিক হলে দুর্নীতি রোধ ও সেবার সুষ্ঠু বন্টন সয়ংক্রিয়ভাবেই সম্ভব।

** এম টি উল্যাহ পেশায় একজন আইনজীবী ও কথাসাহিত্যিক।
[email protected]
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ১:০৯
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×