ইবাদতের (বিশেষত: নামাজে) প্রকৃত আনন্দ আপনি তখনই পাবেন যখন আপনি যা তেলাওয়াত করছেন তা বুঝতে পারেন। রসুল (স) বলেছেন ’নামাজ মুমিনের জন্য মেরাজ স্বরুপ’। নামাজে মুমিন আল্লাহর সাথে কথা বলে থাকে। আপনি যদি নামাজ পড়ার সময় বুঝতে পারেন আপনি কি কথা বলছেন (তেলাওয়াত করছেন) আল্লাহর সাথে, তখন আপনি ¯্রষ্টার সাথে কথা বলার আসল মজা উপভোগ করতে পারবেন।
যে কোন বক্তব্য,কথা বা লেখনি ভাষান্তর করলে তা স্বকীয়তা হারায়। অনুবাদ হল উপায়ন্তর অবস্থায় এক অবলম্বন। আপনার পা হারালে,আপনি লাঠি ভর দিয়ে চলেন। এ লাঠি হাটার জন্য কোন বিকল্প নয় । উপায়ন্তর অবস্থায় এক অবলম্বন। নিজ পায়ে হাটার আনন্দ কি লাঠি ভর দিয়ে হেটে পাওয়া যায়? আলক্বুরআনের প্রকৃত শিল্প-সৌন্দর্য, ভাষার অনন্যতা তখনই ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন যখন উহা সরাসরি বুঝতে পারবেন।
একথা সুবিদিত যে, কোন ভাষায়ই হুবহু অনুবাদ করা সম্ভব নয়। অনুবাদক যখন অনুবাদ করেন তখন তিনি যা বুঝেছেন ঠিক তাইই ভাষান্তরে প্রকাশ করেন। এক্ষেত্রে আপনি অন্যের বুঝের মুখাপেক্ষি। উল্লেখ্য একই বক্তব্য সকল পাঠক কখনও একই রকম বুঝে থাকে না। বিভিন্ন পাঠক প্রত্যেকে তার মেধা ও বিশ্লেষণি শক্তি অনুসারে বুঝে থাকে। এ কারনে একই বইয়ের অনুবাদ একাধিক ব্যক্তি করলে,সব অনুবাদের মান একই রকম হয় না। ইসলামের নামে বিভিন্ন দল-উপদল রয়েছে। প্রত্যেক দল-উপদল আপনাকে সেই অনুবাদ ও তাফসির পড়তে উৎসাহিত করে থাকে যেটার সাথে তাদের চিন্তা-চেতনার মিল রয়েছে। সুতরাং অনুবাদকে আপনি কখনো মুল ক¦ুরআনের বিকল্প ভাবতে পারেন না।
যত সুন্দর কথাই হোকনা কেন আপনি যদি এমন কারো কাছ থেকে শোনেন যিনি সুন্দর করে গুছিয়ে কথা বলতে পারে না, তখন মজার বদলে বিরক্তির উদ্রেক হয়ে থাকে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম বক্তা বা লেখকের লেখনিরও আপনি অনুবাদ যদি পড়েন তাহলে আপনি সে বক্তার বক্তব্যর সত্যিকার ঝংকার ও লেখনির প্রকৃত অলংকার অনুভব করতে পারবেন না।
আল কোরআন হল বিশ্বজাহানের ¯্রষ্টার মানবজাতিকে উদ্দেশ্য করে পথপ্রদর্শণমুলক এক অনন্য বক্তব্য। বক্তা নিখিল জাহানের ¯্রষ্টা নিজেই। তার বক্তব্যর মাধুর্য্য ও সম্মোহণী শক্তির তুলনা কোন কিছুই হতে পারে না। অনুবাদ পড়ে সে মাধুর্য্য সমভাবে অনুভব করা সম্ভব নয়। আলকুরআনের অনুবাদ পাঠক অনুবাদ পাঠ করে তার হৃদয় যেটুকু দোলা পায়; তার চেয়ে বহুগুন বেশি তার হৃদয় দোলা পেত যদি সে তা সরাসরি বুঝতে পারতো।
আল-ক্বুরআনের সঠিক জ্ঞানার্জন সম্পর্কে আল্লাহ ও রসুলের বক্তব্য:
আল্লাহর সর্বপ্রথম আদেশ হল ’পড়, তোমার রবের নামে যিনি তোমকে সৃষ্টি করেছেন-(সুরা আলাক-১)’
এ পড়ার অর্থ অবশ্যই বুঝে পড়া। কেউ আপনাকে কিছু পড়তে বললে তার অর্থ নিশ্চয়ই এ নয় যে সে আপনাকে না বুঝে কেবলমাত্র মন্ত্র পড়ার মত আবৃত্তি করতে বলেছেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


