somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাহাদাত উদরাজী
সাহাদাত উদরাজী'র আমন্ত্রণ! নানান বিষয়ে লিখি, নানান ব্লগে! নিজকে একজন প্রকৃত ব্লগার মনে করি! তবে রান্না ভালবাসি এবং প্রবাসে থাকার কারনে জীবনের অনেক বেশী অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা প্রকাশ করেই ফেলি - 'গল্প ও রান্না' সাইটে! https://udrajirannaghor.wordpress.com/

বৃদ্ধ বাবা মাকে শিক্ষিত সন্তানেরা কেন নিজের কাছে রাখতে পারে না!

২১ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিষয়টা নিয়ে লিখতে লজ্জা পাচ্ছি, তবুও সাহস করে লিখে ফেললাম! শহরে বৃদ্ধ বাবা-মাকে নিজের কাছে রাখতে না পারা বা রাখার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হওয়া আমাদের বর্তমান সমাজবাস্তবতার একটি বড় চিত্র। এর পেছনে অনেক সময় ইচ্ছার অভাবের চেয়েও শহরের জটিল জীবনযাত্রা ও কিছু বাস্তব সীমাবদ্ধতা বড় ভূমিকা পালন করে। নিচে এমন ৫টি প্রধান কারণ আলোচনা করা হলো:

১. বাসস্থানের সংকট ও চড়া ভাড়া (Space Constraint) - শহরাঞ্চলে বিশেষ করে মধ্যবিত্ত বা নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য বড় ফ্ল্যাট বা বেশি রুমের বাসা ভাড়া নেওয়া অর্থনৈতিকভাবে অনেক কঠিন। বেশিরভাগ মানুষ ছোট দুই রুমের বা ৩ রুমের ফ্ল্যাটে সপরিবারে বসবাস করে। ২ সন্তান (ছেলে মেয়ে, প্রতিটাকে একটা রুম দিতেই হয়) এবং নিজেদের থাকার পর বাবা-মার জন্য একটি আলাদা ও আরামদায়ক ঘরের ব্যবস্থা করা অনেক সময় স্থানাভাবের কারণে সম্ভব হয়ে ওঠে না।

২. অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় (Financial Burden) - শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় (যেমন: বাড়ি ভাড়া, ইউটিলিটি বিল, যাতায়াত খরচ, বাচ্চাদের পড়াশোনা) অত্যন্ত বেশি। এর পাশাপাশি বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মার চিকিৎসাসেবা, নিয়মিত ওষুধ এবং পুষ্টিকর খাবারের পেছনে বড় অঙ্কের খরচের প্রয়োজন হয়। অনেক সময় সন্তানের একক আয়ের ওপর পুরো সংসার ও এই বাড়তি খরচের ভার বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

৩. কর্মব্যস্ততা ও সময়ের অভাব (Lack of Time) - শহুরে জীবনে টিকে থাকার লড়াইয়ে স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই অনেক সময় চাকরি বা ব্যবসা করতে হয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কর্মক্ষেত্রে থাকা এবং দীর্ঘ যানজট পেরিয়ে বাসায় ফেরার পর তারা নিজেরা মারাত্মক ক্লান্ত থাকে। বৃদ্ধ বাবা-মার যে ধরনের সময়, মনোযোগ এবং শারীরিক পরিচর্যার প্রয়োজন হয়, তীব্র কর্মব্যস্ততার কারণে সন্তানরা তা দিতে পারে না।

৪. নিঃসঙ্গতা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতা (Isolation and Lack of Companion) - গ্রামে বা মফস্বলে বাবা-মারা যেভাবে প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন বা সমবয়সীদের সাথে আড্ডা দিয়ে সময় কাটাতে পারেন, শহরে সেই সুযোগ থাকে না বললেই চলে। ফ্ল্যাট কালচারের কারণে শহরের মানুষ পাশের ফ্ল্যাটের মানুষের খবরও রাখে না। ফলে সন্তানরা কাজে চলে যাওয়ার পর দিনভর চার দেয়ালের মাঝে বৃদ্ধ বাবা-মারা তীব্র একাকীত্ব ও মানসিক অবসাদে ভোগেন, যা অনেক সময় তাদের শারীরিক অসুস্থতা আরও বাড়িয়ে দেয়।

৫. প্রজন্মের ব্যবধান ও মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব (Generation Gap) - শহুরে জীবনযাত্রার আধুনিক মানসিকতা ও চিন্তাভাবনার সাথে অনেক সময় প্রবীণদের দীর্ঘদিনের গ্রামীণ বা ঐতিহ্যগত অভ্যাসের সামঞ্জস্য হয় না। খাবার-দাবার, পোশাক, সন্তান লালন-পালন বা ধর্মীয় অনুশাসন নিয়ে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে মতের অমিল দেখা দিতে পারে। এই 'জেনারেশন গ্যাপ' বা প্রজন্মের ব্যবধানের কারণে পরিবারে এক ধরনের অদৃশ্য মানসিক চাপ তৈরি হয়, যা এড়াতে অনেকে বাধ্য হয়ে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভিন্ন থাকার সিদ্ধান্ত নেন।

