somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অতীত দেখা।

২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আসুন এইবার ঘুরে আসি রহস্যময় জগত থেকে।বিঞ্জান বর্তমান পৃথিবীকে মানূষের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে।ঘরে বসেই মানূষ জানতে পারছে পৃথিবীতে কোথায় কখন কি ঘটছে।আমি যে বিষয়টি সর্ম্পকে বলতে চাই,তা এক কথায় বেশ আনন্দদায়ক এবং বিস্ময়কর।তা হলো অতীতকে দেখা।মানূষ কখনো তার অতীতকে দেখতে পায় না।শুধু অনুভব করতে পারে।কিন্তু একটি স্থানের দিকে তাকালে সেখানে যে বস্তু দেখতে পাই,সেই সব বস্তু গুলো সব অতীতের।



অতীতের।সেখানে বর্তমানের কোন বস্তু নেই।তা হলো রাতের পরিস্কার আকাশের সব-মহাজাগতিক বস্তু সমূহ।যেমন-গ্রহ, নক্ষত্র,উপগ্রহ (মানূষের তৈরী স্যাটেলাইট নয়),নিহারীকা,ছায়াপথ,তারাস্তবক,গ্রহানু ইত্যাদি নানান বস্তু।এই ব্যাপারে একটু বিষদ ব্যাখায় যাই।আমরা জানি এই মহাজগতে আলোর গতি হলো সর্বোচ্চ গতি (এখন পর্যন্ত)।আলো সেকেন্ডে 1 লক্ষ 86 হাজার মাইল বেগে ছুটে চলে।এই বেগে ছুটে আলো এক বছরে যতটা পথ পাড়ি দেয় সেটাই হলো এক আলোকবর্ষ।মাইল বা কিঃমিঃ হিসাবে এক একটি আলোকবর্ষ প্রায় 299,792,458 মাইল বা 9 লক্ষ 66 হাজার কোটি কিঃমিঃ।



পৃথিবীতে এত ধরনের মাপকাঠি থাকতে কেন আলোকবর্ষকে বেছে নেয়া হলো? কারন পৃথিবীর মাপকাঠি দিয়ে মহাকাশের কোন কোন বস্তুর দুরত্ত মাপা কোন ভাবেই সম্ভব নয়।বিঞ্জানীরা এক সময় হিমশিম খেয়েছিলেন এই দুরের মহাজাগতিক বস্তুর দূরত্ত মাপতে।অবশেষে তারা এক নতুন মাপকাঠি আবিস্কার করলেন তা হলো আলোকবর্ষ।এ ছাড়াও মহাকাশের দূরত্ত মাপতে আরো কিছু মাপকাঠি আছে।যেমন-কিলোপারসেকঃআলো 1 সেকেন্ডে 3x10,00,00,00,00 মিঃ/সেঃ বেগে 1000 সেকেন্ডে যে দূরত্ত অতিক্রম করে সেই পরিমান দূরত্তকে এক কিলোপারসেক বলে।জ্যোতির্বিঞ্জানের একক (AU) সূর্য হতে পৃথিবীর যে দূরত্ত (9 কোটি 30 লক্ষ মাইল) এই দূরত্তকে বলে।



জ্যোতির্বিঞ্জানের একক (Astronomical Unite) বলে।আসুন এবার দেখা যাক আমরা মহাকাশে কি ভাবে অতীত দেখতে পাই। প্রথমেই সূর্য থেকে শুরু করি।আমরা প্রতিদিন সকালে সূর্যের প্রথম যে আলো দেখি,সেই আলো হলো সূর্যের 8 মিনিট আগের আলো ঠিক সেই সময় পৃথিবীতে এসে পৌছালো।ধরুন কোন কারনে যদি সূর্য ধংস হয়ে যায়,সেই ক্ষেত্রে আমরা সূর্যকে পরবর্তী 8 মিনিট সময় ধরে আকাশে দেখবো,এর পড়ে সূর্যকে আর দেখবো না।তারমানে আমরা সেই 8 মিনিট ধরে যে সূর্যকে আকাশে দেখেছি সেই সূর্য 8 মিনিট আগের অতীতের সূর্য।



সূর্যের সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রের নাম “প্রক্সিমা সেন্টারাই” এর দূরত্ত 4.1/2 আলোকবর্ষ।হিসাব করে দেখা যায় যে পৃথিবী থেকে সূর্যে 2 লক্ষ 72 হাজার বার যাতায়াত করলে যতটা পথ পাড়ি দিতে হয়,ওই নক্ষত্রে পৌছাতে ততটা পথ পাড়ি দিতে হয়।এই হলো সবচেয়ে কাছের নক্ষত্রের দূরত্ত।



এর মানে আমরা এই নক্ষত্রের যে আলো পৃথিবীতে বসে দেখছি,তা চার দশমিক এক এর দুই আলোকবর্ষ অতীতের আলো।ওই নক্ষত্র যদি ধংস হয়ে যায় আমরা তা দেখতে পাবো ঠিক চার
দশমিক এক এর দুই আলোকবর্ষ পড়ে।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো এর আগ পর্যন্ত আমরা যে নক্ষত্রকে দেখছি তা অতীত,আসলে নক্ষত্রটি অনেক আগেই বিলীন হয়ে গেছে।আলো তার সর্বোচ্চ গতি নিয়ে আমাদের কাছে আসতে ঠিক এই পরিমান সময় লাগবে।এই হলো সূর্যের সবথেকে কাছের নক্ষত্রের দুরত্ত।


