somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাহাদাত উদরাজী
সাহাদাত উদরাজী'র আমন্ত্রণ! নানান বিষয়ে লিখি, নানান ব্লগে! নিজকে একজন প্রকৃত ব্লগার মনে করি! তবে রান্না ভালবাসি এবং প্রবাসে থাকার কারনে জীবনের অনেক বেশী অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা প্রকাশ করেই ফেলি - 'গল্প ও রান্না' সাইটে! https://udrajirannaghor.wordpress.com/

নিজ জীবনের কিছু কথামালা!

১৪ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক জিজ্ঞেস করেন, কেমন আছি? হ্যাঁ, আল্লাহর দরবারে শোকর জানাই যে, তিনি এখনো ভাল রেখেছেন। এই ভাল থাকার কারন হচ্ছে আমি তেমন ঘর থেকে বের হই না বা বের হবার চেষ্টাও করি না! গত চার মাস বলা চলে পুরোপুরি ঘরেই কাটিয়েছি বা কাটাচ্ছি (মাঝে মাত্র কয়েকবার ব্যাংক ও বাজারে গিয়েছি)। আল্লাহর কাছে শোকরিয়া যে, তিনি আমাকে ঘরে থাকার সামর্থ দিয়েছেন এবং আরো বেশ কিছু দিন ঘরে থাকতে চাই বা পারবো। আর্থিকভাবে স্বচ্ছল না হলে এভাবে থাকতে পারতাম না, কিছু সঞ্চয় ছিলো বলে এই সাহস পেয়েছি, এবং কোন বাঁধা না পেরিয়ে এখনো ভাল আছি। সার্বিকভাবে শরীরের যে অবস্থা, তাতে করোনা ভাইরাসের আক্রমন হলে খুব একটা ভাল করতে পারবো তা কিছুতেই মনে হয় না! বয়স এবং শরীরের অঙ্গপতঙ্গ সব কিছু খুব একটা ভাল তা বলা চলে না, করোনা ভাইরাসে আক্রমন হলে শরীরের যে অঙ্গ গুলো কুপোকাত হয়ে পড়ে তার সব গুলোই আমার শরীরে দূর্বল মানে আমি নিজেই বুঝতে পারি! কাজেই বেঁচে থাকতে হলে আমার ঘরের বাইরে যাবার কোন অফশন নেই বা যাওয়া যাবে না! কারন করোনা ধরলে আর বেঁচে থাকার কোন উপায় দেখি না! এর পরেও নানা বিষয় আছে, আমাদের মত লোকদের টেষ্ট, চিকিৎসা বা হাসপাতাল, কোন কিছুই নেই!

আমি এর আগেও আপনাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছি কয়েকবার। আবারো বলি, যদি কখনো আপনাদের মনে কোন কষ্ট দিয়ে থাকি তবে ক্ষমা করে দিবেন এবং আমার মৃত্যু সংবাদে 'ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্নালিল্লাহে রায়েযুন' পড়বেন, সাথে আপনাদের দোয়া চাই সব সময়ে। যদিও আমি এই সময়ে মরতে চাই না, আমি মনে করি আমার এখনো অনেক কাজ বাকী, অনেক কিছু লেখা বাকী, অনেক জায়গা ভিজিট বাকী, সন্তানদের বড় করা বাকী ইত্যাদি ইত্যাদি! তবে অনলাইনের দীর্ঘ সময়ে বা ব্লগের এই দীর্ঘ জীবনে কত কি লিখেছি, কত কি চিন্তা করেছি, কত মানুষের সাথে মতের অমিল হয়েছে, বিতর্ক হয়েছে, আরো কত কি! সব ভুলে যাবার অনুরোধ করি। তবে বলে যাই, আমি কখনো কাউকে ব্যক্তি হিসাবে আক্রমন করি নাই, মতের চিন্তায় বা ভুল চিন্তায় তাকে শুদ্ধ হিসাবে দেখতে চেয়ে বিতর্কে নেমেছি।

