''ডেইরী গেট নেমেই আড়মোড়া ভাঙ্গে সাদী। এটা এক ধরণের প্রস্তুতি, কিছুক্ষণ হলের সামনে দাঁড়াতে হবে, রুনা নামবে। খুনসুটি শুরু করবে মুড ভাল থাকলে, না থাকলে টাইম বোমার মত টিক টিক করতে থাকবে। ''
লিখার সময় সাদী ভাবতে থাকে, লিখতে গেলে সম্পর্ক এবং সম্পর্কের বাইরের ঘটনাগুলো কেমন যেন ছাড়া ছাড়া দেখায়। অথচ ঘটনাগুলো ঘটবার সময় এমনভাবে ঘটে যেন মার্ক নফলার এর গিটারে স্কেল চেনজ হচ্ছে, খুব হারমোনিয়াস একটা টোন থাকে। লিখবার সময় অনেক চেষ্টা করে দেখেছে, আসে না।
সম্পর্কের সুতোগুলো খুব টানটান থাকে, ঘুড়ি উড়ানোর সুতো মাঞ্জা দেওয়ার সময় যেরকম টান টান করে রোদে শুকাতে হয় তেমনি। টিউবলাইট গুড়ো করে মাঞ্জা দেওয়ার আঠায় মিশানোর কথা মনে পড়ে সাদীর।
'মামা ২ নম্বর, বলে ঝপ করে বসে পড়ে, রিকশার গদিতে। ভাল লাগতে থাকে। বাসে ৪০-৪৫ জনের ভিড়ে নির্জনতা এবং একাকীত্ব খুঁজে পাওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টার সমাপ্তি হয়েছে। রিকশার পিছনে ''প্রিয়া তুমি'' ছবির পোস্টার। শাবনূর, রিয়াজের বক্ষে বিলীন হয়ে যাওয়ার একটা সুলভ দৃশ্য ফুটিয়ে তুলবার চেষ্টা করেছে শিল্পী। সাথে প্লাস্টিকের একটা হাত স্প্রিং এ লাগানো
দুলছে। মনে হচ্ছে যে বাসটায় চড়ে সাদী এসেছে সেটাকে বিদায় জানাচ্ছে।
ঢাকার বাসগুলো এক একটা জ্যান্ত বোমা। সবাই ক্ষেপে আছে, যে কোন সময় বিস্ফোরন ঘটবে। হেল্পার একটাকা বেশী চাইলেই কিংবা ভুলবশত ভাড়া একবারের জায়গায় দুবার চাইলেই প্যাসেঞ্জারের মাংসাশী দাঁত দুটো বেরিয়ে যাচ্ছে, হাতের নখ বড় হয়ে যাচ্ছে। তৎক্ষনাৎ প্রস্তুত শিকারের ঘাড়ে ঝাঁপিয়ে পড়বার জন্য।এই মানুষগুলোই ঘরে গিয়ে দারা-পুত্র-পরিবার।
হেল্পারদের মেমোরী তীব্র শার্প থাকতে হয়, এবং থাকেও। কি অত্যাশ্চর্য মেধা নিয়ে ৬নং বাসে জাতপাত বিসর্জন দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হয়, ভাবলে অবাক লাগে।
সমাজবিজ্ঞানের কর্ণারটায় আম ভর্তা, ডাব নিয়ে বসে আছে কয়েকজন। ফার্স্ট ইয়ারের ৭-৮জন দেদার আগ্রহে শব্দদূষণ করে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বছরটা এমন এক ধরণের সময়, যখন হি হি করে হাসবার জন্য কোন জোকস লাগে না, কিংবা হই হই করবার জন্য কোন কারণ লাগে না। কারণে-অকারণে হেসে গড়াগড়ি খাওয়া যায় সারাদিন।
* লিখাটা কোনদিন হয়তো, শেষ হবে। প্রতি দুইদিন পর মনে হয় , যেটা চাইলাম ঠিক সেটা হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত লিখাটা আর লিখবোই না ঠিক করেছি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।
