
বারের ক্ষমতাবান সাবেক এক সভাপতি বিশাল জুনিয়র বহর নিয়ে হায়ারে মামলা শুনানি করে যাচ্ছেন আর বিচারক মহোদয় উনাকে লিগ্যাল পয়েন্টে শুনানি করার জন্য অনুরোধ করছেন৷ পাশে থাকা জুনিয়র ইতোমধ্যে এও বুঝাতে চেষ্টা করে যে, সিনিয়র সরকার দলীয় দায়িত্বশীল ও বারের সাবেক সভাপতি। বিচারক সাহেবের সাফ কথা- 'লার্নেড, আমি আপনার পদ-পদবীর বিষয়ে ওয়াকিবহাল। জামিন শুনানিতে কে শুনানি করলো আর কত বড় বহর নিয়ে হাজির হলো তা দেখার সুযোগ অন্তত আমার কোর্টে বিবেচিত হবে না। কেন জামিন দেওয়া উচিত বলে মনে করছেন তার স্বপক্ষে আপনি অন মেরিট শুনানি করলে আমি চেষ্টা করবো'। আরো কিছুক্ষণ শুনানির পরে বিচারক সাহেব জামিন নামঞ্জুর করেন। যথারীতি সপ্তাহ খানেকের মাঝে বিচারক সাহেবও মফস্বলে বদলির আদেশ পেয়ে গেলেন।
- নিরু, পৃষ্ঠা ৩৬
হঠাৎ নিরু'র চোখ পড়লো গারদের দিকে। কোট পরা এক ভদ্রলোকের সাথে গারদের ভিতরে আটক এক মহিলার কথা হচ্ছে। কথার ধরণ দেখে মনে হচ্ছে টাকা পয়সার বিষয়ে কথা হচ্ছে। কোট পরা ভদ্রলোকের এক কথা -
- আজকে জামিনে যেতে চাইলে চোখ বন্ধ করে পাঁচ দিতে হবে। এর এক পয়সা কমও সম্ভব নয়।
: উকিল সাহেব, আল্লাহর দোহাই লাগে জামিনটা করান। বের হলে টাকা কোন বিষয় না, পাঁচ কেন প্রয়োজনে দশ দিবো।
- শুনুন, আর ঝামেলা করতে পারবো না। হাতে মাত্র বিশ মিনিট সময় আছে।
এভাবে আরো কিছু সময় পার হওয়ার পর কোট পরা লোকটি মহিলার কানের দিকে ইশারা করলো। ' এগুলো জিম্মা দে, দেখি কি করা যায়'। মহিলা দ্রুততার সহিত কানের দুল জোড়া খুলে দিতেই কোট পরা লোকটি পকেট থেকে ওকালতনামা বের করে স্বাক্ষর নিয়ে নিলো!
- নিরু, পৃষ্ঠা ৭০
"...ব্যতিক্রম শুধু বারের সভাপতি- সম্পাদক সাহেবরা। এই দুই চেয়ারে বসার মানেই যেন প্রতি বছর আদালত পাড়ায় জামিনের ঠিকাদারি নিয়ে নেওয়া"- নিরু, পৃষ্ঠা-৩৫
আদালত পাড়ার এমন সব চমকপ্রদ বাস্তবতা জানতে বইটি পড়ে দেখতে পারেন।
গ্রন্থের নামঃ 'নিরু'
ধরণঃ আইন বিষয়ক উপন্যাস
লেখকঃ অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তরিক উল্যাহ MT Ullah
প্রকাশকঃ Bangladesh Institute of Legal Development (BiLD)
পাওয়া যাচ্ছে
https://www.rokomari.com/book/215052/niru
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০২১ বিকাল ৫:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



