somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নেশার দৌরাত্ম্যেই মধ্যেই প্রিয় দেশ।

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইয়াবা একটি ঘাতক নেশা। এ নেশায় কাউকে পেলে আর সহজে রেহাই পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। তরুণ-যুবকদের মধ্যে এ নেশাদ্রব্যের প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেকে নেশার কবলে চলে গেছেন বলে প্রকাশ। কোনও কোনও শিক্ষকও ইয়াবাতে আসক্ত হয়ে পড়ছেন। অনেক ব্যবসায়ীও ইয়াবার নেশায় মজে ব্যবসা-বাণিজ্য নাকি খুইয়ে বসেছেন। একশ্রেণির ছাত্রীও ইয়াবা ছাড়া চলতে পারেন না বলে জানা গেছে। অনেকে ছাত্রাবাস ও ক্লাস ফেলে ইয়াবার পেছনে ছোটেন। অভিভাবকদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থে না কুলোলে চাঁদাবাজি, ছিনতাই, রাহাজানি, এমনকি চুরি-ডাকাতিতেও জড়িয়ে পড়ছেন অনেক শিক্ষার্থী ইয়াবার জন্য। এদের মধ্যে কেউ কেউ ইয়াবার ব্যবসাতেও নাকি নিয়োজিত হয়ে পড়েছেন। অথচ এই সর্বনাশা ইয়াবা মানুষের মেধাশক্তি বিনষ্ট করে ফেলে। কোনও কাজে মনোযোগ থাকে না। জীবনীশক্তি ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। অনেকে নিজের জীবন সম্পর্কেও হতাশ ও অনাগ্রহী হয়ে পড়েন। বাড়ির কথা মনে থাকে না ইয়াবায় আসক্তদের। এমনকি মা-বাবা, ভাইবোনদেরও নাকি মনে রাখতে পারেন না বিনাশী নেশা ইয়াবা আসক্তরা। এরা ধীরে ধীরে ক্ষুধামন্দায় ভোগেন। শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। শরীরে নানা অসুখ-বিসুখ বাসা বাঁধে। লেখাপড়াসহ সব কাজেই অমনোযোগী হয়ে পড়েন ইয়াবা আসক্তরা। অর্থাৎ ইয়াবার নেশায় যাদের পায় তারা আর মানুষ থাকেন না। সব কাজে তাদের মধ্যে মারাত্মক ঔদাসীন্য দেখা যায়। এভাবেই এই সর্বনাশা ইয়াবা আমাদের সম্ভাবনাময় তরুণসমাজকে ধ্বংসের দিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের তরুণ ও যুবসমাজ কিভাবে এর কবল থেকে রক্ষা পাবে তা সমাজবিদ ও সচেতন মানুষকে চিন্তিত করে তুলেছে। এই ইয়াবার ছোবল ভয়াবহ আকার ধারণের জন্য সামাজিক অপরাধ ও অবক্ষয়ও দ্রুত বাড়ছে বলে সমাজচিন্তকদের ধারণা।
ক্ষমতাসীন দলের সমর্থক বলে পরিচিত একটি দৈনিকে গত বৃহস্পতিবার ইয়াবা আগ্রাসনের ভয়াবহ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৪২টি পাচার পয়েন্ট, মিয়ানমার সীমান্তে ২৩টি পয়েন্ট ও ৩৮টি কারখানা রয়েছে। নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করে বাংলাদেশের মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ইয়াবা। ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে গডফাদাররা। ঢাকা মহানগর পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের বিরামহীন অভিযান সত্ত্বেও থামছে না ইয়াবাবাণিজ্য। কতিপয় প্রভাবশালী গডফাদার ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এরা মহানগরী ঢাকা ও চট্টগ্রামের অভিজাত এলাকায় বাসাভাড়া নিয়ে ইয়াবাসহ আরও কয়েক রকম নেশাদ্রব্যের ব্যবসা পরিচালনা করেন। এই গডফাদারদের মধ্যে অনেকে রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের চিহ্নিত করা গেলেও পাকড়াও করা মুশকিল হয়ে পড়ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পক্ষে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপদস্থ অবসরপ্রাপ্তদেরও কেউ কেউ মাদকদ্রব্য ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া পুলিশসহ আরও কয়েকটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িতে পর্যন্ত ইয়াবার মত মাদকদ্রব্য পরিবহনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সবমিলিয়ে ইয়াবা ব্যবসা জটিল আকার ধারণ করেছে। ইয়াবার মত মারাত্মক মাদক ঢাকা মহানগরী ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরের অলিগলিতে খুব সহজেই পাওয়া যায় বলে পত্রিকার রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। ইয়াবা ছোট ছোট ট্যাবলেট ফর্মে পাওয়া যায় বলে এটি সহজে বহন করা যায়। একজন লোক শার্ট-প্যান্টের পকেটে কয়েক হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট সহজেই বহন করে নিয়ে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম। আর হাত বাড়ালেই মাদক ট্যাবলেট ইয়াবা নাগালের মধ্যে চলে আসে। ফলে মুড়িমুড়কি যেমন মুদির দোকানে পাওয়া যায়, তেমনই ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যাচ্ছে সর্বত্র। শুধু এর দামটা বেশি। তাতে কী? নেশাখোরদের কাছে টাকা কোনও ব্যাপার না। তাদের চাই কেবল ট্যাবলেট। ইয়াবা। ফেন্সিডিলের বোতল। শুধু মিয়ানমার সীমান্তেই নয়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের অসংখ্য জায়গায় ফেন্সিডিল কারখানা স্থাপিত হয়েছে। বসেছে ইয়াবাসহ আরও কয়েক রকমের মাদক বিক্রয় পয়েন্ট। এসব পয়েন্ট থেকে ইয়াবা-ফেন্সিডিলসহ প্রতিদিন মাদক ঢুকছে বাংলাদেশে। ধ্বংস হচ্ছে আমাদের দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ।
এই মাদকের ছোবল থেকে তরুণসমাজকে রক্ষা করতে না পারলে সমাজব্যবস্থা যেমন হুমকিতে পড়বে, তেমনই দেশ হবে মেধাশূন্য। এমনকি কষ্টার্জিত আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব পর্যন্ত হয়ে পড়তে পারে বিপন্ন। তাই যেকোনও মূল্যে রুখতে হবে ইয়াবাসহ সবরকম মাদকের আগ্রাসন। প্রতিহত করতে হবে মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১০:৫৩
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জামায়াতের দ্বিচারিতায় পরিপূর্ণ রাজনীতি

