somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাহাদাত উদরাজী
সাহাদাত উদরাজী'র আমন্ত্রণ! নানান বিষয়ে লিখি, নানান ব্লগে! নিজকে একজন প্রকৃত ব্লগার মনে করি! তবে রান্না ভালবাসি এবং প্রবাসে থাকার কারনে জীবনের অনেক বেশী অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা প্রকাশ করেই ফেলি - 'গল্প ও রান্না' সাইটে! https://udrajirannaghor.wordpress.com/

গল্পঃ আমি ও জেলখানা

০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি জামশেদ ইসলাম, পড়ছি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে, চতুর্থ সেমিষ্টার শেষ হল কয়দিন আগে। আমার জ্ঞান বুদ্ধি ভাল, মোটামুটি আমাকে ভাল ছাত্র বলা যায়, তবে রেজাল্ট আহমরি কিছু হয় না, টেনে টুনে পাশ দিয়েই যাচ্ছি, অবশ্য এর বাইরে আর কি বা হবে! আমি চাকুরী করবো না সিদান্ত নিয়েছি, টুকটাক ব্যবসা করে বাঁকা কোমর দাঁড়া করাবো। এদিকে যদি সফল না হই তবে বিদেশে চলে যাব!

আমার বড় ভাই মোরশেদ ইসলাম ইটালীর নাগরিক, তিনি দুইহাজার নয় সালের দিকে লিবিয়া থেকে পানি পথে বিরাট যুদ্ধ করে ইটালী পৌঁছেছিলেন এবং অনেকদিন নিরুদ্ধেস থাকার পর ইটালীর নাগরিক হয়ে আবার উদ্ধিত হন! তখন থেকেই তিনি আমাদের পরিবারের সব কিছু এবং এই সময়ে তিনি বেশ ধনী হয়ে উঠেন, বাড়িতে বাবা মায়ের কাছে প্রতি মাসে অনেক টাকা পাঠান এবং সেই সুত্রে আমরা আমাদের গ্রামের বাড়ী পাকা দোতালা হয়ে যায় এবং আমাদের আই মিন আমি সহ ছোট ভাই বোনদের জীবন পাল্টে যায়। আমাদের আর ক্ষেতে খামারে কাজ করতে হত না! এমন কি আমরা আর কোন দিন গরুর ঘাস কাটি নাই, মাঠে ছাগল চরাই নাই!

পরিবারের অন্যদের নিয়ে অনেক গল্প আছে, সেই সব আজ আর করছি না! এখন আমাদের পরিবারে আনন্দ আর আনন্দ। জমি জমা বর্গা, ভাইয়ের টাকা সব মিলিয়ে আমরা বেশ আছি। আমি ভাইয়ের টাকায় এখন পড়ছি, আগেই বলেছি আমি নর্থ সাউথ ইউনিভারসিটির ছাত্র! যাই হোক, আমার বড় ভাই আমার বাবার অনুমতি নিয়েই ইটালীতে বিবাহ করেছিলেন, পাত্রী ফরিদপুর অঞ্চলের একজন ভদ্র মেয়ে। যতদুর আমি জেনেছি, উনার বাবা বহু বছর আগে ইটালীর নাগরিক হয়ে পরে উনাদের ইটালী নিয়ে গিয়েছিলেন এবং এখন উনারা সবাই ইটালীর নাগরিক। বড় ভাইয়ের সাথে সেখানে দেখা এবং প্রেমে পড়া, পরে বিবাহ এবং আমাদের ভাবী!

আমাদের এই বড় এবং ভালবাসার ভাবী গত মাস দুয়েক আগে বাংলাদেশে এসেছেন, সাথে দুইটা পিচ্ছি, ৪/৪ বয়স, কিউটের ডিব্বা, আমার ভাতিজিদ্বয়, ওরা জমজ। মাস খানেক থেকে বড় ভাই ইটালী ফিরে যান, ভাবী ও বাচ্চাদের আমাদের কাছে রেখে যান। আমি চাচ্চু হিসাবে এই দুই কিউটের ডিব্বার সাথে বেশ জড়িয়ে পড়ি। বলা চলে ওয়াস রুমের কিছু সময় ছাড়া আমি এই মাস খানেক ওদের আলগে রেখেছি। ওরাও আমার মত চাচ্চু পেয়ে বেশ আনন্দিত। ওমা ওরা কি ঢং ঢাং করছে আজকাল। প্রথম মাসে ওরা তেমন বাংলা বলতে না পারলেও, পরের দিন গুলোতে ওদের আমি নিজেই বাংলা শিখিয়েছি, আগে কাউকে দেখলে মুখ লুকিয়ে ফেলত, আমি ধীরে ধীরে ওদের সেই অভ্যাস দুর করেছি। আজকাল ওরা কি সুন্দর করে বাংলা বলে, প্রান জুড়ে যায়! আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, বাংলা ভাষা শিশুদের মুখেই বেশী সুন্দর, বুড়োদের চেয়ে!

