somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সেদিনের পৌনে সাতটা - শাকিল মাহমুদ

২৫ শে মে, ২০১৪ সকাল ১১:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :






আহ । আজ অনেক বাতাস বইছে । ঠিক বুজে উঠে পারছিনা , তুমি না থাকা সত্ত্বেও, কেন জানি মনে হয় তুমি আমার পাশেই বসে আছো । প্রকৃতি ,চন্দ্র, সূর্য, তারা সবাই আমাকে বারবার তোমার কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে । তবু তুমি পাশে নেই । তবে তুমি , যেখানে বসে হাত রেখেছিলে , সেখানে তোমার হাতের ছাপটি প্রাইয় দেখি । তোমার হাতের ছাপের উপর , আমি হাত রেখে , তোমার হাতকে অনুভব করি ।
সেদিন তুমি ছিলে মোর পাশে বসে । তবে মাঝে একটু গ্যাপ , নতুন জুটি ছিলাম বলে । বাতাস বয়েছিল একটু হালকা ঝড়ও বেগে । তোমায় কাছে পেয়ে , চেয়েছিলাম চিরস্থায়ী কাছের প্রিয় মানুষটি করে নিতে । ঠিক তখন উকি দিচ্ছিল এক তারা । সম্ভবত শুখতারা । ধীরে ধীরে আলো বাড়তে থাকে শুকজতারার । শুখতারা আলোর মাধ্যমে আলো বয়ে আনে সবার জীবনে । তাই তোমায় অনুরাগী সুরে , বলেছিলাম ,“তোমার দুই নয়ন বন্দ করে , কিছু চাইতে” । হয়তো ইচ্ছা পূরণ হত যদি তুমি চাইতে ।
সেদিন তুমি অনেক হাসছিলে ,যা তোমার মুখের গঠনে দেখা গিয়েছিলে । তবে প্রথমে বুঝতে পারিনি , পরে যখন বাতাস বইছিল , তখন দেখলাম তুমি তোমার দুই নয়ন বন্ধ করে আছো । তোমার ঘন কালো কেশ বাতাসে উড়ছিল , আর তোমার মুখও মণ্ডল হাসি ধারন করছিলো । দেখে খুবই দারুন লাগল । আজ তুমি না থাকা সত্ত্বেও সেই নিকট সৃতি বাস্তব রুপ ধারণ করছে বারবার । যখন বাতাস বইছিল তখন ,গাছপালা, ফুল সব কেমন জানি দোল খাচ্ছিল । গাছগুলো সব একতালে , এক সুরে নাচ্ছিল । এর কারণটা হোল , প্রকৃতি আমাদের দুজনকে একসাথে পেয়ে ,উচ্ছ্বাসিত হয়ে এক সুরে নেছে উঠেছিলো । যখন বাতাস বয়ে না, তখন সবকিছু থেমে যায় । ঠিক তেমনি যখন তুমি পাশে থাকো না ,তখন সব কিছু থেমে যায় । ঠিক তেমনি যখন তুমি পাশে থাকো না, মনে হয় সময় থমকে যায় । কিছুক্ষণ পর বিকেল নেমে এলো । বিকেলের অনুভুতি ছিল আলাদা । বিকেলে অস্ত যায় সূর্য । সূর্য পুরোদিন সবাইকে আলো দিয়ে বিকেলে নেয় । সাথে বিকেলেও বিদায় নেয় । বিকালের শেষকালে লাল আবরণ ধরেছিল , কারন সবকিছুর শুরুটা কিন্তু সেখান (লাল) থেকেই ।
তবুও বিকাল বিদায় নেয়নি । আমাদের মনের গহিনে (সৃতিতে) বিকেলবেলা যে বিদায় নেয়নি । তারপর তোমাকে দেখতে দেখতে বিকাল শেষ হয়ে গেল ,এবং সন্ধ্যা নেমে এলো । অবশ্য এখনও সন্ধ্যার মধ্যে আমি সেই তোমার চিরচেনা মুখানা দেখতে পাই । সেইদিন ছিল পৃথিবীর খুব কাছের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছাঁদের আলয় ডাকা । তুমি তখন আমার পাশেই বসে ছিলে, কিন্তু বারবার মনে হচ্ছিল তুমি আমার দিকে এগিয়ে আসছিলে । কারণ চাঁদের আলোয় তুমিও খুব আলোকিত হচ্ছিলে বলে ।
