somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জিহাদ মানেই বিপ্লব নয় মশাই !

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চিকিৎসা বিজ্ঞান ( medical science) সম্পর্কে ন্যূনতম ধারনা আছে এমন কেউ সন্তান জন্মকালীন নরমাল ডেলিভারি এবং সিজার- দুই পদ্ধতিকেই বিশ্বাস করতে বাধ্য। ডাক্তারের কাছে কেউ গেলেই বয়স, শারীরিক অবস্থা, ও অন্যান্য রিস্ক ফ্যাক্টর বিচার না করেই যেমন সিজারিয়ানের পরামর্শ দেয়া ঠিক না, তেমন মা অথবা বাচ্চার অনেকটা নিশ্চিত বিপদ হবে এটা জেনে নরমান ডেলিভারির জন্যে অপেক্ষাও করতে বলাটাও অজ্ঞতা। চিকিৎসা বিজ্ঞানে দু'টি পদ্ধতিরই গুরুত্ব রয়েছে। প্রয়োজনের আলোকেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যেখানে রিস্ক ছাড়াই নরমালেই সম্ভব সেখানে অন্য কোনো ব্যবস্থা নেয়া ডাক্তারের অসৎ উদ্দেশ্যকেই প্রমান করে। ডাক্তারের কাছে রোগী আসা মাত্র যাচাই-বাছাই না করেই পেট কাটতে বলে দেয়াটা চরম পরিমানে অন্যায়।

আবার টাকা বাঁচানো কিংবা সামান্য রক্তের ভয়ে, বিপদ হতে পারে তা জেনেও নরমার ডেলিভারির অপেক্ষায় থাকাও অমানবিক।
আজকে আমার লিখার বিষয় মোটেও কোনো ডাক্তার নয়!! আমাদের সমাজে ইসলাম যারা একদমই মানেন না তারাও আজকের বিষয় না।বরং যারা ইসলাম মানার চেষ্টা করেন, কিন্তু ইসলামের একটা অংশকেই পূূ্র্ণাঙ্গ ইসলাম মনে করেন তাদেরকে নিয়েই আমার আজকের লেখা।

আমাদের মধ্যেই একদল তৈরি হয়ে গেছে যাদের চিন্তা, চেতনায়, ধ্যান ধারনায় শুধু জিহাদ আর জেহাদ। অন্য একজন দ্বীনি ভাইয়ের সাথে সামান্য মতাপার্থক্য হলেই তাকে কতল করাটা ফরজ মনে করেন। ইসলামে চুরির দায়ে হাত কাটার বিধান আছে- এটিকেই ওনারা সবার সামনে প্রতিষ্ঠা করতে চান। ভাল কথা। কিন্তু ইসলাম যে হাতকাটার আগে সবার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিখিয়েছে, সেই ব্যাপারে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। বাচ্চাকে আদর না করে শুধু শাসন করলে সেই বাচ্চা কখনোই মানুষ হয় না। যেখানে বর্তমান মুসলিম সমাজের বেশিরভাগ নামাজের গুরুত্বই বুঝে না, তাদেরকে শুধু জেহাদের ওয়াজ করে কি করে সমাজব্যবস্থার পরিবর্তন হবে? যেখানের মুসলিমরা কুরআনই বুঝে না, সেখানে তাদের কিতাল শিখিয়ে কি লাভ? এটি সত্য যে একটা আবেগতাড়িত অংশকে কাজে লাগিয়ে সাময়িক কোনো সফলতা কিংবা সামান্য বিপ্লবের দেখা আপনারা পেয়েও যেতে পারেন। তবে মানুষের মন জয়কে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করে শুধু অস্ত্র দিয়ে যে বিপ্লব হবে, সেটি চেঙ্গিস খানের বিপ্লবের মতই অমানবিক হবে,কখনোই সেটি পূর্বঘটিত ইসলামি বিপ্লবের মত হবে না।

কুরআনে জিহাদের আয়াত নাজিলের পর প্রিয়নবী হযরত (স:) ইসলামের শত্রুদের সাথে দুই ভাবে জিহাদ করেছেন-
১. ইসলাম বিরোধী কুফ্ফারদের সাথে সরাসরি যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে।
২. ইসলাম বিরোধী, অথচ নামে মুসলিম, তাদের সকল ইসলাম বিরোধী তৎপরতাকে সুকৌশলে ব্যর্থ করে দিয়ে।


বর্তমান সময়ে নামে মুসলিমরাই আমাদের ইসলামের বেশি ক্ষতি করছে। তার মানে এই নয় তাদের কয়েকজনকে হত্যা করলেই সবকিছু বদলে যাবে। প্রশাসন, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, শিক্ষাব্যাবস্থা ইত্যাদি পরিবর্তনের কথা চিন্তা না করেই, গুপ্ত হত্যা কিংবা বোমাবাজী করে শুধু মানুষকে আতংকিত করে কিভাবে ইসলাম প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেন তা আমার বোধগম্য নয়।

এবার আসা যাক আরেক অংশের দিকে, উনারা রোগী মরে গেলেও অপারেশনের কথা মাথায়ও আনেন না। আমি বুঝি না আসলে কি কারনে তারা এমনটা করেন? কি রক্তের ভয়ে না সম্পদ তথা অর্থের ভয়ে।আমার মনে হয় উনারা সর্বোচ্চ গ্রামের অশিক্ষিত দাই মা অথবা প্রশিক্ষীত নার্সের ভূমিকার বাইরে কিছুই করার ক্ষমতা রাখেন না, সার্জনের ভূমিকাতো অনেক দূর! চিকিৎসা সেবায় যেমন দাই মা অথবা নার্সের ভূমিকা রয়েছে, তেমন সার্জনকেও বাদ দেয়া যাবে না।

আমি বলছি না ইসলামে দাওয়াত তথা তবলিগের গুরুত্ব কম। অবশ্যই দাওয়াতি কাজ ধনী গরীব, সুস্থ্য - অসুস্থ সব মুসলিমের উপরই ফরয। কিন্তু এটিও মনে রাখতে হবে শুধু তবলীগ করেই যদি ইসলাম প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতো তাহলে পরাক্রমশালী আল্লাহ কখনোই তাঁর প্রিয় বন্ধ রাসূল (স:) এর কাধে যুদ্ধে (২৩ টি) সেনাপতির দায়িত্ব চাপিয়ে দিতেন না!

এবার আসা যাক মূল কথায় - একজন প্র্যাকটিসিং মুসলিম হিসেবে কিংবা একজন ইসলামি আন্দোলনের কর্মী হিসেবে বিশ্বাস করি তবলিগ ( দাওয়াত) ও জিহাদ দুটিই ঈমানের অপরিহার্য দাবী। যারা এ দুটির কোন একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটিকে নিয়েই থাকতে চায় তারা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত। সামগ্রিক শরিয়তের দৃষ্টিভঙ্গিতেই দাওয়াত ও জিহাদের সীমা পরিসীমা নির্ধারন করা উচিৎ আবেগ দিয়ে নয়।।

একটা বার্তা সবার কাছে পৌছে যাওয়া উচিত- জিহাদ মানেই বিপ্লব নয় ! বিপ্লবের প্যাটার্ন অনেক প্রশস্ত।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:১৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×