
‘...আমানের রিমান্ড চলছে। আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড দিয়েছে দশ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দিয়ে। অন্ধকার রুমে একটা চেয়ারে বসানো হয়েছে আমানকে। মাঝখানে দেওয়া পর্দার আড়ালে মৃদুভাবে একটা লাইট জ্বলছে। পাশের রুম থেকে আত্মচিৎকার ভেসে আসছে, 'স্যার আপনি আমার বাপ লাগেন। আমারে অন্তত একটা মামলায় গ্রেফতার দেখান। খুনের মামলা হলেও আপত্তি নেই। সহায়-সম্পত্তি সব বেচে হলেও আপনাকে সম্মান করবো। দরকার হলে দেশও ছাড়বো। আপনি যে-ই শর্ত দিবেন তা মাথা পেতে নিবো।' মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আকুতি আবদ্ধ রুমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।
মামলাবিহীন আটক মানুষটি হয়তো ভাবছে, যদি একবার ছাড়া পায় তবে রাজনীতি তো দূরের কথা ঘর থেকেও বের হবো না। না হয় জীবনের সব মায়া ত্যাগ করে সন্ন্যাসী জীবন বেচে নিবো কিংবা নিজেকে আল্লাহর রাস্তায় বিলিয়ে দিব দাওয়াতি কাজ করে। প্রয়োজনে শহর ছেড়ে গ্রামে গিয়ে কৃষিতে মনোযোগী হওয়ার ভাবনা মাথায় আসলো তার। প্রচণ্ড তৃষ্ণার্ত রিমান্ডে থাকা ব্যক্তিটির এখন চাওয়া ইচ্ছে মতো গ্রামের নলকূপের শীতল পানি পান করা। মনে হচ্ছে পুরো এক সাগর পানিতেও এমন তৃষ্ণা মিটবে না। কিন্তু এমন সব ভাবনা হয়তো ভাবনাই থেকে যাবে। পানির পিপাসা মেটানো তো দূরের কথা সূর্যের আলো দেখার সুযোগও কম পেয়েছে এমন মামলাবিহীন বেওয়ারিশ কথিত আসামিরা।’
-মোহাম্মদ তরিক উল্যাহ, গায়েবি শৃঙ্খল, শিকড় প্রকাশনী, পৃ-১৭
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