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ২২ শে জুলাই, ২০২৬ ভোর ৫:২৮


১৯৪১ সালে ব্রিটিশ ভারতের লাহোরে ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদূদী ‘জামায়াতে ইসলামী’ গঠন করেন। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এটি ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধার্মিক কে অনুসরণ করুন ভন্ডকে নয় ।

লিখেছেন কিরকুট, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৮

আমরা প্রায়ই নিজেদের ধর্মপ্রাণ জাতি বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসি। কিন্তু প্রশ্ন হলো ধর্ম কি সত্যিই আমাদের নৈতিকতা, মানবিকতা ও সত্যের পথে পরিচালিত করতে পারছে, নাকি কিছু অসভ্য মানুষ ধর্মকে নিজেদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্যাপাসিটি চার্জের পর এবার নজর খাম্বায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৩


বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই । বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট বেতনে সংসার চালান কিংবা যেসব পরিবারে কেবল একজন মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আছেন, তাদের মাসে প্রিপেইড মিটারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৫৯



কে হবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি?

বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদটি সংবিধানের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ। কিন্তু দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন যোগ্যতার চেয়ে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতেই বেশি হয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাকরির জন্য সুপারিশ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৫৮



গত কয়েকদিন যাবত ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনলাইন সকল পত্র-পত্রিকা, টিভি নিউজ সহ এমন কোনো স্থান বাদ নেই যেইখানে এক ব্যক্তির রাজনীতি, সাংসদ, সংসদ, চরিত্র, বিবাহ, কাবিন নামা, প্রথম স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×