somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবন রম্যের এক টুকরা

১৯ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গলির ভেতর দিয়ে হাঁটছি। বাসার খুব কাছাকাছি।
ঠিক তখনই মাথার উপর হুট করে এক বজ্রকন্ঠের উদয়। দুইতলা সমান উঁচু কোনো বারান্দা থেকে। স্টিম রুলার টাইপের কণ্ঠে এক মহিলা কল্লাটা বের করে বলে উঠলো,
- থাপ্পড় মাইরা গালের সবকয়টা দাঁত ফালাইয়া দিমু।

মাথায় যেন একটা বিশাল গাছের গুড়ি আঘাত করলো। নিজ কল্লাখানি ১৮০ ডিগ্রী ঘুরাইয়া নভোমন্ডলের দিকে তাকাইতে তাকাইতে ব্রেণের কোর আই-থ্রি গতিসম্পন্ন মাইক্রাপ্রসেসরটাকে এনালাইসিস করতে দিলাম।

চিন্তাগুলোর রেজাল্ট এ চোখ বুলানোর সময় নাই।
কারণ রেজাল্ট শিট এইরকম ...
About 604,000,000 results (0.000001 seconds)

তারপরও উপরের দিকের দুই-একটা সার্চ রেজাল্ট শুনেন ..

- ছোটবেলা শুনছি দাঁত নাকি মাঁড়িতে থাকে; গালে আসলো কবে ?
- চড় কি উনি দুইতলা থেকেই দিবেন; নাকি নিচে নেমে তারপর দিবেন ?
- উনি যদি নীচে নামেন সে পর্যন্ত কি আমি ওয়েট করবো ?
- নাকি হাঁটার উপরে থাকবো। উনি দৌড়ে এসে চড় দিবেন ?
- আমার মতো ছয়ফুট মানুষের গালে চড় দিবেন; তাহলে উনি কয় ফুট ?
- শুধু শুধু চড় দেওয়ার পরে কি উনি আমাকে নাপা এক্সটা দিবেন?
- দাঁত যদি সবগুলো পড়ে তবে আমাকে তো খাবারের নতুন তালিকা তৈরী করতে হবে।
- দাঁত পড়ে যাওয়ার পর কি আমি দাঁড়িয়ে আরেকটা চড়ের অপেক্ষা করবো নাকি দে দৌড়?

এইরকম কোটি কোটি ....

কিন্তু পরক্ষণে আমার ঠিক সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটির ফার্মের মুরগী টাইপ হাসি দেখে বুঝতে পারলাম, এ যাত্রায় চড়টা আমার গালের দাঁতে আঘাত করছে না। চড়াটা আঘাত হানছে যাচ্ছে উক্ত ফার্ম বালকের গালের দাঁতে কিংবা মাঁড়ির দাঁতে। অথবা উভয় প্রকার দাঁতে।

চিন্তা করতে করতে বাসায় ঢুকলাম। জুতা রাখতে যাবো বক্সে।
কিন্তু হায় হায় !!
হাতে জুতা একটা কেন? আরেকটা কই?

টেনশন নিয়ে আবার দরজার সামনে গেলাম। দেখলাম আরেকটা জুতা দরজার সামনেই আছে।
বুঝতে পারলাম প্রসেসরটা তখনও এনালাইটিক সার্চ করতে ব্যস্ত ছিলো। (0.000001 seconds) টাইমের পরেও সে কাজ করেছে অনুমতি ছাড়া। তাহলে এতক্ষণে কি পরিমাণ রেজাল্ট জমেছে।
যাক, ফার্মের মুরগীর হাসিটা মনে করলেই সব সার্চ রেজাল্ট মুছে যাবে আশা করি । .. :(
.
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ১২:১২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আর্মি এখনও ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছেনা কেন?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৭:৪৫

“শেখ হাসিনার পতনের মূল কারণ ছিল চীনের দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে পড়া, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ভূরাজনৈতিক অসন্তোষকে কাজে লাগিয়ে, দেশের অভ্যন্তরে একটি পরিকল্পিত পরিবর্তন... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর কোথাও কেন রাত নামে না, আবার কোথাও সূর্য ওঠে না

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:০৩

পৃথিবীর কোথাও কেন রাত নামে না, আবার কোথাও সূর্য ওঠে না

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা, ভৌগোলিক প্রভাব এবং আধ্যাত্মিক প্রতিফলন

আমরা প্রতিদিন যে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখি, সেটাকে এতটাই স্বাভাবিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাংবাদিক নারীরা কি টিপিক্যাল, চিন্তার গভীরতা কি ওদের কম??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০



সাংবাদিক নারী বা সাংবাদিকতার সাথে সম্পর্কিত পেশায় জড়িত মেয়েরা কি একটু টিপিক্যাল টাইপের হয়??
আমার তো তা-ই মনে হয়! এছাড়া, চিন্তার গভীরতা ওদের একটু কমও মনে হয়েছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×