somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভাষ্কর্যের মধ্যে পৃথিবী খোঁজে রাজশাহীর তরুণ

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৫:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাথায় ঝাকড়া চুল। একেবারে সাদামাটা চেহারা। অনেক মানুষের ভিড়ে হয়ত চোখেই পড়বে না ঠিকমত। তবে একটু খেয়াল করলেই দেখা যাবে তার মায়া ভরা চোখ দুটি। গায়ের কালো রঙের তুলনায় চোখের জ্যোতিটাই একটু বেশি। চোখের দিকে তাকালে অনেক শিল্পীই হয়তো খূঁজে পাবেন তার শিল্প সত্ত্বা। খোঁজারই বা কি আছে? ওতো আসলেই শিল্পী। ছেলেটার নাম তরুণ। পুরো নাম পলাশ উদ্দিন তরুণ। বাড়ি রাজশাহীর মোন্নাফের মোড়ে। এখানে এসে জিজ্ঞাসা করলেই যে কেউই তরুণের বাড়ি দেখিয়ে দেবে। সবাই ওকে চেনে।
আর না চেনারও কারণ নেই। কারণ গত বছরই এই শান্তশিষ্ট, নিরীগ গোছের আধপাগলা ছেলেটাই যে হুলস্থুল কারবার করে সবার চোখ কপালে উঠিয়ে ছেড়েছিল। সেই কারবারটা ওর মুখেই শুনুন।' আমি খেয়াল করলাম আমার এলাকার ছেলেদের মধ্যে অনেকেই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। সেই সাথে রমরমা মাদক ব্যবসাও আস্তে আস্তে গ্রাস করছে যুব সমাজকে। কাজ শুরু করলাম। মাদকের বিরুদ্ধে আমার লড়াই শুরু হলো। বেছে নিলাম বাড়ির পাশের একটা পাচীল। সেখানেই আকঁতে লাগলাম মাদকবিরোধী লেখা ও ছবি। হুলুস্থুল পড়ে গেল। অবশ্য শেষ পর্যন্ত মাদকব্যবসায়িদের হাতে মারও খেলাম। কিন্তু সেই ফাঁকে কমে গেল মাদকের বিস্তার। একটু হলেও সচেতন হলো মানুষ।'
এখানেই তরুণের কীর্তি শেষ নয়। ওর প্রথম পরিচয় ও শিল্পী। এক ভাষ্কর। বাড়ির অন্ধকার ঘরের ভেতর বসেই ও জগৎটাকে দেখার চেষ্টা করে ওর শিল্পের মাধ্যমে। গড়ে তোলে একের পর এক ভাষ্কর্য। দেখলে মনে হবে যেন কোন বিখ্যাত পটুয়া দিনারত ব্যয় করেছেন এসব ভাষ্কর্য। তাই বলে যেন ভাববেন না তরুণ হয়ত প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পী। ও কেবল এসএসসি পাশ করেছে। তরুণের সাথে কথা হচ্ছিল ওর শোবার ঘরের খাটের ওপর বসে। অন্ধকার একটা ঘর। জিনিসপত্রও তেমন গোছানো নয়। তরুণ বলল, এ বছরই আমি রাজশাহী মডেল স্কুল থেকে এসএসসি পাশ করেছি। তবে রেজাল্ট ভালো হয় নি। সি গ্রেড পেয়েছি। এখন রাজশাহী আর্ট কলেজে পড়ছি। ফার্স্ট ইয়ারে।'
কাজের প্রসঙ্গ উঠতেই তরুণ বললো, আমাদের মোন্নাফের মোড়ে আগে থাকত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের কয়েকজন ছাত্র। এদের একজন ছিলেন রানা ভোমিক কচি। কচি ছিলেণ চারুকলার ভাষর্্কর্য বিভাগের ছাত্র। তার কাছেই আকাঁ আাঁকির হাতে খড়ি। এক সময় ভালো বেসে ফেলাম ভাষ্কর্য। আমি তখন কাশ থ্রিতে পড়ি। সেখান থেকেই শুরু। এখনো কাজ করে চলেছি।
চারভাইয়ের মধ্যে তরুণ তৃতীয়। বাবা জানে আলম রিকশার গ্যারেজের মালিক ছিলেন। এখন অসুস্থ্য কোন কাজ করেন। বড় দু'ভাইও কাজ করেন গ্যারেজে। ছোটভাইটা পড়ালেখা ছেড়ে এখন কিছুই করে না। তরুণের মা রেজিয়া বেগন রান্না করছিলেন আঙিনাহীন ঘরের দোরেই। তিনি বললেন, ছোটবেলা থেকেই তরুণের ভাষ্কর্য গড়ার শখ। অনেক কষ্ট হলেও আমরাও কখনও বাধা দিইনি ওর কাজে।
তরুণ জানালো, দেশের প্রখ্রাত ভাষ্কর নিতুন কুন্ডু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক আব্দুর রাজ্জাক স্যার ওর আইডিয়াল। এদের কাজ ওকে অনুপ্রাণিত করে। তরুণের কাজ মুলত ভাষ্কর্যের অফেরা ও জাল ধারার। সমাজের অবহেলিত মানুষই ওর অফেরার বিষয়। আর চারপাশের পরিবেশের মধ্যে লুকিয়ে থাকা নানা অসঙ্গতি, অঘটন, ঘটনা ও তুলে ধরে জালের মাধ্যমে। তবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়েও কাজ রয়েছে তরুণের। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ স্মৃতি সংগ্রহ শালাতে ওর কাজ রাখা আছে।
তরুণ কাজ করার জন্য প্রায় এখানে সেখানে চলে যায়। বলল, 'কলেজে কাশ করার পর রাজশাহী স্টেশনে যাই। স্টেশনের প্লাটফরমে পড়ে থাকা মানুষগুলোর কর্মকান্ড দেখি। আর এ নিয়েই গড়ে তুলি ভাষ্কর্য। তবে কাজ করতে কষ্ট হয়।' কষ্টের কারণটা জানা গেল বাড়ির ভেতরে ঢুকতেই। চারপাশের ইট-কাঠই জানিয়ে দিচ্ছে সংসারের দৈন্যদশা। তরুণ বলল, এখন আমি পড়াশোনার খরচ পাই মেজ ভাইয়ের কাছ থেকে। বাবাও মাঝে মধ্যে টাকা পয়সা দেন। কিন্তু তাতে তো সব কাজ হয় না। মাঝে মধ্যে নিজের কাজ বেচেও অর্থের সংস্থান করতে হয়। একটা আর্ট স্কুল খোলারও চেষ্টা করছে তরুণ। তবে এখনো কাজ শেষ হয় নি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগেও বেশ পরিচিত তরুণের। আগে প্রায়ই যেত। তবে এখন সময় না পেলেও সপ্তাহে অন্তত একদিন যায়। শিক-ছাত্রদের সাথে বসে কথা বলে, কাজ দেখে। মাঝে মধ্যে কাজও করে। তবে আত্মতৃপ্তি মেলে না। তরুণ শিল্পী হতে চায়। কিন্তু সামর্থ্যের বেড়াজালে বার বারই আটকা পড়ে ওর শিল্প সত্ত্বা। আর এজন্যই নিজের অবস্থার উন্নয়ন চায় তরুন। অনেক বড় ভাষ্কর হতে চায়। সুযোগ পেলেও তরুণই হয়ত হয়ে উঠবে আগামী দিনের নিতুন কুন্ডু বা ওঁরই মত কেউ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০০৯ সকাল ১০:১৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১৩

