একটা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুবাদে মেশার সুযোগ হয়েছে অনেক দেশের মানুষের সাথেই, প্রতিনিয়তই ঘটে কিছু না কিছু মজার ঘটনা। সেগুলোই ধারাবাহিকভাবে প্রকাশের চেষ্টা করছি।
ঘটনা একঃ
আমাদের ডরমেটরিতে একটা রুমের মাঝে ৪টা কমপার্টমেন্ট। আমার সাথে বাকি ২ জন ইন্দোনেশিয়ান, একজন মালয়েশিয়ান। এদের মাঝে দুইজন মিউজিশিয়ান- পড়াশোনার প্রতি এতোটা আগ্রহ নেই, মিউজিক নিয়েই পরে থাকতে আমি বেশি দেখি (আবার নামাজও পরে রেগুলার)
স্ট্যাটিকস পরীক্ষার আগের রাত, প্রচণ্ড টায়ার্ডনেস নিয়েও বইয়ে মনঃসংযোগ করার চেষ্টা করছি, বস্তু সাম্যাবস্থায় থাকলেও যে এতগুলা ইকুয়েশান নিয়ে চিন্তা করা লাগে- কে জানতো !! এদিকে পাশের কমপার্টমেন্ট থেকে ওরা গিটার প্র্যাকটিস করছে, এই মাঝে রাতে
কিছুক্ষন পর হঠাৎ খেয়াল করলাম পাশের গিটারের সাউন্ড বন্ধ, হাফ ছেড়ে বাচলাম- ১ মিনিট পর খেয়াল করলাম , আমার পিসি তে শূন্য ব্যান্ডের "তুমি আমার নও তো সুখ- তুমি, সুখের বেদনা" গান টা বাজছে, আর আমার রুম মেট ঠিক সেই টিউনটাই তার গিটারে বাজাচ্ছে। ক্যান জানি রাগ করতে গিয়েও হেসে ফেললাম। ভিনদেশী একটা ছেলে একটা বাংলা গান বাজাচ্ছে, বাজুক না - ১০টা ম্যাথ না করে গেলেও আমি পরীক্ষায় ফেল করবো না
ঘটনা দুইঃ
আমাদের এক টিচার আছেন, চায়নিজ। সেমিস্টারের প্রায় পুরোটা সময়েই আমি তার কথার ৫০%ও বুঝিনাই, জাস্ট অনুমান করে আর স্লাইড দেখে বুঝতে হয়েছে। (উদাহরণঃ এরা সার্চ কে সিরচ বলে)
একদিন ক্লাসে বসে আছি, স্যার ১০ মিনিট পর হন্তদন্ত হয়ে ঢুকলেন, এসেই বলছেন, "sorry class, i am late. Because i've come directly from the airport"
বলে রাখি, এয়ারপোর্ট থেকে আমার ভার্সিটির দূরত্ব দেড় ঘণ্টার ড্রাইভ, আর বাস কিংবা ট্রেনে গেলে সময় আরও বেশি লাগে। আর দুই একবার হাঁপিয়ে নিয়ে স্যার হঠাৎ বলতে শুরু করলেন, "Actually, i am coming form Chaina" . . . . . .আমি সামনের দিকেই বসা, মুখ থেকে জোরেশোরেই বেরিয়ে গেলো, "seriously??" স্যার আমার মুখের দিকে তাকিয়ে "এইটা কোনো ব্যাপার হইলো"-টাইপ একটা হাসি দিলেন।
চীন থেকে মালয়েশিয়া আসতে প্লেনে লাগে ৬ ঘণ্টা, তার মানে যদি ধরি যে স্যারের বাসা চায়না এয়ারপোর্টের পাশের গলিতে, তারপরও উনি ৮ ঘণ্টার জার্নি করে এসেছেন, আর তার পর আমারদের এক ঘণ্টা বিশ মিনিটের ক্লাস এক ঘণ্টা তিরিশ মিনিটে শেষ করলেন। এর পর থেকেই উপলব্ধি করতে শিখেছি, এরা আসলেই কেনো এতো উন্নত জাতি।
আপাতত এটুকুই, সময় পেলে আরও লিখবো
আমি ঠিক শিওর না এই লেখাটা কেউ পড়বে কি না। যদি শেষ পর্যন্ত এই বোরিং লেখাটা পরে শেষ করতে পেরে এই পর্যন্ত পৌছাতে পারেন, অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


