somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সূর্যাবর্ত (প্রথম পর্ব)।

২৬ শে জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৫:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আপাতদৄস্টিতে মনে হয় সূর্য প্রদক্ষিন করছে পৄথিবীকে।প্রতিদিন ভোরে পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠে,এবং ধনুকের মত বাকানো পথে আকাশে চলে সন্ধ্যায় পশ্চিমে অস্ত যায়।এ ছাড়াও সূর্যের আর একটি আপাতগতি কল্পনা করা যায়।তা হলো পিছনের তারার পটভূমিতে মিলিয়ে দেখলে মনে হবে যেনো সূর্য পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে আকাশ পরিভ্রমন করে চলছে।এটা হলো প্রতিভাস মাত্রা এটা সত্য নয়।তবে এককালে মানূষ মনে করতো যে সূর্য ভ্রমন করছে তারামন্ডল বা রাশিচক্রের ভেতর দিয়ে।



কেনো এমন মনে হয়?যে তারারগুলোর ভিতর দিয়ে সূর্য পশ্চিম থেকে পুবে যাচ্ছে?এটা ঘটে পৄথিবীর কক্ষপথের বার্ষিক গতির জন্য।চাঁ পৄথিবীকে একবার প্রদক্ষিন করে 27.29 দিনে।পিছনের তারা গুলোর সাথে মিলিয়ে দেখলে মনে হবে,চাঁদ ও সূর্যের মতো একই পথে পশ্চিম থেকে পুব দিকে যাচ্ছে।এছাড়া পাচটি গ্রহ বুধ,শুক্র, মগ্নল,বৄহস্পতি,শনি বেশ উজ্জল সহজেই এদের দেখা যায়।তারাও কক্ষপথের পুব দিকে যায় কিন্তু সূর্যের পথ থেকে সামান্য ভিন্ন পথে।



আকাশের সবকিছুই নিরন্তর পরিভ্রমনরত সূর্য,চাঁদ,গ্রহ ও তারাগুলো ঘুরছে তাদের নিজ নিজ কক্ষপথে।তারাগুলো এত দ্যরে আছে যে তাদের চলাচল হাজার লক্ষ বছরেও চোখে পড়ে না।তাই মনে করতে পারি যে এগুলো স্থির হয়ে আছে,আকাশ-গোলকে।কিন্তু সূর্য,চাঁদ আর গ্রহগুলো আমাদের কাছে আছে আর এরা পিছনের তারা রাশির পটভূমিতে যে ভ্রমন করছে,এটা আমরা লক্ষ্য করতে পারি।।



সূর্য পথ বা ক্রান্তিবৄত্তঃ সূর্যকে প্রতিদিন পূর্বে উঠতে আর পশ্চিমে ডুবতে দেখা যায়।কিন্ত পকৄতপক্ষে সূর্য উঠে ও না অস্তও যায় না।পৄথিবীর নিজের অক্ষের উপর পশ্চিমে থেকে পুবে ঘোরে বলেই এমন দেখি আমরা।পৄথিবী সূর্যকে ঘিরে নিজের কক্ষপথে ঘোরে বছর ভরে,এর ফলে ও চোখে পড়ে সূর্যের একটি আপাত গতি।সূর্যযে এভাবেই ঘোরে তা নয়।কিন্তু আমরা পৄথিবী থেকে দেখি বলে মনে সূর্য চলছে,এমন এ কটি পথে।জানুয়ারী মাসে সূর্যকে দেখা যায় স্যাজিটারিয়াস (ধূনু মন্ডল) বা ধনু মন্ডলের দিকে।দিনের বেলায় দেখা সম্ভব নয়।



কিন্তু সন্ধ্যায় সূর্য অস্ত যাবার সময় তাকালে এটা দেখা যায়।এই ভাবে দিন যায় পৄথিবী চলতে থাকে তার কক্ষে।আমরা সূর্যকে দেখি পৄথিবীর কক্ষপথের ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে।ফেব্রুয়ারী মাসে দেখা যায় সূর্য আছে মকর তারা (রাশি) মন্ডলে।।মার্চে দেখা যায় সূর্য আছে কুম্ভ (রাশি) তারা মন্ডলে।পৄথিবী ঘুরতে থাকে,কিন্তু আমাদের কাছে মনে হয় সূর্য যেন তারামন্ডলগুলোর ভিতর দিয়ে পুব দিকে চলছে।এবং এক বছরে সম্পূর্ন আকাশ ঘুরে আসছে।সূর্য আসলে এভাবে ঘোরে না ,পৄথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে বলেই আমাদের এমন মনে হয়,যেনো তারা মন্ডল গুলোর ভেতর দিয়ে পশ্চিম থেকে পূর্বে পরিভ্রমন করেছে সূর্য।



সূর্যের এই কল্পিত পথকে বলে ক্রান্তিবৄত্ত (একলিপটিক) বা সূর্য পথ।সূর্যের এই আপাত ভ্রমনের মূলে আছে কক্ষপথে পৄথিবীর পরিক্রমা তাই সূর্যপথটি হচ্ছে আকাশে পৄথিবীর কক্ষপথের প্রতিচ্ছায়া।যদি আকাশ গোলকটি হতো গোলাকার পর্দা,যার মাঝখানে আছে সূর্য তাহলে কক্ষপথে পরিক্রমার সময় ওই পর্দার ওপর যে-ছায়া পড়তো পৄথিবীর কক্ষপথের ছায়া,তাই হতো সূর্যপথ।সূর্য এই পথে স্থির তারাদের পটভূমিতে রেখে দিনে 1 ডিগ্রী করে পুব দিকে এগোয়,এবং এই ভাবে বছর ভ্রমন সম্পূর্ন করে।সম্পূর্ন বৄত্ত বা 360 ডিগ্রী ঘুরে আসতে সূর্যের সময় লাগে 365.26 দিন,বা এক বছর।



পৄথিবী তার কক্ষপথের ওপর সোজা বা লম্ভা ভাবে দাঁড়িয়ে পরিভ্রমন করে না,থাকে একটুখানি হেলে।পৄথিবীর এই হেলে থাকার পরিমান সাড়ে তেইশ ডিগ্রী।পৄথিবী তার কক্ষপথের উপর সাড়ে তেইশ ডিগ্রী হেলে থাকে বলে সূর্যপথও এই পরিমান হেলে থাকে,আকাশ গোলকের উপর।





চলবে.....................

ছবি গুগল-
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×