somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাহাদাত উদরাজী
সাহাদাত উদরাজী'র আমন্ত্রণ! নানান বিষয়ে লিখি, নানান ব্লগে! নিজকে একজন প্রকৃত ব্লগার মনে করি! তবে রান্না ভালবাসি এবং প্রবাসে থাকার কারনে জীবনের অনেক বেশী অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা প্রকাশ করেই ফেলি - 'গল্প ও রান্না' সাইটে! https://udrajirannaghor.wordpress.com/

ঢাকা শহরের মাদক পরিস্থিতি ও আমার চোখ!

০৯ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম, এই শহরের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে লিখবো। আজ বসেই পড়লাম, যা দেখি বা উপলব্ধি করি তা না লিখলে মন ভার হয়ে থাকে! মোটামুটি এই ঢাকা শহর এখন গা/ঞ্জার নগরী, আ/লীগের আমলে যা পরিপূর্নতা পেয়েছিল, এখন তা পাতিল থেকে ফুটে উগলে পড়া দুধের মত মনে হচ্ছে, মানে একদম ষোলকলা আর কি! কয়েকদিন আগে একটা টিভি প্রতিবেদনে দেখেছি দেশের দিনাজপুর শহর নাকি একদম প্রায় শতভাগ মাদকে আক্রান্ত, যুবক থেকে বৃদ্ধ প্রায় সবাই কোন না কোন মাদকে জড়িত, তবে গা/ঞ্জা সবার শীর্ষে বলে দেখেছি, এই ঢাকা শহরেও তাই হচ্ছে। আসুন একদম প্যাক্টিক্যাল উদাহরণে যাই।

গত পরশু অফিস থেকে মাত্র সিঁড়ি দিয়ে বের হয়েই নাকে গা/ঞ্জার গন্ধ লাগে, রাত তখন ৮টা পার। পাশে দেখি দুই যুবক টানছে, হয়ত টানা শেষ হলে সামনেই আনোয়ার ভাইয়ের চা দোকান থেকে বেশী মিষ্টি দিয়ে চা খাবে। দেখেও না দেখার ভান করে এগিয়ে গেলাম। কারে কি বলবো, সন্ধ্যার পরে এই সব তেমন কিছু না এখন, আর কে কার দিকে তাকাবো, দরকারই বা কিসের। কিছু বলেও কি কাউকে ফেরানো যাবে। বলে আবার অহেতুক কি হয়ে যায়, দিকহারা মাদকে আসক্তেরা কখন কি করে বসে!

আজকাল শান্তিনগর দিয়ে আর বের হই না, মোড়ে লেফট টার্ন দিয়ে রিক্সা আবার অনেক দূর ঘুরে আস্তে হয়, যা ভাল লাগে না। ফলে রাস্তা পার হয়ে কাকরাইল হয়ে বাসার ফেরার রাস্তা ধরি, বা কাকরাইল হেঁটে এসে রিক্সা নেই। ঠিক রাস্তা পার হয়ে পল্টন মসজিদের দিকে এসে কয়েকটা রিক্সা জিজ্ঞেস করি, কেহ যেতে রাজী হচ্ছে না, আমি আবার এই পথে মেশিন রিক্সা পছন্দ করি, কারন সময় বাঁচে, মালিবাগ রেলগেইটে আস্তে মাত্র ১০/১২ মিনিট লাগে, যদি কম যানযট থাকে। যাই হোক, বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করলাম, কেহ যাবে না, ফলে হাঁটা ধরলাম। সামনেই দেখি দুই রিক্সা খালি, একটা মেশিন অন্যটা প্যাডেল। রিক্সা দাঁড়া করিয়ে দুইজনে সিগারেট টানছে, কাছে গিয়ে যাবার কথা বললাম, দুইজনের কেহই ফিরেও তাকালো না, আসলে দুই ভাই গা/ঞ্জা টানছিল, আমি গন্ধ পেয়েই বুঝলাম, পরে ভাল করে হাতের দিকে দেখলেই বুঝলাম। আমার ধারনা রাজধানীর ৯০/৯৫ ভাগ রিক্সা চালক গা/ঞ্জা সেবক, বুঝাই যায়। ঠিক একই ভাবে শহরের বাস পরিবহনের চালকদেরও একই অবস্থা বলে মনে হয়। এটা বিশাল সংখ্যা! লিখলে খাতা ফুরিয়ে যাবে!