যাদের আবার অনেক টাকা কড়ি আছে, বড় বাসা আছে, তারাও কেন রাখতে পারে না, এর কারন উপরের ৫ নং! বৃদ্ধ বাবা মা মনে করেন তাদের সন্তান এখনো ছোট, যা বলবে তাই শুনবে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা হয় না। কারন সন্তান শহরে বসবাস করে পুরাই মানসিকভাবে ভিন্ন হয়ে যায়। সন্তান তার স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ভিন্নভাবেই গড়ে উঠে। যেমন উদাহরন দেই, বৃদ্ধের সন্তান হয়ত রাত ২টার আগে ঘুমান না, টিভি দেখেন, খেলা দেখে বা তার স্ত্রী ও সন্তানেরা হয়ত রাত ২টায় খাবার পার্সেল করে আনে খায়, সকালে দেরীতে ঘুম থেকে উঠে - যা বৃদ্ধ বাবা মা এইসব সহ্যই করতে পারেন না, তাদের কাছে এটা অনিয়ম মনে হয়, আসলে এটাই এখন শহুরের পরিবারের নিয়ম! বৃদ্ধেরা এই অনিয়ম দেখে যখন কথা বলেন সেটা তার সন্তান হয়ত কিছুটা বুঝে কিন্তু তার স্ত্রী ও সন্তানেরা বুঝে না, ফলে বৃদ্ধের সন্তান একটা মানসিক সমস্যায় পড়ে যায়! সে বাবা মা কিংবা স্ত্রী সন্তানের কাছেও কিছু বলতে পারে না, এই ধন্ধে যদি তাকে বলা হয় কোন দিকে যাবে, সে তার স্ত্রী পুত্রের দিকেই যাবে! হা হা হা

বিষয়টা জটিল, খুব সহজে আমরা যেমন বলে ফেলি, ছেলেটাকে লেখা পড়া শিখিয়ে বড় করলো, অথচ বাবা মায়ের দিকে ফিরেও চায় না, মূলত সেও অসহায়!

তবে আমার মনে হয়, সন্তান বাবা মাকে রাখতে না পারলেও অন্য উপায় বের করতে পারে, বাবা মা যেখানেই থাকুক, মাসে ৫/১০ হাজার টাকা দিতে পারে, কাজের লোক রেখে দিতে পারে এবং ১৫ বা মাসে মাসে দেখে আসতে পারে, টাকা না দিতে পারলে বাবা মাকে সেটাও জানিয়ে দেয়া যেতে পারে। যাই হোক। এত টূকু না করলে যে বাবা মা লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে তাকে শিক্ষা দিয়েছেন, নিজে না খেয়ে খাইয়েছেন, নিজের আরাম আয়েশ ত্যাগ করেছেন সন্তানের জন্য, সেই সন্তানকে অবশ্যই কুলাঙ্গার বলা চলে!

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌতালী রায়ের অজ্ঞতা না ধৃষ্টতা ?"

লিখেছেন আরািফন, ২০ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৯

একজন আইনজীবী হয়েও সে যেভাবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করে আলাদা প্রদেশ গঠনের হুঁশিয়ারি দেখিয়েছেন,তা দেশের প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অধিকার আদায়ের আন্দোলনের নামে দেশের মানচিত্র খণ্ডিত করার হুমকি কোন নাগরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভালো লাগে

লিখেছেন আরমান আরজু, ২০ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৪৮

এরা কারা, কী এদের পরিচয়?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২১ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:৪৮


যা আশঙ্কা করা হয়েছিল, ঠিক তাই ঘটছে। ‘আজাদ পার্টি’ নামের একটি নতুন ভূঁইফোড় রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে গতকাল ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে যে মিছিল এবং ঘেরাও কর্মসূচি করা হলো, তা কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ বিশ্ব বাবা দিবস।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২১ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৩৬

বাবা: নীরব ত্যাগের এক অনন্ত মহাকাব্য।
========================
আজ বিশ্ব বাবা দিবস। আমাদের দেশে মা দিবস যতটা জাঁকজমক ও আবেগের সঙ্গে পালিত হয়, বাবা দিবস ততটা আলোচনায় আসে না। অথচ একজন সন্তানের জীবনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫০১ নাম্বার রুম কি বিজয় নাকি লাম্পট্যর সাক্ষী।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২১ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২৮





মাওলানা মামুনুল হক নামের হেফাজত ইসলামের এক নেতা তার ফেসবুক ওয়ালে দীর্ঘ একটি পোস্ট লিখেছেন। তার এই পোস্টটি এক অদ্ভুত রসাত্মক ট্র্যাজেডি।

লেখাটি পড়লে মনে হয়, তিনি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×