somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি - মানব জগতের মানুষ

২০ শে মে, ২০১৫ রাত ৮:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জানিনা আজ কেন মনে এই প্রেক্ষাগৃহ নিয়ে অন্য রকম এক অনুভূতি জেগে উঠল।
হয়ত পরীক্ষার আগে প্রত্যেক মানবের মাথায় এই রকম কিছু অনুভূতি কাজ করে থাকে, অবশ্য সকল মানব এক রকম নয়। অতএব সকলের মনে সকল সমমান চিন্তা না আশাটাই বেশ সাবাভিক । প্রত্যেক সন্তানের বাবা-মা তাদের কে নিয়ে স্বপ্ন দেখে তারা যেন ভবিষ্যতে বড় চারিত্রিক কেউ হতে পারে । ইদানিং দেখা যায় , তারা চায় সন্তান যেন বড় ভারী সার্টিফিকেট এর উত্তরাধিকারী হয় । কিন্তু তারা তাদের অতি মাত্রা স্বপ্ন পূরণের চিন্তার কারণে এটাই ভুলে যায় যে ভারী সার্টিফিকেট শুধু কাজে লাগে , কোথাও চাকরি নিতে , হয়ত কোথাও বিবাহ সম্পর্ক সম্পূর্ণ করতে গেলে, কিন্তু মানুষ হতে এবং মানবিক চরিত্র গঠন করতে সার্টিফিকেট কোন প্রয়োজন পড়ে না ।

কাল এই বছরের শেষ পরীক্ষা , ক্লাস শেষে শিক্ষক মাথায় আশীর্বাদ এর জন্য হাত ভুলিয়ে দিয়েছেন , এবং বলেছিলেন রেজাল্ট যেন ভালো হয় আমার শ্রমের সম্মান তা রাখতে চেষ্টা করবি। ঠিক এক রকম আর কত জনের সাথে হয়েছে । পরীক্ষার আগ মুহূর্তে বাবা-মা মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে একটু ভিন্ন মাত্রার বাক্য বলে থাকেন , পরীক্ষার রেজাল্ট যেন ভালো হয় ,নইলে এই সমাজে সকলের সাথে স্বাভাবিক সমান ভাবে এক হয়া যাবে না । কিন্তু এখানেও তারা ভুলে যায়, যে সমাজের বড় দালান-কোঠা বসবাস কারিরা কেবল জীবিকার সৌভাগ্যবানের অংশীদার , তবে ইতিহাস প্রবর্তনের অংশীদার নয় । পরীক্ষার গৃহে প্রশ্ন আসে ভাগ্য নির্ভর হয়ে , তবে তা একালের কেউ মেনে নিতে চায় না । তাই আজ অনিবার্য নির্বিকারে ঘটনা ঘটেই চলছে । আজ কোথাও ঠাই পেতে গেলে , হাতে করে অনিবার্য ওজনের খেসারৎ নিয়ে যেতে হয় , নইলে চাকরি তো দূরের কোথা , ঠাই পাওয়া বেশ দূর্বার হয়ে যায় । যদি পরীক্ষার উচ্চ প্রচেষ্টা আর চিন্তা সকলে বুঝত তাহলে অনিবার্য ওজনের খেসারৎ নিয়ে যেতে হত না ।
একবার চিন্তা করে দেখা যাক প্রেক্ষাগৃহ এর প্রধান নিয়ম তো হওয়ার কোথা ছিল সকল মানব যেন এক হয়ে থাকে সকলের জীবনে , তবে তা হয়নি । তাই তো আজ বিভিন্ন দেশের জাতির পিতা , জাতির মা বাগ করে নিয়েছে নিজেদের দেশের ভূমি । যদি হত এক , তবে হত সর্বার্থে ঐক্য । তা না হওয়ায় আজ জন্ম নিয়েছে ভিন্ন সমাজ । খুব দুঃখ হয় , কেননা সকল তহ একি প্রজাতির মানুষ তবু কেন রয়ে গেল বিছিন্ন সম্পর্ক । সকল যদি এক হত তবে রইত না এত ভাগ বস্রতা ।

