কার্য্যত গত কয়েক দিন আগে হায়দারাবাদে এক জনসভায় মি মোদি প্রথম স্বীকার করেন যে, বর্তমানে ইন্ডিয়ার আর্থিক অবস্থা এখন অত্যন্ত দূর্বল এবং সেখানে তিনি ভাষনে দেশবাসীকে কিছু কথা বলেন যা যেন তারা মান্য করে চলে। সেই দেশ এই সব বিষয় গুলো শুনে সাধারন মানুষ অবাক হয়েছে পাশাপাশি তারা তাদের জীবন যাত্রায় যে কষ্ট পাচ্ছিলো তাতে অনুধাবন করতে পারছিলো। রান্নার গ্যাসের দাম, খাবারের তেলের দামে, গাড়ির তেলের দামে এমনিতেই সাধারন মানুষ অস্থির হচ্ছিলো, তবে সরকার কিছুতেই তা স্বীকার করছিলো না। তবে এই বার আবার সেই জনসাধারণকেই দেশ প্রেম দেখাতে বলা হল। বিষয়টা অনেকের কাছে হাস্যকর মনে হলেও পরিস্থিতি জটিল! (আজ ১ ডলার = ৯৬ রুপি হয়েছে, অফিশিয়াল)
বাংলাদেশ সরকারের অবশ্য এখনো টনক নড়ে নাই, কারন প্রবাসী রেমিট্যান্স, প্লাস চুপ থাকার অভ্যাসে আমরা আছি। বাংলাদেশেও রান্নার গ্যাসে দাম বেড়েছে, খাবারের তেলের দাম বেড়েছে, গাড়ির তেলে সামান্য বেড়েও পরিস্থিতি আপাতত চুপ। তবে দেশ যে সংকটে যাচ্ছে তা আমরা সাধারন জনতা বুঝতে পারছি, কত কম টাকায় জীবন চালানো যায় তা চিন্তা করছি, খাবারের অনেক কিছুতেই আমরা সরকার বলার আগেই কাট করে দিচ্ছি।
যাই হোক, মি মোদিজ্বির কথাতেই ফিরে যাই, দক্ষিন এশিয়ার সংঘাত সংকটের সময় বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ এবং ভারতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২০২৬ সালের ১০ই মে-র ভাষণের উপর ভিত্তি করে, এখানে ১০টি মূল বিষয় তুলে ধরা হলো, যা প্রায়শই নাগরিকদের প্রতি একটি আবেদন হিসাবে উপস্থাপিত হয়। চলুন পয়েন্ট গুলো দেখি।
১। অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা কমান: ডলার সাশ্রয় করতে এবং ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সুরক্ষিত রাখতে অন্তত এক বছরের জন্য সোনা কেনা থেকে বিরত থাকুন।
২। বাড়ি থেকে কাজ (Work From Home) উৎসাহিত করুন: জ্বালানি খরচ কমাতে ও শক্তি সংরক্ষণে কোভিড-যুগের দূরবর্তী কর্মপদ্ধতি পুনরুজ্জীবিত করুন।
৩। জ্বালানি ও ডিজেল সাশ্রয় করুন: তেল আমদানির খরচ কমাতে ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার হ্রাস করুন।
৪। গণপরিবহনকে অগ্রাধিকার দিন: শক্তির ব্যবহার কমাতে গণপরিবহন, মেট্রো এবং কার-শেয়ারিং ব্যবহার করুন।
৫। বিদেশ ভ্রমণ ও ডেস্টিনেশন ওয়েডিং পরিহার করুন: বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের জন্য অপ্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং বিদেশে জাঁকজমকপূর্ণ বিবাহ অনুষ্ঠান স্থগিত করুন।
৬। রান্নার তেলের ব্যবহার কমান: ভোজ্য তেলের ব্যবহার ১০% থেকে ৫০% পর্যন্ত হ্রাস করুন, যা জাতীয় অর্থনীতি ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য উভয়ের জন্যই উপকারী।
৭। স্থানীয় পণ্যের পক্ষে কথা বলুন: বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে আমদানিকৃত পণ্যের পরিবর্তে ভারতে তৈরি (স্বদেশী) পণ্য বেছে নিন।
৮। প্রাকৃতিক কৃষিতে রূপান্তর: আমদানিনির্ভরতা কমাতে কৃষকদের রাসায়নিক সারের ব্যবহার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে আহ্বান জানান।
৯। বৈদ্যুতিক যানবাহনের (ইভি) ব্যবহার বৃদ্ধি করুন: পেট্রোল/ডিজেলের উপর নির্ভরতা কমাতে ইভি-র ব্যবহার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে উৎসাহিত করুন।
১০। ভার্চুয়াল মিটিং ব্যবহার করুন: সশরীরে যাতায়াত কমাতে ব্যবসা ও সম্মেলনের জন্য অনলাইন মিটিং ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।
উল্লেখিত পয়েন্ট গুলো আমাদের বাংলাদেশকে মেনে চলা দরকার, যদিও আমাদের সরকার প্রধান এখনো আমাদের এই বিষয়ে কিছু জানান নাই। আর আমাদের টাকার মান মোটামুটি ডলারের বিপরীতে স্থির আছে এখনো। যাই হোক, আমাদের সতর্ক হওয়া দরকার।
পুনশঃ মি মোদিজ্বিকে নিয়ে যে পরিমান ট্রল হয় সারা বিশ্বে, তা অন্য কোন দেশের সরকার প্রধান সহ্য করবে বলে মনে হয় না। আর এই পরিমান দেখলে অন্য কোন দেশের সরকার প্রধান হলে, পদ্ত্যাগ করে ফেলত! হা হা হা
মালিবাগ, ১১ মে ২০২৬ইং সন্ধ্যা, ব্লগ আকারে লিখিত


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