জুলাই মিউজিয়ামঃ আলোর নিচে অন্ধকার!

জুলাই মিউজিয়ামে ঢুকলে প্রথমেই যে অনুভূতিটি হৃদয়কে স্পর্শ করে, তা হলো- এটা শুধু একটি জাদুঘর নয়; এটা একটি জাতির রক্তাক্ত স্মৃতির সাক্ষ্য।
পরিকল্পনা থেকে নির্মাণ- প্রতিটি পরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তুমি অমর দিশারী

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:১২


তুমি সূর্য কিনারায় উঁকি দিয়েছ বলে-
মা.. তুমি সূর্য আলো!
তোমার জন্মদিনে চাঁদ পৃথিবী হাসছে
আমরা যে গর্বিত গর্বিত-
মা.. তুমি সূর্য আলো;

তোমার অনুশাসন
আমাদের প্রেরণার উড়ন্ত পায়রা
শান্তির জ্বলন্ত মশাল
তোমার জন্ম সাতশত মহীয়ান-
আমরা শুধু গর্বিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেগে উঠেছে জামাত-শিবিরের রগ কাটা বাহিনী

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:০৫



গণ অধিকার পরিষদের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছে জামায়াত-শিবির।

কুষ্টিয়ায় গণ অধিকার পরিষদের নেতারা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের এক কর্মীর পায়ের রগ কেটে দিয়েছেন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×