সুখ আর দুঃখ হল হত স্বতঃ সম্পর্ক , যদিও এরা একে অন্য কে ছাড়া সামনাসামনি আসে না ,তবে এরা দুজনই দুজনার ব্যাবহারের প্রতিচ্ছবি । আমি সকলের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি আমায় ক্ষমা করে দিতে ,ক্ষমা করে দিতে তাদেরও , যারা কোন কারন ছাড়া অন্নের মনের অরন্নে পাপি হয়ে জীবন চালিয়ে যাচ্ছে । কাগজ হচ্ছে একটি সীমিত পদার্থ ,যদিও এটি পুনরায় তইরি করা যায় রিসাইকেলের মাধ্যমে , তবে এটি আবার ব্যাবহার যোগ্য হয়ে উঠে । কিন্তু জীবন , এর মাত্রা ,সুযোগ , আকাঙ্খা , ভালোবাসা সবই তো একবার একবার ব্যাবহার প্রযোজ্য । মানব সমাজ তা জেনেও কিছু করেনা, কেবল অসহায় প্রকৃতির স্বভাব ধরে রাখতে চেষ্টা করে । অতএব জীবনের নমুনা হয় একবার , ভিন্ন মানব দের ক্ষেত্রে হয়ে উঠে বিভিন্ন বার । তাই সকলের উচিত কাগজের জোর কে বাধ দিয়ে , জীবনের জোর বাড়িয়ে দেয়া । কেননা জীবনের সময় সীমিত , আর কাগজের সময় বহুকাল , তাই জীবনের জোরকেই প্রাধান্য দেয়া বেশ জরুরী । আসুন আমরা সকলে জীবনের প্রতি আবেগে লিপ্ত হই, নইলে আমাদের মৃত্যুর পর ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যাবেনা। মৃত্যুর পর মাটির সাথে আমাদের দেহ মিশে জাবে, কারণ আমরা মাটি দ্বারা তৈরি ।
কাগজের ঠিকানা খুঁজে যাওয়া যেতে পারে, তবে দেহর ঠিকানা সীমিত সময়ের পর নাও খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। অবশেষে একটা করণীয়ও কাজ সকলের করা উচিৎ তা হল সার্টিফিকেট এর পাশা পাশি জীবন শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরী ।

একজন মানব হাসতে কিন্তু একা সম্ভব হয় , কেননা হাসি হল পানির মত , পানি কে নড়া ছড়া না করতে দিলে পানির স্রোতের আওয়াজ শুনা অসম্ভব , ঠিক তেমনি কাউকে হাসাতে গেলে দ্বিতীয় বেক্তির প্রয়োজন পড়ে , একজন হাসির কিছু বলবে, আরেকজন হাসির ব্যাখ্যা অনুভূতি করে হাসবে ।

বিদায়ের ঘণ্টা বাজে নি তবে একদিন বাজবে, তাই আমি সকলের কাছে নিজ স্বেচ্ছায় ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি , এবং অনুরোধ করছি তারাও যেন অন্য সকল কেও ক্ষমা করে দেয় ।আমি জীবন কে উপভোগ করতে চাই, আমি সার্টিফিকেট এর মাধ্যমে জীবন কে উপভোগ করতে চাই না, কারন তা হলে জীবন আমার অন্ধকার হয়ে যাবে ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মতামত পোস্ট: ২২ সালে লিখেছিলাম: যে শঙ্কা ছিলো তা আজকের বাস্তবতা

লিখেছেন অর্ক, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:৩১



আমাদের কওমি জননী সত্যি কি অসাম্প্রদায়িক? হলে কতোটা? প্রশ্ন থাকলো সবার কাছে। তেতুল হুজুর মাওলানা শফি খুব ভক্তিভরে তাকে কওমি জননী উপাধি দিয়েছিলেন। এমনি এমনি তো আর নয়। অত্যন্ত মহব্বত... ...বাকিটুকু পড়ুন

"রিকন্সিলিয়েশান"....ইহা কি খায় নাকি মাথায় দেয়?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:০০



সত্যি সত্যিই তাদের সুযোগ ছিলো ২৫ শে মার্চ এর পর যাবতীয় অপকর্ম জনগণের কাছে স্বীকার পূর্বক,
/মুক্তিযুদ্ধে তাদের দ্বারা নৃশংসতার শিকার জনগণের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা,
/তাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে এবং,
/সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×