J.n. Tora
December 6, 2014 ·
আমার বাসাটা দক্ষিণ মুখী. আমার রুমের সাথে বেশ লম্বা একটা বারান্দা. যে বারান্দায় দাঁড়িয়ে আমি এই শহরের গল্প তোমায় বলে যাই. এর পূব দিকের কোনাতে একচিলতে জায়গা আছে যেখানে কোনো ছাদ নেই. ওই দিকটাতে এক চিলতে মাঠ আছে আর তারপর গাচ্ছ গাছালির সারি. বারান্দার ওই অংশে দাঁড়ালে এমনিতেই একটু ফাঁকা ফাঁকা লাগে তার উপর আমি যখন পূব দক্ষিণ কনে গ্রিল ঘেষে দাঁড়িয়ে আকাশ দেখি মনে হয় আমি শুন্যে ভেসে আছি. আর মাথার উপরে অসংখ্য তারা বিছিয়ে আছে, মাঝে মাঝে আবার ঝুলে থাকে মায়াবী চাঁদ. উফ কিজে অদ্ভুত সুন্দর অনুভুতি !! আমি প্রায় প্রতি রাতে যখন দাঁড়াই ওখানে দেখি একটা নির্দিষ্ট পথ দিয়ে প্লেন যায়. উত্তর পশ্চিম কোন থেকে ছুটে যায় পূব দক্ষিন কনে....খুব ধীরে ধীরে হারিয়ে যায় এক সময়. আচ্ছা ওই প্লেনটা কোথায় যায় বলতে পারো ? ওতে কে কে আছে ? কেও হয়ত আপনজনকে ছেড়ে যাচ্ছে চোখের পানি মুছতে মুছতে, কারো হয়ত সময় আর কাটছেনা প্রিয় মানুষটিকে কাছে পাবার প্রতিক্ষায়, কেও হয়ত নতুন জীবনের পথে ছুটে চলেছে, আবার কারো হয়ত বিদায়ের সানাই বাজছে..কে জানে কত মানুষ আছে সেখানে. ভাবছ পাগল নাকি আমি ? এসব কি ভাবছি ? হয়ত ! আর তাই বোধয় এসব ভাবনা আসে মনে.
শীত আসার পর আজকাল আর প্লেন দেখতে পাইনা. কমে গেছে তারাদের সংখাও. কুয়াশার পর্দায় ঢেকে গেছে আকাশ.
আচ্ছা কখনো কি এক দন্ড দাঁড়িয়ে দেখেছো কি করে প্রকৃতি কুয়াশার চাদরে নিজেকে মুরে ? আমি দেখেছি ! শীতের দিনে শেষ বিকেলে হঠাৎ করেই নিস্তেজ হয়ে পরে সূর্যটা, আকাশটা আবছা হয়ে আসে, কেও যেন খুব সুক্ষ কোনো মসলিনের সাদা পর্দা ঝুলিয়ে দিয়েছে. আস্তে আস্তে দুলে দুলে পর্দা নেমে আসে সুর্য ছুঁয়ে বর্ণালী আকাশ ছুঁয়ে. সুউচ্চ বাড়িগুলোর মাথা গলিয়ে গাছের সারিতে বারি খেয়ে ঝুপ করে ঘিরে ধরে আমায়. স্বচ্ছ সব ছোখের সামনে ঝাপসা হয়ে আসে. মসলিনের সুক্ষ সাদা পর্দায় ঢেকে যায় দৃষ্টি, আর ভিজে যায় মন.....আমার মন.....
—


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


