somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি ভালোবাসার মৃত্যু ...........

১৮ ই জুন, ২০১৩ রাত ১২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সজলের বাবা অসুস্থ। সজল আমার কলেজের বন্ধু, খুবই কাছের। এখন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ওর বাবার অপারেশনের জন্য প্রয়োজন ১০ লক্ষ টাকার। খুব ছোটাছুটি করেও খুব বেশি সংগ্রহ করতে পারেনি ও। যাই হোক, টাকা সংগ্রহের ব্যাপারেই ওর আমার কাছে আসা, আমার ক্যাম্পাস-ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। শত চেষ্টা করেও কোন হল থেকেই আশানুরূপ কিছুই পাচ্ছি না আমরা। এত কম টাকা সংগ্রহ হচ্ছে যে, ওর হাতে তুলে দিতে আমার লজ্জায় মাথা হেট হয়ে আসছে। একে তো ক্যাম্পাসে গরমের ছুটি চলছে, তারপর আবার হলগুলো থেকে টাকা সংগ্রহ করার মতো সাহায্যকারী হিসেবে কাউকেই পাচ্ছি না, সবাই বাড়িতে চলে গেছে। কার্জন হলের খোলা মাঠে দাড়িয়ে হতাশ আমি। কি করব কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না। এমতবস্থায় অণু’র ফোন-
অণুঃ কোথায় তুমি?
আমিঃ এইতো কার্জন হলে। সজলের ওই কাজটাতেই আছি। কিছু বলবা?
অণুঃ (ইতস্তত বোধ করছে, কিন্তু মনে হচ্ছে কিছু বলবে) ও ব্যাস্ত?? আচ্ছা ঠিক আছে তাহলে পরে কথা বলবো।
আমিঃ না, তুমি বলতে পারো। আমি এখন কিছুটা ফ্রি আছি।
অণুঃ (কান্নাজড়িত কণ্ঠে) আগামিকাল আমাকে দেখতে আসবে।
(বুকের ভিতর হটাৎ ধক করে উঠলো। কিছু একটার শূন্যতা অনুভব করলাম সঙ্গেসঙ্গেই। আবেগ ধরে রাখাটাই এখন বড় দায়।)
আমিঃ ও আচ্ছা, এই ব্যাপার। চিন্তা করো না। আরে পাগলি, দেখতে আসলেই তো আর বিয়ে ঠিক হয়ে যাচ্ছে না, তাই না?
অণুঃ তুমি প্লিজ বুঝতে চেষ্টা করো আমার মনের অবস্থাটা।
আমিঃ আচ্ছা বুঝলাম। ব্যাপারটা এড়িয়ে যাওয়ার তো কোন উপায় নেই। তুমি বরং তোমার আব্বু-আম্মুর সাথে কথা বল। আমি রাখছি, রাতে কথা হবে।

ফোন কেটে দেওয়ার পর নিজেকে শান্ত রাখাটা আমার জন্য খুবই কষ্টের ছিল। সংবাদটা যেন মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে আসলো। চারপাশটা ঘুরতে আরম্ভ করল তৎক্ষণাৎ। তখনও আমার কানে ভেসে আসছে এখনো টাকা সংগ্রহ বাকি জগন্নাথ হল, শহিদুল্লাহ হল, সূর্যসেন হল, মহসিন হল, এস এম হল...............সবকিছুই মিলে মিশে একাকার হয়ে যাওয়ার অবস্থা।

কিছুক্ষণ পর সংবিত ফিরে পেলাম সজলের কথায়......
সজলঃ কি রে, তোকে চিন্তিত মনে হচ্ছে। কি হয়েছে?
আমিঃ আরে কিছু না দোস্ত। চল অন্য হলগুলোতে যেয়ে দেখি কি অবস্থা।
সজলঃ তোর শরীর খারাপ মনে হচ্ছে। তুই এক কাজ কর, হলে যেয়ে বিশ্রাম নে। আমি এদিকটা দেখছি।
আমিঃ না দোস্ত কিছু হইনি আমার। তুই চল।

সজলের কাজ শেষ হতে অনেক দেরি হয়ে গেল, ততক্ষনে অণু ঘুমিয়ে পড়েছে মনে হয়। আমি আর ফোন দিলাম না। রুমে ঢুকলাম অজস্র চিন্তা আর খারাপ লাগা নিয়ে। মাথার ভিতর ঘুরপাক খাচ্ছে অনেক কিছু। কোন সমাধানে আসতে পারছি না। কোনোমতেই না। কিই বা করব আমি? নিম্নবিত্ত পরিবারে বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে আমি। সমস্ত আশা ভরসা অথবা অবলম্বন বলা যেতে পারে নিঃসন্দেহে। এত কিছুর পরেও কি করে আমি এই মানবসৃষ্ট কিন্তু অসম্ভব শক্তিশালী ধর্মের বেড়াজাল ভেঙ্গে অণু’কে নিয়ে আসবো??? সমস্ত পৃথিবী, আমার পরিবার সবাই আমাকে ধিক্কার দেবে, পদদলিত করবে আমার ভালবাসাকে। নাহ সম্ভব না। কিছুই সম্ভব না। আমাকে মাফ করে দাও অণু। আমি তোমার জন্য কিছুই করতে পারলাম না। ভীরু কাপুরুষ আমি। তোমার সমস্ত ঘৃণা আমার জন্য উপহার হিসেবে তুলে রেখ, কোন এক সময় নিয়ে নেব।

আজ হৃদপিণ্ডটা দুমড়ে মুচড়ে বের হয়ে আসতে চাইছে কষ্টে। রাতের অন্ধকারে নিরবে-নিভৃতে মরে যাওয়া দেখছি একটি “অকৃত্তিম ভালোবাসা”।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের "ইসলামী" বই - নমুনা ! আলেমদের দায়িত্ব

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১০ ই মে, ২০২৬ সকাল ৮:৪৭

আমাদের দেশের বিখ্যাত চরমোনাইয়ের প্রাক্তন পীর সাহেব, মাওলানা ইসহাক, যিনি বর্তমান পীর রেজাউল করিম সাহেবের দাদা, এর লেখা একটা বই , "ভেদে মারেফাত বা ইয়াদে খোদা"। এ বইটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×