somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা প্রগতিশীল - কারন আমরা মাতৃভাষায় ব্লগিং করিতে শিখিয়াছি....... সময়ের বিবর্তনে মোবাইল চুরির পরিবর্তে ব্লগিয় বিরোধ.....

১৮ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ২:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিম্নোক্ত ঘটনা দুটি (প্রথমটি সত্য, দ্বিতীয়টি ভবিষ্যতই বলিয়া দিবে) পর্যবেক্ষনের ব্লগারদের অনুরোধ জানানো যাইতেছে

ঘটনা-১ (সাল ২০০৯, স্থান সোনার বাংলাদেশ): মোবাইল চুরির অপরাধে বাবা-চাচার হাতে চোখ হারাইতে হইয়াছে ছেলেকে।

বাপ-চাচারা যেমন এই সমাজের, তেমনি চক্ষু হারানো ছেলেটাও (খবরটা আমার এখনও পড়িবার সুযোগ হয় নাই)। ঐ বাপ-চাচারাও একদিন কারও ছেলেই ছিল, কিন্তু ভাগ্যবশত ঐ সময় তাহারা এমন কিছু চুরি করিবার সুযোগ পান নাই যে ধরা খাইলে তাহাদের চক্ষু হারাইতে হইত! মাত্র কয়েক মাস পূর্বে আরও মারাত্মক রকমের ঘটনা ঘটিয়াছিল যেখানে মা-বোনের হাতে মাদকাসক্ত ছেলেকে মরিতে হইয়াছিলো।

কারনটা মনে হয় প্রয়োজনাতিরিক্ত প্রয়োজন। পূর্বে মানুষের প্রয়োজন অনেক কম ছিলো (দুই/তিনটা মৌলিক চাহিদা মাত্র)। কিন্তু এখন পাঁচটি মৌলিক চাহিদার পরও আরো অনেক গুলো যৌগিক চাহিদা (স্ট্যাটাস, মোবাইল, কম্পিউটার, ইন্টারনেট, গাড়ী, জায়গা মত বাড়ী, পার্টি, মাদক, বোতল,....) মেটানোর প্রচন্ড আকাঙ্খা গজানোয় তুচ্ছ কারনেই হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হওয়ায় এইসব অমানবিক ঘটনার সূত্রপাত।

ঘটনা-২ (সাল ২০২১, স্থান ডিজিটাল বাংলাদেশ): কোনো আর্থিক কারন ছাড়াই শুধুমাত্র ব্লগিয় বিরোধের জের ধরে কতিপয় পুরান ব্লগারদের হাতে একমাত্র প্যালটপসহ দুই হস্তের দশখানা আঙ্গুল হারাইতে হইলো সোজা-সরল এক নতুন ব্লগারকে।

কারনটা বোধহয় প্রয়োজনাতিরিক্ত ব্লগিং। পূর্বে এই খ্যাপাদের মাতৃভাষায় ব্লগিং-এর সুযোগ না থাকায় (সেই সূত্রে লোকাল গালি/খিস্তিরও সুযোগ না থাকা) এসব বিরোধ মনস্তাত্তিক পর্যায়ে ও পরাবাস্তবে থাকিয়া যাইত। এতে কিছু ব্লগারের মতিভ্রম হওয়া ছাড়া রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ক্ষতি সাধন হইতো না।

কিন্তু এখন সামুতে কতিপয় ব্লগার (বা টিম) বিভিন্ন নিকের আড়ালে থাকিয়া অন্য কোনো ব্লগার (বা টিমের) বিরুদ্ধে মত পার্থক্যজনিত অথবা ব্যাপক কূটনৈতিক প্রতিভা প্রমাণের জন্য বিভিন্ন এংগেল থেকে ক্রমাগত পোস্ট/মন্তব্যের কারনে পারস্পরিক বিরোধের শুরু হয়। কখনও কখনও আদর্শিক বা জাতীয় ইস্যুতে, এমনকি সেলিব্রেটি বল্টুজীবিদের কান্ডকারখানা নিয়াও এই বিরোধকে পরাবাস্তব সংঘাতে পরিনত করে। অধুনা কতিপয় পুরান ব্লগারদের নিয়া গঠিত অদৃশ্য কিছু টিমের মধ্যে ব্যাপক যোগসাজসের মাধ্যমে (আমরা কি ইহা দিগকে কু ব্লগার বা সংক্ষেপে "ক্লগার" বলিতে পারি যা শুনিতে কিছুটা "কুলাঙ্গার"-এর মত হয়?) তুলনামূলক সহজ সরল (বিশেষত নতুন) ব্লগারদের বিভ্রান্ত করে এ ধরনের সংঘাত তৈরির অপচেষ্টার প্রমান পাওয়া যাইতেছে। সংঘাতের এক পর্যায়ে কিছু অসহায় ও আন্ডারক্লাস ব্লগারদের ব্যক্তিগত আক্রমন (গালিগালাজ/খিস্তি) পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটায়। অনিবার্য পরিনতি হিসেবে পারস্পরিক পরিচয় ফাঁস হওয়ার মধ্য দিয়ে সংঘাত বাস্তবতায় নেমে আসে এবং এরূপ অমানবিক ঘটনার জন্ম দেয়।

