ঈশ্বর কণা (২য় পর্ব)।
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
Tweet
প্রমিত তত্ত্ব অনুযায়ী মহাবিস্ফোরনের ঠিক পর পরই (এক সেকেন্ডের লক্ষ কোটি ভাগের এক ভাগ সময়ে)এরকম উচ্চশক্তি বিতাজ করেছিল।তখন হিগস ক্ষেত্র বিরাজ করেছিলো,ঐ সময়ে হিগস বোসন ছাড়া বাকী সব মৌলিক কণাই ভরহীন ছিল।কিন্তু তাপমাত্রা আরেকটু কমার পর শক্তির বা তেজের মাত্রা কমে যাওয়ায় হিগস ক্ষেত্রও অদৃশ্য হয়ে গেল।অদৃশ্য হবার মূর্হতে এক প্রতিসাম্যের ভাংগন ঘটে এই প্রতিসাম্য ভাংগার কারন হলো হিগস ক্ষেত্র অদৃশ্য হয়ে গেলেও তার নুন্যতম শক্তির প্রত্যাশিত মান (Vacuum Expectation Value) শূন্য হয় না।
পানি যেমন জমে বরফ হয়ে হয়ে গেলে পানির অনুগুলির প্রতিসাম্য নস্ট হয়ে গিয়ে বরফের কেলাসের প্রতিসাম্যহীন (বা কম প্রতিসাম্যপূর্ন)অনুতে পরিনত হয়,তেমনি হিগস ক্ষেত্রের হিমায়নের ফলে যে প্রতিসাম্য নস্ট হয় তা হলো ভরের প্রতিসাম্য।এর আগে সব ভরই শূন্য ছিল,একটি প্রতিসাম্যময় অবস্থা অবশ্যই।হিগস ক্ষেত্রের সাথে ক্রিয়া করে একেক মৌলিক কনা একেক ভর লাভ করে একটা প্রতিসাম্যবহীন অবস্থা।কি ভাবে হিগস ক্ষেত্রের সাথে ক্রিয়া করে ভর লাভের ধারনা বিজ্ঞানীরা পেলেন?
কোয়ান্টাম ফিল্ড তত্ত্বের এর এক মূল সমীকরন বা ধারনা হলো অপরিবর্তিতা (gauge invariance) এই ধারনা অনুযায়ী সব বোসন মৌলিক কনাগুলির ভর শূন্য হবারই কথা।কিন্তু তড়িৎ-ক্ষীন নিউক্লীয় বলের বাহক বোসন কনা গুলির ভর শূন্য নয়।অথচ তড়িৎ ক্ষীন নিউক্লীয় বলের তত্তবে অপরিবর্তিতা ধরে নেয়া হয়।তাহলে কি করে এই গড়মিলের সুরাহা করা যায়? পদার্থ বিঞ্জানের আর একটি ধারনা হল স্বতঃফূর্ত প্রতিসাম্য ভংগ( Sponatneous symmetry braking) গানিতিক ভাবে দেখানো যায় যে স্বতঃফূর্ত প্রতিসাম্য ভংগের ধারনা গড ফিল্ড তত্বের সাথে সম্পৃক্ত করলে ভরহীন বোসন কনিকা ভর অর্জন করতে সক্ষম।এটাকে হিগস প্রক্রিয়া (Higgs Mechanism) বলে।
সালাস ওয়াইবার্গের উদ্ভাবিত তড়িৎ-ক্ষীন বলের বাহক মৌলিক বোসন গুলির (W+ - Z) ভর অজর্নও এই হিগস প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ঘটিত।বলা প্রয়োজন যে হিগস প্রক্রিয়া ঘটার জন্য হিগস বোসনের অস্তিত্ব আবশ্যিক নয়।অন্যভাবেও এই প্রক্রিয়া ঘটতে পারে।সালাম-ওয়াইনবার্গের তত্বে হিগস প্রক্রিয়ার আশয় নেয়া হইয়েছিলো হিগস বোসনের অস্তিত্বকে ধরে নিয়ে নয়।তাই হিগস বোসনের অস্তিত্ব প্রমান না হলেও সালাম-ওয়াইনবার্গের নোবেল পুরস্কার অবৈধ হয়ে যেত না।কারন (W+ -Z)এর হিগস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভর লাভের আগেই পরীক্ষায় প্রমানিত হয়েছে।
এর থেকেই আরেক ধাপ এগিয়ে পদার্থ বিঞ্জানীরা (বিশেষ করে পিটার হেগস) ষাট দশকের মধ্যভাগে প্রস্তাব করেন যে এমন এক ক্ষেত্র থাকা সম্ভব যার সাহায্যে সব ভরহীন কনাই ভর লাভ করতে পারে।স্বতঃফূর্ত প্রতিসাম্য ভংগের মাধ্যমে যেটা হল হিগস ক্ষেত্র।বলাই বাহুল্য এসবই ক্ষেত্র তত্বের উচ্চতর গানিতিক ভাষায় ব্যাক্ত করা হয়।
চলবে...............
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর
আলোচিত ব্লগ
ধার-দেনার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং চ্যানেল কেন গুরুত্বপূর্ণ

ব্যক্তিগতভাবে আমি কাউকে টাকা ধার দেওয়ার পক্ষপাতী নই। কারণ বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ধার দেওয়া টাকা সময়মতো বা সম্পূর্ণ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক ক্ষেত্রেই কম থাকে। বর্তমানে প্রয়োজনীয় অর্থের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন
অনশন আপডেট
আগামী শুক্রবার জাতীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ব্যারিস্টার সুমন ভাইয়ের মুক্তির দাবীতে ১ ঘণ্টা অবস্থান কর্মসূচি করার লক্ষ্য স্থাপন করেছি। এই ১ ঘণ্টা আমি কোন খাবার বা পানীয় গ্রহণ করবো না।... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন
ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।