মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়ে গেছে। চোখের সামনেই হয়েছে অনেক উত্থান-পতন। শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই নয়, বিবর্তন ঘটেছে সামাজিক অবকাঠামোতেও। জনগণের কল্যাণ ও ভাগ্য পরিবর্তেনের কথা বলে বরাবরই ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে। চড়াই-উতরাইও তো আর কম হয়নি। কিন্তু সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন ঘটেনি। ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে একশ্রেণির সুযোগসন্ধানীর। তারা জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের কথা বলে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করে নিয়েছেন। আর বরাবরই আশাহত হয়েছেন দেশের সাধারণ মানুষ।
এ প্রসঙ্গে আমার ইংরেজি স্যারের কথা বারবারই মনে পড়ে। মরহুম মনসুর উদ্দীন। তিনি ক্লাসে প্রায়শই খেদোক্তি করে বলতেন, ‘অনেক বড় বড় স্বপ্ন ছিল আমার। এ জন্য লেখাপড়াসহ চেষ্টা-চরিত্র কম করিনি। ছুটেছি এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তরে। কিন্তু ‘ইঁদুর কপালে’র শিকে আর ছেঁড়েনি। আমি যে মনসুর ছিলাম সে মনসুর রয়ে গেছি। ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে রাজ কপালেদের। কিন্তু সে কপালটা আমারই হওয়ার কথা ছিল’। তার খেদোক্তির সাথে সৈয়দ মজতুবা আলীর ‘পন্ডিত মশাই’ গল্পের ২৫ টাকা বেতনধারী পন্ডিত মশাইয়ের খেদোক্তির অনেকটা মিল রয়েছে। যা তাদের আত্মঅবমাননা বলা ছাড়া কোনো উপায় আছে?
আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটেছে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য অনেক কিছুই করেছে। প্রতারিত ও প্ররোচিতও কম হয়নি। বারবার আশায় বুক বেঁধেছে। কিন্তু ‘গুড়ে বালি’ পড়তে সময় লাগেনি। জনগণের কাছে কাজ বাগিয়ে নেয়ার পর রীতিমত ‘অর্ধচন্দ্র’ই দিয়েছে এসব জনগণের স্বঘোষিত ভাগ্য বিধাতারা। ভাগ্যাহতদের ভাগ্যে এর চেয়ে বেশি কিছু জোটেনি। রাষ্ট্র ও সমাজের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে বাজিকরদের হাতে। আর এই লুটেরা ও বাজিকররাই স্বঘোষিতভাবে ভাগ্যের বরপুত্র। এখন সবকিছুর নিয়ন্ত্রণই তাদের হাতে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



