ওপেন হার্ট বাইপাস সার্জারী (Open Heart Bypass Surgery)! আজ সকাল থেকে এই বিষয়ে ভাবছি, কিছুতেই মন থেকে এই বিষয়টা ভুলে থাকতে পারছি না! কারন আজ ঠিক এই সময়ে (এই ব্লগ লেখার সময়ে) ব্যাংকক হসপিটালে, থাইল্যান্ডে আমার এক প্রিয় বন্ধুর হার্টে বাইপাস সার্জারী হচ্ছে! বাস্তব সত্য কথা, আমি একজন বন্ধু প্রিয় ব্যক্তি, আড্ডা আমি চরম ভাবে পছন্দ করি, স্কুল লাইফ কলেজ লাইফের আমার বন্ধু সংখ্যা কেমন ছিল, কতজন ছিল তা হিসাব করতে ক্যালকুলেটর লাগবে, এমনো দিন গেছে আমি আপনাদের এই ঢাকা শহরে ৬/৭ জায়গাতে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরেছি, রাত তিনটের আগে কখনো বাসায় ফিরি নাই, কি আড্ডাময় জীবন ছিলো!
প্রায় টানা ১০ বছর বিদেশ ছিলাম, সেই বিদেশের সময়ের কথা আর কি বলবো! সেই সময়ের আড্ডার গল্প লিখতে গেলে সাগরের পানি কালি হলেও কম পড়বে! প্রবাস জীবনে প্রায় এক মাসের মাথায় কোম্পানী আমাকে একটা টয়োটা করোলা গাড়ি দিয়েছিল, ১৯৯১ সালের। সেই গাড়িতে আমি কত বন্ধু ছড়িয়েছি তার সাক্ষী দাম্মামের কানু বা সিকো বিল্ডিং এলাকা গুলোতে গেলে এখনো পাবেন বলে আমি মনে করি! তবে বিদেশ ছেড়েছি প্রায় ২০ বছর মানে আমি বিবাহ করেছি প্রায় ২০ বছর! বিবাহের পর আর বিদেশ যাই নাই! ঠিক এই সময়ে আমি অসম্ভব ভদ্র ব্যক্তিতে পরিনত হই! বিবাহের কাবিনে সাইন দিয়ে পর দিন সকালেই বুঝতে পারি, আমি যেভাবে এতকাল চলেছি সেভাবে আর চলা যাবে না! তবুও কিছুদিন একটা ভান করে চলে পরে তাও থামিয়ে দিয়েছি! মুলত আমি এখন নিজকে টাকার মেশিন বা এটিএম মেশিন ভাবি, যে শুধু টাকা রুজি করবে আর সেই টাকা পরিবার পরিজনদের দিবে!
যাই হোক, সেই বিবাহের পর বন্ধুর সংখ্যা কমতে কমতে এখন ১ জনে ঠেকেছে, এই একজনের সাথেই মাঝে মাঝে এখনো আড্ডা দেই, নির্ভেজাল আড্ডা! কিছু না বলে বা ফোন না করে তার বাসায় যেয়ে কিছু সময় আড্ডা দেই (মাঝে মাঝে এখানে আরো কয়েকজন বন্ধু আসে যদিও তারাও নিয়মিত নয়)। এখনো সন্ধ্যা বা রাতে (তাও মাসে ১/২ বার) সামান্য সময় হলেও তার সাথে আড্ডা দেই! আজ আমার সেই বন্ধুর বাইপাস সার্জারী হচ্ছে কিন্তু আমি তার কাছে নেই! দুরদেশে তার সার্জারী হচ্ছে, আমি দেশে বসে তার কথাই ভাবছি! আল্লাহ তার সহায় হউন! আমি আশা করি, আমরা আবারো আড্ডা দিবো!
সময় থাকলে ওপেন হার্ট বাইপাস সার্জারীর প্রসেস গুলো দেখুন!
আর একটা উদাহরণ দেখুন, তবে আমার মনে হয় না, এখন আর এভাবে এই অপারেশন করা হয়!
সবাই ভাল থাকুন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