আরো একটু খোলাসা করি, আমার নানা লেখায় আমি 'স্ত্রী চরিত্র' নিয়ে কথা বলেছি, মানে আমার কাছে এই স্ত্রী চরিত্রের নানান কুটু দিক বেশি চোখে লেগেছে বলে আমি যা দেখেছি বা যা অভিজ্ঞতায় এসেছে তা বলে ফেলেছি, এতে অনেকে আমাকে ভুল বুঝেছেন! কিছু নারীবাদী (!) আমাকে নারী বিদ্বষী বলে ট্যাগ দেয়ার চেষ্টা করেছেন, আমাকে ছেড়ে চলে গেছেন, ব্লক করেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। এদের আসলে আমি বুঝতে পারি নাই, তবে বেশ সুযোগে আমি বলেছি, নারীদের প্রায় সকল চরিত্র প্রশংসার দাবী রাখে, মান উত্তীর্ন, শুধু 'স্ত্রী চরিত্র' ছাড়া, বিপরীতে পুরুষের প্রশংসা করার কোন চরিত্রই নেই, সব চরিত্রেই পুরুষেরা উত্তীর্ন হতে পারে নাই বা পুরুষের তেমন কোন উল্লেখ যোগ্য চরিত্র পাওয়া যায় না, এমন কি 'বাবা' হিসাবেও অনেক পুরুষ ফেইল, কিন্তু 'মা' হিসাবে কোন নারী এখনো সারা বিশ্বে ফেইল করে নাই! এই 'স্ত্রী চরিত্র' নিয়ে এখনো আমার কৌতুহল শেষ হয়ে যায় নাই, এই বিষয়ে আরো লিখতে চাই বেঁচে থাকলে! কাজেই আমাকে ভুল বোঝার অবকাশ নেই! আমি নারী পুরুষ সমভাবে দেখি, বিচার করি, চরিত্র বিচারে আমার কাছে জ্ঞান, বিবেচনা, বিচার, সততা সহ মানবিক গুনাবলী ইত্যাদি মূখ্য বিষয়!

যাই হোক, অনেক কথা মনে আসছে, সুযোগে লিখে ফেলবো। জানি আপনারা আমাকে একদিন খুঁজে বের করবেন কারন আমি ভার্চুয়ালী অনেকের উপকার করেছি এবং সেই চেষ্টা আমৃত্যু করে যাব। আমার উপকার বা আপনাদের ভালবাসা পাবার প্রথম চেষ্টা ছিলো, গল্প ও রান্না। ইউটিউবের কারনে এখন যদিও কিছুটা ভাটা পড়েছে তবুও আমার মনে হয় যারা নুতন রান্না শিখতে আসছেন বা নুতন রান্নায় হাতে খড়ি দিবেন ভাবছেন তাদের জন্য আমি এখনোই সেরা হয়ে আছি এবং থাকবো। আমি যখন এই সাইট শুরু করি তখন সারা বিশ্বে এমন সাইট ছিলো বা বিশেষ করে বাংলায় এমন রেসিপি লিখা হয় না, প্রায় এক যুগ আগে শুরু করা বাংলায় আমাদের ঘরের সাধারন রেসিপি লেখা ও ছবি এটা সেই সময়ে অনেকে কল্পনাও করতে পারেন নাই, আমি বাংলা নানা ব্লগে শুরু করে শেষে 'গল্প ও রান্না'য় থিতু হই। এখনো এই যুগে, গুগল সার্চে বাংলা রেসিপি লেখায় আমি ও আমার ছবি গুলো শীষে আছে। নেটে আমার হাজার হাজার রান্নার ছবি আছে, আমাদের সাধারন রান্না গুলোর ছবি এত আর কারো আছে বলে আমার মনে হয় না! আমার শ্লোগান হচ্ছে, বাংলাদেশের সাধারণ পরিবারের ঘরের খাবার রান্নার রেসিপি সমারোহ/ রান্নায় নুতন আগ্রহী, প্রবাসী, ব্যাচেলরদের জন্য হাতেখড়ি কিংবা ব্যবস্থাপত্র!

