দুদিন আগের কথা. সারাদিন অসুস্থ থাকায় আমার হাবি সন্ধ্যায় বলল চল একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসি. তোমার ভালো লাগবে. আমার অভ্যাস মত নিচে নেমে আমি গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে খোলা হওয়ায় উন্মুক্ত আকাশের নিচে হাবির অপেক্ষা করছি. হঠাৎ খেয়াল করলাম একজন লোক জুবুথুবু হয়ে হাটুতে মাথা গুজে গেটের এক কোণে বসে আছে. কোনো শব্দেই তার কোনো নড়াচড়া নেই. দারোয়ান চাচা এসে তাকে ডেকে উঠালো গাড়ি বের হবে বলে. রোগা একজন মানুষ. অসম্ভব ময়লা একটা লুঙ্গি আর শার্ট পরা. মধ্য বয়স্ক লোকটার মুখে দাড়িগফ. চোখে অসম্ভব বিষন্ন এক দৃষ্টি. হাবি বেরহতেই ওকে বললাম. সে আর দারোয়ান চাচা মিলে অনেক চেষ্টা করেও লোকটির মুখ থেকে একটাও কথা বের করতে পারলনা. সে শুধু বিষন্ন দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে রইলো. অবশেষে তাকে কিছু টাকা দেয়া হলো কিন্তু তাতেও তার কোনো আগ্রহ দেখা গেলনা. জোর করে তাকে সেটা দেয়া হলো.
আমি জানিনা কি কারণে তার এত গভীর দুক্ষ...তবে তার দৃষ্টি দেখে মনে হলো অর্থ সব বিষন্নতা কাটাতে পারেনা.....দুদিন পার হয়ে গেছে কিন্তু ওই বিষন্ন মুখটি এখনো চোখে ভাসছে....
গত সপ্তাহের ঘটনা. সেই আমার গেটের বাইরে অপেক্ষা. তখন বেশ রাত. রাস্তা বেশ নির্জন. আমাদের বাসার সামনে হঠাৎ একটা রিক্সার টায়ার পাংচার হয়ে গেল. এক ভদ্রমহিলা তার ছোট একটি মেয়ে এবং একটি ১২/১৩ বছরের ছেলে নিয়ে রিক্সা থেকে নেমে দাঁড়ালেন. সাথে ছোট বড় অসংখ ব্যাগ. মহিলা অসহায়ের মত আর একটা রিক্সার জন্য এদিক ওদিক তাকাতে লাগলো. কিন্তু রাস্তা শূন্য. হাবি বের হলে ওকে বললাম. সাথে সাথে ও খুব ভদ্র ভাবে বলল "আপা কোথায় যাবেন আপনারা ? চলুন পৌছে দেই."
আমিও ওর সাথে বললাম. কিন্তু মহিলা এমন এক অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকালো আর বলল "না না দরকার নাই" যে আমরা আর কথা বারাবার আগ্রহ পেলাম না. আমরা বেরিয়ে গেলাম. জানিনা তারা কিভাবে গেলেন. বারবার শুধু একটা কথাই মনে হতে লাগলো, এমন এক সময়ে আমরা চলে এসেছি যে কেউ কাউকে বিশ্বাস যেমন করতে পারিনা তেমনি ইচ্ছে থাকলেও কারো উপকার করতেও পারিনা....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


