শরীফ সাহেব বাসে করে বাসায় ফিরছেন । বেতন-বোনাস দেওয়ার কারণে আজ একটু দেরী হয়েছে, সন্ধ্যা শেষে রাত নেমেছে । আজ ওনার মনটা বেশ ভাল । বাসায় ফিরেই পরিবার সাথে নিয়ে শপিং করতে বের হবেন । স্ত্রীর তেমন চাহিদা নেই, স্বামী পছন্দ করে যা দেবেন তাতেই খুশী । বড় মেয়ে সীমা ক্লাস টেনে পড়ছে, এবার একটা থ্রী পিচ পেলেই সন্তুষ্ট । মেজ মেয়ে সাইমা পড়ছে ক্লাস সেভেনে । সাইমা একটা ড্রেস আর একটা পার্সের কথা বলে রেখেছে আগে থেকেই । আর সবার ছোট এবং এক মাত্র পুত্র শিশির পড়ছে ক্লাস ফোর এ । শিশির ড্রেসের সাথে জুতা, একটা হাত ঘড়ি আর চশমা কেনার জন্য বলে রেখেছে এক মাস আগে থেকে । শিশির রমজানের শুরু থেকে শপিং এর জন্য তাড়া দিয়ে আসছে, ও কিচ্ছু শুনতে চাই না, এবার ঈদে এগুলো ওর চাইই চাই । শরীফ সাহেব একটি সরকারী অফিসে অফিস সহকারীর দায়িত্বে আছেন, বেতন নির্দিষ্ট । সেজন্য মাঝে মাঝেই পরিচিতদের কাছে ধার দিনা করে চলতে হয় ।
অন্যান্য বারের মত এবারও আগে ভাগেই শপিং করতে চেয়েছিলেন উনি । কিন্তু গত মাসে বেতন উঠিয়ে বাসায় যাবার পথে ছিনতায় কারীদের হাতে সব খুইয়েছিলেন । কিন্তু, বাসায় কাউকে জানাননি । এ মাসটা পুরাই ধারের টাকায় চলছে । সেজন্য ঈদের শপিং এর জন্য বেতন-বোনাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো ।
শরীফ সাহেব বাস থেকে নেমে খুশি মনে হাঁটছেন । ছেলে মেয়েদের ঈদের চাহিদা পূরণ করবেন একটু পরই । পথ চলার এক ফাঁকে কিছু ফল কেনার জন্য দাঁড়ালেন । কিন্তু, ফল কেনার পর বিল পরিশোধ করতে গিয়ে প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে আকাশ থেকে পড়লেন শরীফ সাহেব । বেতন-বোনাস সহ মানিব্যাগ পকেটে নেই । কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে কোন রকমে ফলটা দোকানেই রেখে দিয়ে একটু দূরে গিয়ে মাটিতে বসে পড়লেন । এমন বিপদে মনে হয় ওনার জীবনে আর পড়েননি । এখন কি করবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না । স্ত্রী, ছেলে মেয়ের কাছে মুখই বা দেখাবেন কি করে, আর বাসায় ফিরে কিই বা বলবেন সেটাই ভাবছেন । শরীফ সাহেব চোখে আন্ধার দেখছেন । ভেবে পাচ্ছেন না পৃথিবীটা এত সংকটময় হতে পারে কি করে ?
এর মধ্যে বাসা থেকে মোবাইলে কল এসেছে কয়েক বার, রিসিভ করেননি । দেখতে দেখতে কখন যে, রাত দশটা বেঁজে গেছে সেটাও খেয়াল করেননি ।
এমন সময় মোবাইলে কল আসল । রিসিভ করার সাথে সাথেই অপর প্রান্ত থেকে অপরিচিত কণ্ঠে ভেসে এলো, শরীফ সাহেব বলছেন ? শরীফ সাহেব শুকনো কণ্ঠে উত্তর দিলেন, জ্বী বলছি । অপরিচিত লোকটি বললেন, ভাই আমি আপনার মানি ব্যাগ পেয়েছি । শাহবাগে বাস থেকে নামার সময় দেখি একটি সিটের স্ট্যান্ডের কাছে মানিব্যাগটি পড়ে আছে । মানিব্যাগে একটি কাগজে আপনার মোবাইল নাম্বার পেয়ে ফোন দিলাম । আমি এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাব । ওখানে আমার বাবা ভর্তি রয়েছেন । আপনি একটু কষ্ট করে মানিব্যাগটি নিয়ে যান । শরীফ সাহেব এর গলা ধরে আসছে, কোনো রকমে বললেন “আমি আসছি” ! ! !
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা জুন, ২০১৭ বিকাল ৫:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




