বরাবরই আমি যে কোন বিচারাধীন ইস্যুতে মিডিয়া ট্রায়ালের পক্ষপাতী নই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আলোচিত ঘটনার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ তো বটে আমাদের বিজ্ঞ আইনজীবী বন্ধুরাও খৈ হারিয়ে ফেলেন এবং ক্ষেত্রভেদে নিজ সহকর্মীদের নিয়েও ট্রল করে নাস্তানাবুদ করে ফেলেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঘটনা যদি আমাদের (আমজনতার) অপছন্দের/মতের বিরুদ্ধের (যে কোন কারণেই হোক) লোকের বিরুদ্ধে যায় তবে আমরা সুযোগের হাতছাড়া করতে অপারগ থাকি! এটা অন্যায়।
আরে ভাই, পরিমনী হোক কিংবা হেফাজতের আমির হোক আইন সবার জন্য সমান এবং অপরাধে অভিযুক্ত হলেই কোন ব্যক্তিকে দোষী বলা যায় না।আইনের চোখে অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী নয়, আসামী মাত্র।আইনের একটি নীতি হল- “Everyone shall be presumed to be innocent unless he is found guilty by a competent court” অর্থাৎ আইন দ্বারা গঠিত উপযুক্ত আদালত যতক্ষণ না কাউকে দোষী বলে রায় দিচ্ছে ততক্ষণ তাকে আইনের চোখে অপরাধী বলার সুযোগ নেই।
কিন্তু আমরা প্রায়ই দেখছি, বিভিন্ন ঘটনায় গ্রেপ্তার করার পরে প্রায়শই গণমাধ্যমের সামনে হাজির করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো এবং সেখানে জব্দ করা জিনিসপত্র সাজিয়ে গণমাধ্যমের সামনে এমনভাবে তাদের উপস্থাপন করা হয় ও বর্ণনা তুলে ধরা হয়, যাতে বিচারের আগেই তারা জনমনে দোষী বলে চিহ্নিত হয়ে যান। সন্দেহভাজনদের দোষী প্রমাণিত হওয়া কিংবা মামলা দায়েরের আগেই গণমাধ্যমের সামনে হাজির করার বিধানটি ফৌজদারি কার্যবিধির কোথায় বর্ণিত আছে একজন আইনের ছাত্র হিসেবে আমার অজানা। ধরুন, অভিযুক্ত ব্যক্তিটির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের সত্যতা যদি তদন্তে পাওয়া না যায় কিংবা বিচারের মাধ্যমে তিনি খালাস প্রাপ্ত হন তাহলে অর্থাৎ দোষী প্রমাণিত না হলে তখন!
সুতরাং কোন কিছুতেই অতি উৎসাহী হওয়া বা তাড়াহুড়ো করা ঠিক না। একতরফা শুনে মিডিয়া ট্রায়াল না করে বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করা জরুরি। তারচেয়ে বড় কথা, আস্থাহীনতার সময়ে বরাবরই আমরা আম জনতা সাক্ষী গোপাল নয় কি
- মোহাম্মদ তরিক উল্যাহ, আইনজীবী

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


