
অনেকেই প্রশ্ন করেন মামলা না করেই ঋণের টাকা আদায়ের জন্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধকী সম্পত্তি নিলাম করতে পারে কিনা? বিশেষ করে বিভিন্ন সময়ে সম্পত্তি নিলামের জন্য পত্রিকার বিজ্ঞপ্তি দেখে গ্রাহকরা হতাশ হয়ে পড়েন। এই ক্ষেত্রে আইনের বিধানটা কি তা জেনে নেইঃ
বিষয়টি বর্ণিত রয়েছে অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ১২ ধারায়। উক্ত ধারার ভাষ্য মতে ব্যাংক বা আর্থক প্রতিষ্ঠান খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য আগে সম্পত্তিটি নিলামে বিক্রির চেষ্টা করতে হবে, নিলাম ব্যর্থতায় মামলা দায়ের করতে হবে। তার, মানে নিলাম শুধু মামলার রায় হলে নং বরং খেলাপি ঋণের ক্ষেত্রে টাকা আদায়ের পূর্বশর্তই হলো সম্পত্তির নিলাম করা। মামলা হলো পরের ধাপ।
অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ১২ (৩) ধারায় সুষ্পষ্টভাবে বলা হয়েছে,
কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিবাদীর নিকট হইতে কোন স্থাবর সম্পত্তি (Immovable Property) বন্ধক (Mortgage) রাখিয়া অথবা অস্থাবর সম্পত্তি (Movable Property) দায়বদ্ধ রাখিয়া (Hypothecated) ঋণ প্রদান করিলে এবং বন্ধক প্রদান বা দায়বদ্ধ রাখার সময় বন্ধকী বা দায়বদ্ধ সম্পত্তি বিক্রয়ের ক্ষমতা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে প্রদান করা হইয়া থাকিলে, উহা বিক্রয় না করিয়া এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ ঋণ পরিশোধ বাবদ সমন্বয় না করিয়া, অথবা বিক্রয়ের চেষ্টা করিয়া ব্যর্থ না হইয়া, অর্থ ঋণ আদালতে কোন মামলা দায়ের করিবে না।
তাহলে, বিষয়টি পরিষ্কার। আর বন্ধকী সম্পত্তিটি কম দামে ব্যাংক যাতে বিক্রি করতে না পারে সেজন্য সর্তক থাকতে হবে। এমনকি, অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ১২ (৩) ধারার বিধান মোতাবেক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হয়। সেক্ষেত্রে ব্যাংক যদি আপোষে ছাড় না দেয় তবে হাইকোর্টে রীট দায়ের করে ক্ষেত্রভেদে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব।
-- মোহাম্মদ তরিক উল্যাহ
অ্যাডভোকেট
বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
০১৭৩৩৫৯৪২৭০ ( কল করার পূর্বে হোয়াটস্অ্যাপে ম্যাসেজ দিন)
লেখক- আইন বিষয়ক উপন্যাস 'নিরু" এবং 'অসমাপ্ত জবানবন্দী', মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপন্যাস 'মায়ের মুখে মুক্তিযুদ্ধ' এবং 'একাত্তরের অবুঝ বালক' ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



