somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কে? [গল্প]

৩০ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘরের এক কোণে মোমবাতি জ্বলছে। ঘরের সব দরজা-জানালা বন্ধ , পর্দাটাও টেনে দেয়া। ধীর-স্থিরভাবে মোমের শিখা জ্বলছে, ঘরে হলুদাভ আলো শাড়ি মেলে ধরে বসে আছে। আর আমি বসে আছি ঠিক মোমবাতিটির পাশে, পড়নে কালো শাড়ি। আচমকা আচমকা ফুঁ দিয়ে শিখা কাঁপিয়ে দিই, নিজের ছায়া কেঁপে উঠতে দেখি।
গতবছর এই দিনে মেয়েটা নিজের কোল থেকে পড়ে গেলো, বয়স হয়েছিল দিন কতক। কোল থেকে পড়েই মরে গেলো, একটু কাঁদতে চেয়েছিল শরীরে শক্তিটুকুও পায় নি। কিভাবে পড়েছিল আমার হাত থেকে আমি জানি না, মায়ের হাত থেকে এর আগে কোন শিশু পড়ে গেছে? সম্ভব না। সেদিন জেনেছিলাম সবকিছুতে সফল মেয়েটির একটি ব্যর্থতা সব ঢেকে দিবে, সব গোগ্রাসে খেয়ে ফেলবে। কিন্তু স্বস্তির ঢেঁকুরটা কে তুলেছিল সেদিন?
স্বামী - সবটুকু উজাড় করে ভালোবাসতো যে, অচেনা পুরুষ হয়ে উঠলো। ও আমাকে ভয় করতে শুরু করলো নাকি ঘৃণা বুঝার সুযোগটা দেয় নি। নিজের মা-বাবাই যেখানে বারবার বলতো জগতের “ব্যর্থ”,“জঘন্য”, “নিকৃষ্ট” মা আমি,আমার বেঁচে থাকা মানায় না, তখন বছর কয়েকের এক পুরুষকে দোষ দি-ই কি করে। যার নব্য ভালোবাসার বস্তুটি আমি অবহেলায় খুঁইয়ে ফেলেছি।
তখন বেশ সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছিলাম, কানটা কেঁটে ফেলবো নাকি হাতের রগটা। কথা শুনতে হবে না,চারপাশটা Mute করে দিতাম। হাতের রগটা কাটলে টিভিটাই অফ হয়ে যেতো।
টিভি অফ করার সিদ্ধান্তই নিয়েছিলাম, বেঁচে গেলাম। এরপর আর কেউ আমাকে কোনদিন কিছু বলে নি, একটা ঘর পেলাম নিজের বাসায়। পুরাতন চাকরিটা ছেড়ে নতুন আরেক জায়গায় কাজ করা শুরু করলাম।
মেয়ের চেহারাটা মনে করতে চেষ্টা করি রাতের বেলা ঘুমাবার ঠিক আগে, মনে করতে পারি না। জন্মানোর কয়েকদিন পরে কোলে পেয়েছিলাম, কোলে পাবার দুই দিন পরেই তো... আমি যদি আরো অসুস্থ হতাম, ওকে যদি আরো কিছুদিন নিবীর পর্যবেক্ষণে রাখতো তাহলে কতই না ভালো হতো। মেয়েটার নাম ঠিক করে রেখেছিলাম “নিশি” রাখবো। আমার সবকিছু নিশিতে রেখেই চলে গেলো।
মা তুই কোনদিন আমাকে মনে করবি? মনে করলে কোনদিন মাফ করবি? আমি তোর মা’র থেকে খুনি একটু বেশি।
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১০:৪১
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধার্মিক কে অনুসরণ করুন ভন্ডকে নয় ।

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮

আমরা প্রায়ই নিজেদের ধর্মপ্রাণ জাতি বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসি। কিন্তু প্রশ্ন হলো ধর্ম কি সত্যিই আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও সত্যের পথে পরিচালিত করতে পারছে, নাকি কিছু অসভ্য মানুষ ধর্মকে নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য সাইলেন্ট ইকো

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৫:১০


এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ফিকশনাল ইনভেস্টিগেটিভ ক্রাইম থ্রিলার। গল্পের সমস্ত চরিত্র, প্রতিষ্ঠান, স্থান, সাল ও অপরাধের মোটিভ লেখকের কল্পনানির্ভর। বাস্তব কোনো ব্যক্তি, পেশাজীবী বা অমীমাংসিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যাপাসিটি চার্জের পর এবার নজর খাম্বায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৩


বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই । বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট বেতনে সংসার চালান কিংবা যেসব পরিবারে কেবল একজন মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আছেন, তাদের মাসে প্রিপেইড মিটারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৫৯



কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদটি সংবিধানের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই বেশি হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির জন্য সুপারিশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৮



গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনলাইন সকল পত্র-পত্রিকা, টিভি নিউজ সহ এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেইখানে এক ব্যক্তির রাজনীতি, সাংসদ, সংসদ, চরিত্র, বিবাহ, কাবিন নামা, প্রথম স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×