আজ সকালে আমার এই ভাবী ও ভাতিজিদ্বয়ের ফ্লাইট ছিল, ওরা ফিরে যাচ্ছে। আমার খুব ভালবাসা ওদের জন্য, দুইটারে দুই কাঁধে/কাখে নিয়ে ভাবীর পিছে পিছে আমি এগিয়ে চলছি। বলে রাখি, ওরা খুব চঞ্চল, একটা উত্তরের মেয়র তো অন্যটা দক্ষিনের, একটা আতিক তো অন্যটা তাপস! ভাবী একা ওদের সামলে এমিরাটসের কাউন্টার ও ইমিগ্রেশন পার হতে পারছিলেন না, সাথে ওদের মায়া কান্নাতো ছিল! ফলে আমিও বিমান কাউন্টার সহ ইমিগ্রশন এরিয়াতে প্রবেশ করে ফেলি! ঘটনা এই রকম, প্রথমে লাগেজ দিয়ে ভাবীর পিছে পিছে ওদের কোলে নিয়ে ইমিগ্রশন চেকে চলে যাই, ইমিগ্রেশনের পুলিশ মামা মনে হয় আমাকে ওদের বাবা মনে করছিলো, আমাকে কিছু বলে নাই, আমিও সামনে চলে যাই। এখানে আমি সামান্য একটা অতি চালাকি করছি, যা আপনাদের বলতে ভুলে যাচ্ছি! হ্যাঁ, আমি আমার পাসপোর্ট টা নিয়ে এসেছিলাম এবং তা বুক পকেটে সেট করেছিলাম। এই পাসপোর্টের জন্য আমাকে কারো সন্দেহ হচ্ছিলো না হয়ত!

যাই হোক, ভাবী ও বাচ্চাদের ফ্লাইট এটেন্ড মানে লাষ্ট এরিয়তে দিয়ে আমি টারমিনাল ঘুরে দেখার সিধান্ত নেই এবং গেইট নং গুলো দেখে দেখে এগুতে থাকি। আমার কাছে এটা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল মনে হচ্ছিলো! আমি যদিও পাসপোর্ট বানিয়েছি, এখনো কোন দেশে যাই নাই, শুধু মনে মনে ভাবছিলাম, একবার ইন্ডিয়ার কলকাতা দেখে আসবো, যতদুর জেনেছি ওরাও নাকি বাংলায় কথা বলে, আহ! বিদেশে যেয়েও বাংলায় কথা শোনা যাবে!

ঠিক এই সময়ে কিছু সিভিল পুলিশ (এটা আমার অনুমান) আমাকে আটকে দিল, আমাকে একটা রুমে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগলো। আমার কোন কথাই ওরা মানতে চাইছিলো না, আমি যাই বলি তাতেই ওদের সন্দেহ, কেহ কেহ আমাকে জঙ্গীও বলে দিল, আমি নাকি বিরাট নাশকতা করতে বিমান বন্দরে প্রবেশ করেছি। এই গোলামের পুতদের কাছে ভালবাসার কোন মুল্য নেই! সত্যের কোন ভাত নেই!

ঘটনা আর টানতে ইচ্ছা হচ্ছে না। প্রায় ঘন্টা পাঁচেক বসিয়ে আমার বিচারের ব্যবস্থা করা হল, অনেকটা ভ্রাম্যমান আদালত যেন। এয়ারপোর্ট ম্যাজিস্ট্রড এলেন, সব শুনে আমার ৭ দিন জেল বা কারাদন্ড দিয়ে দিলেন! হ্যাঁ, আমাকে কিছুক্ষনের মধ্যেই এশিয়ার বিখ্যাত কেরানীগঞ্জ জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হবে!

জেলখানা আমি কেমন দেখবো, সেটা পরে আপনাদের ভিন্ন লেখায় জানাবো! আপাতত গলাটা বেশ শুকিয়ে যাচ্ছে, এক গ্লাস পানি পেলে মন্দ হত না! মানুষের এই সময়ে শরবত পেলে নিশ্চয় অনেক ভাল লাগবে, যদিও এমন চিন্তাও করা যাচ্ছে না!

প্রিয় ভাতিজীদ্বয় তারিন জারিনদের প্লেন নিশ্চয় এখন অনেক আকাশে!
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৪:০৬
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্রিকেটের রাজাকার ট্যাগ পাচ্ছেন বুলবুল আহমেদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩


আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এবার বাধ্যতামূলক হচ্ছে এনআইডি নবায়ন

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

বাধ্যতামূলক ভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়ন করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এনআইডির মেয়াদ ১৫ বছর পূর্ণ হলে অবশ্যই নবায়ন করতে হতে পারে।
বর্তমানে আইন অনুযায়ী এনআইডি নবায়নের সুযোগ থাকলেও সেটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যে-সব সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবার সম্ভাবনা একেবারেই নাই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২

এ দলটি ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৪ সালে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০১৮ ও ২০২২ সালে তারা মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহা! ছবি।

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৮ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০০


কত দিন হয়ে গেলো....................


এ মাসেতো একটাও পোস্ট দেওয়া হলো না........................


ইদে গ্রামের বাড়ি গিয়ে কিছু ছবি তুলেছিলাম।







আজকের ছবি ব্লগে থাকছে সেই ছবিগুলো।








---------------------------------------------------






























... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারণে অকারণে ছবি

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

আমি ছবি তুলি। পরে সেগুলো দেখি। বেশ ভালো লাগে। ফোনের স্টোরেজ এ আজ দেখলাম মোট ছবি ৬৮৯৩ টি। ব্লগে কখনোই ছবি দিয়ে লেখা হয়নি। আজ মাইদুল ভাইয়ের লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×