রিক্সা না পেয়ে হেঁটে বিজয়নগর মোড়ে এসে পড়লাম, উদ্দেশ্য আর একটু হেঁটে কাকরাইল মোড়ে গেলে অন্তত ১০টাকা কমে রিক্সা পাওয়া যাবে। জাতীয় সঞ্জয় অধিদপ্তর/ পেনশন বোর্ডের ফুটপাতে আসতে অনেক রাইডার চালকভাই কোথায় যাবো জিজ্ঞেস করলেন, আমি ভাড়া বেশী বলে 'না' 'না' করে এগিয়ে যেতে লাগলাম। ঠিক আঞ্জুমান মহিদুল বিল্ডিং এর আগে আবারো দেখলাম, দুজন টানছে, মানে নাকে গন্ধ পেলাম! এই এলাকাতে এমনিতে রাত হলে অনেক কিছু চলে, গা/ঞ্জা তো ব্যাপারই না। যাই হোক, রাত সন্ধ্যায় রিক্সায় ফেরার পথে আমি অনেক সময় দেখে মি বিষ্টেরা টেনে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে, মালিবাগ মোড় থেকে মালিবাগ রেলগেইট এলাকা পর্যন্ত প্রায় গন্ধ পাই। মালিবাগ মোড় টু মোছাকের রাস্তায় ডিভাইডারে খুব সুন্দর জায়গা এখন, এখানে দোকানের সেলসম্যানেরা বাড়ি ফেরার পথে এক পশলা টেনে ফিরে! এই এলাকাতে প্রচুর মার্কেট যা রাত ৮টায় বন্ধ হয়, ফুটপাতের দোকান গুলো আরো কিছু সময় চলে, এই টানকদের চেহারা দেখে বুঝি এরা নানান দোকানে কাজ করে। একঘুয়ে জীবন, টেনে হয়ত কিছু শান্তি খুঁজে!

যাইহোক, আপনিও সন্ধ্যার পরে শহরে বের হলে এবং দেখার চোখ থাকলে দেখবেন, আর আন্ধা হলে বা এসি গাড়িতে ফেরারী হলে কিছুই বুঝবেন না! সমাজে মাদক থামানোর কোন উপায় আমার জানা নেই, বিশেষ করে গা/ঞ্জাতো থামানোই যাবে না, কারন এটা অনেকটা সিগারেট টাইপ হয়ে গেছে, আর যারা এতে অভস্থ্য তারা এটা টেনেই নানান কাজ কর্ম করে, ব্যাপার না! বিনোদন নাই, সময় কাটানোর জায়গার অভাব, নানান টেনশন, অভাবের সংসার, বিবাহিতদের নানান সমস্যা, সব মিলিয়ে আসলে পুরুষ মানুষ কোথায় যাচ্ছে! ধনীরা হয়ত ক্লাবে জুয়ার আসরে, হোটেলে পানে, ডান্স দেখায় সময় নিচ্ছে, কিন্তু অভাগারা যাবে কই, অন্তত কিছু সময়ে যদি মহাকাশে থাকে, মন্দ কি! কিন্তু সার্বিকভাবে পুরা জাতির পুরুষেরা বিলীন হচ্ছে দিন দিন!

(আমি ভুল লিখলে আপনার অভিমত জানাতে পারেন, পুরা শহরে ঘুরার সামর্থ আমার নেই, তবে বুঝতে পারি, আপাতত সন্ধ্যার পরে একই অবস্থা চারিদিকে এই ঢাকা শহরে।)

মালিবাগ, ঢাকা, রাত ১২টা
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০২৫ রাত ১২:১২
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কমরেড তারেক রহমান , লাল সেলাম ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৪৮


ভোটের কালি নখ থেকে মোছার আগেই তিনি কাজ শুরু করেছেন। এই কথাটা তিনি নিজেই বলেছেন, গতকাল, ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে। আর এই কথাটা পড়ে আমার বুকের ভেতরে একটা উষ্ণতা অনুভব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাঁদের আলোয় পাহাড়ি রাস্তায়

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ রাত ২:০৪

বাইরে পা রাখতেই মুচমুচে চানাচুরের মতন শব্দ উঠল। কড়কড় করে ভেঙ্গে যাচ্ছে পায়ের নিচে বরফের আস্তরণ। এই ভেঙ্গে পরা অবস্থা মন্দ না। হাঁটার সময় মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জয়তু এ আই: পৃথিবী বদলে যাচ্ছে

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:২৭


An Outstanding Scientific Odyssey:

আমরা যারা ল্যাবে কাজ করি, তারা খুব ভাল ভাবেই জানি একটা জীবন রক্ষাকারী ঔষুধ বা মানবজাতির জন্য উপকারী মেথড/ম্যাটেরিয়াল ডেভেলপ করতে কত বছর ধরে রিসার্চ, সাধনা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাথারের ফসল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:০৪


সেই গ্রামের আইল পাথারে
বেড়ে ওঠা আমি এক মানুষ;
কখনো হাল চাষ করা হয়নি
তবু মাটির গন্ধে যে ফাল্গুন!
স্মৃতির আকুতি কন্ঠের সুর
সবুজ শ্যামলা মাটির ঘান-
বয়ে যায় এক বিস্মৃতির নগর;
যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

উর্দু ভাষা ও তার উৎপত্তি

লিখেছেন কিরকুট, ১৫ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:১৩

উর্দু ভাষার আসলে নিজস্ব কোনো স্বতন্ত্র লিপি নেই। এটি মূলত আরবি ফারসি উৎসের লিপি ব্যবহার করে লেখা হয়। ঐতিহাসিকভাবে উর্দুর বিকাশ ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসনামলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। মুঘল সাম্রাজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×