somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গ্রহরাজ বৃহস্পতি পর্যবেক্ষন ( প্রথম পর্ব)।

২৯ শে আগস্ট, ২০১৪ রাত ৯:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



যারা রাতের আকাশের বিভিন্ন খ-বস্তু দেখতে ভালবাসেন,বিশেষ করে সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহ পর্যবেক্ষন বা গবেষনা করতে চান এবং যাদের কাছে 2 ইঞ্চি,3 ইঞ্চি, বা 4 ইঞ্চির অধিক ব্যাসের দুরবীন আছে তাদের জন্য এই লেখা।

এই পর্যায়ে প্রথমেই আলোচনা করবো সৌ্রজগতের সবচেয়ে বড় গ্রহ বৃহস্পতিকে নিয়ে,এই গ্রহের প্রধান আকর্ষন এর চারটি গ্যালিলিয়ান উপগ্রহ।যা ছোট দূরবীন বা বাইনোকুলারের সাহায্যে খুব সহজেই দেখা যায়।
পর্যবেক্ষনের আগে এই গ্রহটির প্রাথমিক কিছু তথ্য জেনে নেই,তাহলে পরবর্তীতে সুবিধা হবে।
বৃহস্পতির আকারে পৃথিবীর 318 গুন।
এর বিষুবীয় ব্যাসঃ 142,800 কিঃমিঃ।
মেরু ব্যাসঃ 134.200 কিঃমিঃ।
ভরঃ 1.90x1027 কেজি।
বায়ু মন্ডলঃ হাইড্রোজেন - 90% হিলিয়াম- 10%।
গড় ঘনত্ব: (পানি=1):1.32।
গ্রহ পৃস্ঠেরর মুক্তি বেগঃ 59.6 কিঃমিঃ/সেকেন্ড।
কক্ষপথের আনতিঃ 1.30030।
গড় সাইনোডিক পিরিয়ডঃ 398.88 দিন।
গড় সাইডেরিয়েল পিরিয়ডঃ 11.862 দিন।
সূর্য থেকে গড় দূরত্ব: 778,412,010 কিঃমিঃ।
নাক্ষত্রিক আহ্নিক গতিঃ 9.842 ঘন্টা।
দিনের দৈঘ্য: 9 ঘন্টা 50 মিনিট।
বছরের দৈঘ্য (পৃথিবীর এক বছর): 11.84 বছর।
পৃস্টের অভিকর্ষ (পৃথিবী=1): 2.69।
গড় প্রতিযোগ উজ্জলতাঃ -2.6।
সর্বোচ্চ প্রতিযোগ উজ্জলতাঃ -2.9।
প্রতিফলন অনুপাতঃ 0.52।
বহস্পতির ঘূর্ণনকাল গ্রহদের মধ্যে সবচাইতে দ্রুত,প্রায় 10 ঘন্টা।এর নিরক্ষীয় অঞ্চলের গতি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় 7 মাইল (পৃথিবী পৃস্টে মুক্তি বেগের সমান)।
বাইনোকুলার দিয়ে এই গ্রহটিকে একটি গোলাকার চাকতির মতো দেখায়।দূরবীনেও এই বিষয়টি আরো ভালো ভাবে বোঝা যায়।



বৃহস্পতির বেশ ঘন একটি বায়ু মন্ডল আছে যা মূলত হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম দিয়ে তৈরী।এছাড়াও অল্প পরিমানে এমোনিয়া ও হাইড্রোকার্বন যৌগও রয়েছে।এই মেঘের সবচেয়ে উচ্চ ও শীতল স্থানগুলো দেখতে সাদা এবং নীচু ও গরম স্থানগুলো দেখতে বাদামী।বৃহস্পতির কোন কঠিন পৃস্ঠ দেশ নেই।এই গ্রহটিকে ধূসর বামন তারা (Brown dwarf) বলে।এই গ্রহটির অভ্যন্তর প্রচন্ড গরম।



ধারনা করা হয় একেবারে কেন্দ্রীয় অঞ্চলটি গলিত সিলিকেটের তৈরী,এই অংশটি পৃথিবীর তুলনায় 25 গুন ভারী।এই অঞ্চলকে ঘিরে রয়েছে প্রায় 50,000 মাইল ব্যাসের হাইড্রোজেন গ্যাসের খোল।এই হাইড্রোজেন স্তরের তাপমাত্রা প্রায় 30,0000 ডিগ্রী ফারেনহাইট।এবং চাপ 45 মিলিয়ন পিএসআই (পাউন্ড/ইঞ্চি2) এ অবস্থাকে বলে ‘মেটালিক হাইড্রোজেন’।
ফলে এই অঞ্চলে প্রচন্ড শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃস্টি হয়,এই চৌম্বকক্ষেত্র পথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রের তুলনায় প্রায় 20,000 গুন বেশী শক্তিশালী।
বৃহস্পতির এই চৌম্বকক্ষেত্রের আকার প্রায় 10 ডিগ্রী (আকারে যা পূর্ণিমার চাঁদের চেয়েও দ্বিগুন!)।



এই মেটালিক হাইড্রোজেনের উপরে রয়েছে প্রায় 18,000 মাইল পুরু তরল আনবিক হাইড্রোজেনের স্তরএই হাইড্রোজেন ফুটতে থাকে।এই স্তরের বাইরের অংশকেই শুধু দূরবীনে দেখা যায় এবং একে গ্যাসীয় হাইড্রোজেন হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।



বৃহস্পতির ঘূর্ণনঃ বৃহস্পতির যে অংশটি আমরা দূরবীনে দেখতে পাই তার সকল অংশের ঘূর্ণনকাল এক নয়।পর্যবেক্ষনের ভিত্তিতে এই গ্রহের দুই ধরনের ঘূর্ণনকাল পাওয়া যায়।এর মধ্যে বিষুবীয় অঞ্চলের ঘূর্ণকাল 9 ঘন্টা 50 মিনিট 30.003 সেকেন্ড,এটি সিস্টেম-1 (System-1) নামে পরিচিত।



গ্রহের বাকী অংশের ঘূর্ণনকাল 9 ঘন্টা 55 মিনিট 40.632 সেকেন্ড এবং এটি সিস্টেম-2 (System-2) নামে পরিচিত,এই মানগুলো গড় মান।
গ্রহের পৃস্টের কোন বৈশিস্ট্য পর্যবেক্ষন করে ঘূর্ণনকাল নির্ণয় করা যায়।

বেতার তরংগ দিয়ে পর্যবেক্ষন করে গ্রহের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের এই ঘূর্ণন পাওয়া গেছে 9 ঘন্টা 55 মিনিট 29.711 সেকেন্ড এটি সিস্টেম-3 নামে পরিচিত।
এই হলো গ্রহের মোটামুটি কিছু তথ্য,যা এই গ্রহকে প্রাথমিক পর্যবেক্ষনের জন্য যথেস্ট।

চলবে..................

ছবি গুগল।

৬টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

In the 2026 HSC examinations, a total of 297,621 candidates appeared... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেখে শূন্য চাকত

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


কেমন করে সাজাও তুমি?
কলমের সাথে- খাতার প্রেম,
মাটির সাথে মৃত্যুর লাশ,
ঘাসের গায়ে ঘাসফড়িংর কাশ।
শেষ বিকালে ভাবনার সাথে
চিন্তার হয় রে অবকাশ-
সবিই যেনো শূন্যে প্রেমে আশ
হাত গুটানো-জীবনের নাশ;
বাস্তবতার হয় নির্দয় স্বার্থপর
সময়ের শুধুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×