আর আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথের প্রতিবেশী ছায়াপথের নাম আ্যন্ড্রোমিডা (M-31) এই ছায়াপথটিকেও খালি চোখে দেখা যায়,বর্তমানে রাত 11.00টার পড়ে আকাশের উত্তর-পূর্ব দিকে পেগাসাস মন্ডলে একে দেখতে পাবেন।এই ছায়াপথের দূরত্ত পৃথিবী থেকে 2.3 মিলিয়ন আলোকবর্ষ এর মানে আপনি 2.3 মিলিয়ন বছর আগের কোন কিছু বর্তমানে দেখছেন।



এর বাইরে বেশিরভাগ খ-বস্তুই এতটা দূরে রয়েছে,যার তুলনায় এই দূরত্ত কিছুই নয়।মহাকাশে এমন অনেক খ-বস্তু আছে যার আলো পৃথিবীতে পৌছাতে হাজার,লক্ষ,মিলিয়ন,বিলিয়ন বছর সময় লাগে। কালপুরুষ (Orion) মন্ডলের (আদম সুরত) কোমরের বেল্টের মাঝখানের নক্ষত্রে বিখ্যাত কালপুরুষ নিহারীকা (M-42) অবস্থিত।খালি চোখে একে দেখা যায় যদিও ঝাপসা আলোর ছোপের মত।এই নিহারীকার দুরত্ত পৃথিবীতে থেকে 1,344 আলোকবর্ষ।



সম্প্রতি বিঞ্জানীরা এমন একটি ছায়াপথের সন্ধান পেয়েছেন হাবল মহাকাশ দূরবীন ব্যাবহার করে,এবং হিসাব করে দেখা গেছে যে এই ছায়াপথ থাকে আলোর যাত্রা শুরু হয়েছে আমাদের সৌরজগত সৃস্টির আগে।তার মানে দাড়ালো এই যে সেই ছায়াপথের আলো এখনো আমাদের পৃথিবীতে এসে পৌছায়নি।
আর সম্প্রতি যে ছায়াপথের সন্ধান বিঞ্জানীরা পেয়েছেন, তা হলো এখন পর্যন্ত আবিস্কৃত সবথেকে প্রাচীন ছায়াপথ।
এই ছায়াপথ আবিস্কার করতে বিঞ্জানীরা হাবল মহাকাশ দূরবীন এর তথ্য এবং কেক-1 দূরবীন ব্যাবহার করেছে।এই ছায়াপথের নাম z8_GND_5296।এই ছায়াপথের সৃস্টি হয়েছে মহাবিস্ফোরনের (Big Bang) মাত্র 700 মিলিয়ন বছরের মধ্যে।এর মানে হলো বিঞ্জানীরা মহাবিস্ফোরনের কাছাকাছি সময়ের মধ্যে পৌছে গেছে এই ছায়াপথ আবিস্কারের মাধ্যমে।



আর আমরা কোনদিন এই ছায়াপথকে দেখতে পাব না।অবশ্য এটাই মহাকাশের শেষ সীমানা নয়,আর এর শেষ সীমানা কোথায় তা আজ পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি।কাজেই আমরা মহাকাশে যা কিছুই দেখি না কেন,তার কোন কিছু বর্তমান নয় সব অতীত।

এই মহাজগত কি বিশাল তার কিছু উদাহরন দিলে এর অসীমতা সর্ম্পকে একটা ধারনা পাওয়া যাবে।যেমন মীরা নামের একটি নক্ষত্র আছে যার মধ্যে এই পৃথিবীর মত 3,900 কোটি পৃথিবীকে নাকি ভরে রাখা যাবে!



আবার সপ্তর্ষী মন্ডল নামে একটি তারা মন্ডল আছে(দেখতে প্রশ্নবোধক চিেহ্নর মত)।এর মধ্যে আমাদের সৌরজগতের মত বেশ কয়েকটা সৌরজগত লুকিয়ে রাখা যাবে!



এছাড়াও হারকিউলিস নামের একটি তারা মন্ডল আছে।যার এক কোন থেকে অন্য কোন মাপলে 26,000 কে 587606888,0000 গুন করলে যত মাইল হয় এর দুরত্ত তত মাইল।একটি নিহারীকার সন্ধান পাওয়া গেছে,এই নিহারীকা থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে 300 কোটি বছর।


কিন্তু মহাকাশ এখানেই শেষ হয়নি-তারও ওদিকে কতখানি জায়গা জুড়ে দাড়িয়ে আছে তার কিনারা আজও পর্যন্ত বিঞ্জানীরা করে উঠতে পারেননি।
৮টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জঙ্গল পরিষ্কার করে সাপ তাড়ানাে...

লিখেছেন অপলক , ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪১

নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে: পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী স্থায়ী হিন্দু অধিবাসীরা চাইলে খুব সহজে তাদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। যদি এই খবরটা সত্য হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য সেটা মারাত্মক ভয়ঙ্কর ঘটনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×