ঘটনা পর্যবেক্ষনে আমার মনে হইতেছে আমরা আগের মানসিকতাতেই রয়েগেছি, পরিবর্তন বলিতে এককালের মোবাইল চুরির জায়গায় ব্লগিয় বিরোধ আসিয়াছে। ব্লগার ভাইদের নিকট আমার প্রশ্ন হইলো এইসব চরম অমানবিক ও অসহিষ্ণু ঘটনা কি ঘটিতেই থাকিবে, এই গুলো থাকিয়া আমাদের কি কোনই নিস্তার নাই?

আমরা কি এইসব ব্লগারদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও অধিকার রক্ষায় "ব্লগাধিকার" নামক একখানা গ্রুপে এই বিষয়ে পোস্ট ও সেই সূত্রে মন্তব্য প্রদান করিতে পারি না?

বি: দ্র: গত কয়েকদিন বিভিন্ন পোস্ট পড়িয়া আমার নিজের মস্তিকের পরিমান নিয়া ব্যাপক সন্দেহের উদ্রেক হওয়ায় পোস্টটিকে ব্যক্তিগতভাবে না লইয়া সামগ্রিক দৃষ্টি কোণ থেকে দেখিবার অনুরোধ জানানো হইল। ব্যক্তিগতভাবে আমার উদার মানসিকতার জন্য ও মন্তব্য গুলিকে পরিচ্ছন্ন রাখিবার উদ্দেশ্যে অসহায় ও আন্ডারক্লাস ব্লগারদের জন্য চোরাই মাইনাস দেয়া জায়েজ করা হইল

click here পোস্টের কিন্চ্ঞিত ছায়া (উপাচ্ছায়া?) অবলম্বনে আমার এই পোস্ট
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই জুলাই, ২০০৯ দুপুর ২:৩৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার হারিয়ে যাবার গল্প

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:৩২

তোমাকে আমি কোথায় রাখি বলো,
চোখের ভিতর রাখলে
ঘুম ভেঙে যায় বারবার,
বালিশের নিচে রাখলে
স্বপ্নে এসে কাঁদো।

তুমি কি জানো
আমার এই শরীরটা এখন
পুরোনো বাড়ির মতো,
দরজায় হাত দিলেই কেঁপে ওঠে,
জানালায় হাওয়া লাগলেই
তোমার নাম ধরে ডাকে।

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস একটি সুনিশ্চিত পথভ্রষ্ট ও জাহান্নামী দল

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৫৮




সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতাম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে তাঁর পথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানব সভ্যতার নতুন অধ্যায়

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৭


আজ মানব জাতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
তারিখঃ ২৪ শে মার্চ, ২০২৬
সময়ঃ বিকাল ৪টা, (নর্থ আমেরিকা)
আমেরিকার কংগ্রেস স্বীকার করে নিল ভীন গ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব। স্বীকার করে নিল পৃথিবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।
আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই কালরাতে Operation Searchlight নামের বর্বর অভিযানের মাধ্যমে পাক আর্মি নিরস্ত্র বাঙালির উপর ইতিহাসের জঘন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওয়ান-ইলেভেন: স্মৃতিহীন জাতির হঠাৎ জাগরণ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩০

কাভার- সরাসরি আপলোড না হওয়াতে!!


ওয়ান-ইলেভেন: স্মৃতিহীন জাতির হঠাৎ জাগরণ!

জেনারেল মাসুদের গ্রেপ্তার হতেই হঠাৎ দেখি-
সবাই একসাথে ওয়ান-ইলেভেন-কে ধুয়ে দিচ্ছে!

মনে হচ্ছে, এই জাতির কোনো অতীতই নেই।
বাঙালির স্মৃতিশক্তি আসলেই কচুপাতার পানির মতো-এক ঝাপটায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×