আমি গর্ব করে বলতে পারি, আমি কখনো নিজকে প্রচারের চেষ্টা করি নাই (সব সময়েই আড়ালে থেকেছি), আমি আমার কাজ প্রচারের চেষ্টা করেছি মাত্র! আমি আমার নিজের জন্য কাউকে এটা বলি নাই যে, আমাকে প্রচার করুন বা আমকে পুরুস্কার দিন! হা হা হা, আমি সব সময়েই আপনাদের ভালবাসা চেয়েছি এবং তা আমৃত্যু পেতে চাই! ভালবাসায় আমাকে রাখবেন সব সময়ে!

যাই হোক, আরো অনেক কথা মনে পড়ছে, তবে আবারো অন্য কোন ব্লগে লিখে জানাবো। আমি নিজকে একজন মধ্যবিত্ত বলে মনে করছি, জীবনের নানা ছড়াই উৎরাই পার করে আমি এই পর্যায়ে এসেছি, জীবনের কঠিন বা রুঢ় বাস্তবতা দেখে এসেছি! জীবনের এই পর্যায়ে এসে আমার কোন দেনা নেই, কেহ বলতে পারবে না যে, আমি কারো কাছে ধার নিয়েছি বা আমার কাছে টাকা পাবে, আমি সব সময়েই চেষ্টা করেছি ধার না করার জন্য বা করি নাই (কিছু কঠিন সময়ে করেছি তবে তা সময় মত ফেরত দিয়েছি, ক্রেডিট কার্ড সহ নানা ব্যবস্থা আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছে সব সময়ে)। বিশেষ করে এই সময়ে আমার কোন ধার নেই তবে আমি অনেকের কাছে পাওনাদার রয়েছি। আমার সেই পাওনাদারের একটা বিরাট লিষ্ট করে ফেলা যায়। সময়ে সময়ে আমার অনেক বন্ধু বা পরিচিত ধার নিয়েছেন কিন্তু সেই ধার তারা এখনো ফেরত দিচ্ছেন না বা দিবেন বলে মনে হচ্ছে না, এতেও আমার দাবী নেই বা তাদের আমি কখনো কটু কথা বলি না, আমি মনে করি সময় পেলে বা তাদের ভাল সময় এলে আমার টাকা গুলো ফেরত দিবেন! ব্যস, এই তো জীবন!

আনন্দে কাটুক সবার জীবন!

সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই জুন, ২০২০ রাত ১০:৪২
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৭

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৪



শরতের সকাল! সকাল ৮ টা।
ভাদ্র মাস। ইংরেজি সেপ্টেম্বর মাস। ২০২৬ সাল। ঘটনাটা কি হয়েছে, আমি বলি। মোটামোটি ভয়াবহ ঘটনা বলা যেতে পারে! যে কোনো সময় রোদ উঠবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বর্তমান গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: দায় কার?

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৭


সংক্ষিপ্ত রায় সবচেয়ে বড় দায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নীতির। এর মধ্যে ২০০৯–২০২৪ সময়কালের সরকারের সিদ্ধান্তগুলোর দায় তুলনামূলকভাবে বেশি, কারণ ওই সময়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ানো হলেও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যাপিত জীবন.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৭


১।মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে জুম্মার নামাজ পড়ার সুযোগ হয়েছে। ১২.৫০ এ আজান তারপর ১.১৫ দিকে জুম্মার নামাজের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ। আজানের কিছুক্ষণ পর খুতবা শুরু তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরর ছোট গল্প "একাউন্ট্যান্ট"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৪০

একাউন্ট্যান্ট

মঞ্জুর চৌধুরী


রফিকুল ইসলামের জীবনে সবচেয়ে বিলাসী জিনিসটি ছিল একটি কাঠের আলমারি।

আলমারিটা নতুন নয়। মিরপুর এগারোর যে দুই কামরার বাসায় সে আর শায়লা থাকত, তাদের বিয়েরও আগে থেকে বাড়িওয়ালার স্টোররুমে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট বিদ্যুৎও কি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১৪


শিরোনামটা একটু অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে কিছুদিন ধরে বিদ্যুতের দাম, ভর্তুকি আর লোডশেডিং নিয়ে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, তাতে প্রশ্নটা একেবারে অযৌক্তিক নয়। কারণ সরকার বদলেছে, কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×