দিন পার হল , রদ্র কতবার অস্ত নিলো , তবু একবারও শান্ত ছিল না এই মন । তুমি ছিলেনা বলে এই মন ছিল অসহায় এবং অশান্ত । অনেকদিন পর এক বিকালে বইল ঝড়ও হাওয়া, হল ঝড় , হল অজর বৃষ্টি । যখন বাতাস বইছিল , মন ছিল খুব কঠোর ,তবে আবেগি । বারবার মনে হচ্ছিল তুমি আমার খুব কাছেই আছো । আমি তোমায় চোখ বন্ধ করে দেখতে পাই । ঝড় হয়েই চলছে , সাথে বইছিল বালি এবং যাবতীয় প্রাকৃতিক পদার্থ । মানে বাতাসে গোলমালের মিশ্রন , কারণ আমার মনের গোলমালের কারণে সবকিছু কে তাই মনে হয় । তারপর কিছুক্ষণ চুপ করে দাড়িয়ে রইলাম , আস্তে আস্তে বৃষ্টি পড়তে শুরু করল , এক সময়ে অনেক জোরে পড়তে লাগল । কারণটা হল তুমি চলে যাওয়া সত্ত্বেও ,আমি নিজের কান্না ,আবেগ থামিয়ে রাখতে পারিনি । বৃষ্টির মাত্রা এতই ছিল , যে মনে হচ্ছিল সব কিছু ডুবে যাবে । কারণ একে তো বৃষ্টির ফোঁটা ছিল ভারি এবং মোটা , কারণ বৃষ্টির মত আমার দুঃখের ভারটাও বেশি ছিল । অবশেষে বৃষ্টি থামল তবে মনে বৃষ্টি থামেনি ,তাইতো চোখ দিয়ে অশ্রু ঘড়িয়ে পড়ে ।
বাসায় ফিরে উদাসীন জীবনে প্রবেশ করলাম । চোখের অনল বুজতে পারল আমার সুফল চাচ্চু । অনেক কিছু বুজিয়ে সান্ত্বনা দিলেন । তবে আমায় বলেছিল পৃথিবীটা গোল , অতএব একপ্রান্তে বিদায় নিলে , আবার অন্য প্রান্তে দেখা হবে । কারন পৃথিবীটা গোল , জীবন হোয়ত বাঁক নেয় , তবে রাস্তাটা কিন্তু ঠিক থাকে । অতএব মন খারাপ করে কোন লাব নেই । দিনের পর দিন পার হতে রইল । বরাবর সতেরও দিন পার হয়ে গেল । সকাল হবার আর মাত্র পনেরো মিনিট বাকি । অর্থাৎ এখন বাজে পৌনে ছয়টা । আমি অবশ্য এখন ছাদে বসে আছি । একটু আগেই চলে এসেছি , কারন আমি প্রত্যেক দিনের পৌনে ছয়টায় তোমার নিকট অপেক্ষায় থাকি । তবে প্রত্যেক সন্ধ্যায় পৌনে শাতটায় ছাদে উঠে বসে থাকি , কখন তোমার কণ্ঠ আমায় পেছন থেকে ডাক দেবে । আর আমার প্রতি হাত বাড়িয়ে দেবে , এবং আমায় ফিরিয়ে নেবে তোমার আত্মার সম্মেলনে তোমার জীবনে । অবশেষে সূর্য পৃথিবীর অন্য এক প্রান্ত ঘুরে আমাদের এই প্রান্তে উঠল ।
আমি তোমার অপেক্ষায় আছি । মনে রেখো সূর্যটাও কিন্তু পৃথিবী ঘুরে , বিভিন্ন জায়গায় , এবং শেষে আলো দেয় মানবের জীবনে । নুস্রাত আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছি ,তুমি আসবে কিন্তু ।
আমি চিরদিন তোমার অপেক্ষায় থাকবো , আর তুমি আমার নিতিময় প্রীতি হয়ে থাকবে ,ঠিক যেমন বিকেলবেলার রদ্র পুরো বিশ্বর কাছে আলোকিত হয়ে থাকে...............।
















০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ২২ সালে লিখেছিলাম: যে শঙ্কা ছিলো তা আজকের বাস্তবতা

লিখেছেন অর্ক, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



আমাদের কওমি জননী সত্যি কি অসাম্প্রদায়িক? হলে কতোটা? প্রশ্ন থাকলো সবার কাছে। তেতুল হুজুর মাওলানা শফি খুব ভক্তিভরে তাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছিলেন। এমনি এমনি তো আর নয়। অত্যন্ত মহব্বত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×