somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চেনা গল্পে একদল মফিজ

৩১ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৯:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গ্রাম থেকে সবে শহরে এসেছে মফিজ। তার শহরে জীবন আর মেস সম্পর্কে তেমন কোনো ধারনা নেই। ফলে মেসে এসে মেসের বাজার আর খাওয়া নিয়ে বড্ড বিপদে পড়েছে। এর মাঝে আবার মেসের ম্যানেজারের দায়িত্ব এসে পড়েছে মফিজের ঘাড়ে। সন্ধ্যায় গ্রাম থেকে মফিজের বাবা ফোন করেছে দৈনিকের খোজ খবর জানার জন্য। মফিজ তার বাবাকে জানানো, সে ম্যানেজার হয়েছে। এটা শুনে তার বাবা তো ভীষন খুশি। সঙ্গে সঙ্গে ফোনে ই তার মা'কে ডেকে বলে উঠলো, 'ওগো শুনছো তোমার ছেলে ঢাকা গিয়ে ম্যানেজার হয়েছে।'

এদিকে গ্রামে খবর রটে গেল মফিজ ম্যানেজার হয়েছে। মফিজের বাবা গ্রামের সবাই কে দাওয়াত করে খাওয়ালেন। মফিজের মায়ের সে কি কথা, গ্রামের প্রত্যেকটা মহিলা কে ডেকে ডেকে মফিজের এই বিশাল কৃতির কথা সবাই কে জানাচ্ছে।

গ্রামের মাতবার রহিম সাহেব। তার ছেলে আবুল। রহিম সাহেব তার ছেলে আবুল কে বকা দিতে লাগলেন। গ্রামের সব থেকে ব্রিলিয়ান্ট ছেলে বলে আবুলের একটা সুনাম আছে৷ কিন্তু ঢাকা গিয়ে ১০ দিন ও টিকতে পারে নাই। ঢাকার একটা কলেজে ভর্তি হয়ে কয়েকদিন পরে ঢাকার লাইফে বিরক্ত হয়ে গ্রামের একটা কলেজে ভর্তি হয়েছে। রহিম সাহেব আবুল কে মফিজের এই অর্জনের কথা শুনিয়ে অনেক গালমন্দ করে গেল। মফিজ দুই দিন ধরে ঢাকা গিয়ে ম্যানেজার হয়ে গেছে আর আবুল গ্রামে পড়ে পড়ে মরছে। আর কত কি....

পরের দিন সকালে আবুল তার ক্লাস টেনে পড়া গার্লফ্রেন্ডের সাথে দেখা করতে গেলে আরো বিপত্তি ঘটলো৷ মরজিনা এখন আবুলের সাথে কথা বলতে চাচ্ছে না৷ সে খুব ই কষ্টে আছে কেন যে সে মফিজ কে রিজেক্ট করেছিল সেটা ভেবে। আবুল অনেক বুজাতে চেষ্টা করলো কিন্তু মরজিনা কিছুতেই বুজতে চাইছে না। মরজিনা আবুলের সাথে ব্রেক আপ করে দিলো৷ বাসায় গিয়ে মফিজ কে ফোন দিলো। মরজিনার ফোন পেয়ে মফিজ পুরাই অবাক। সে যেন বিশ্বাস করতে পারছে না। কিছু দিন আগে ও সে পাগলের মত মরজিনার পিছনে ঘুরেছে। কিন্তু তাকে পাত্তা ই দেয় নি মরজিনা৷ হঠাৎ করে মরজিনা কেন ফোন দিলো?

'হ্যালো মফিজ কেমন আছো?
ভালো আছি। তুমি কেমন?
আছি কোনো রকম৷ তুমি আমার কোনো খোজ খবর রাখো না। ভুলে ই গেছ?

মফিজ কিছু টা বিব্রত হয়ে বললো, একটু ব্যস্ত ছিলাম তো তাই দিতে পারি নি।

--হ্যা তা তো হবেই, ম্যানেজার হইছো। এখন কি আমার আমার মত গ্রামের মেয়ের কথা তোমার মনে থাকবে।

মফিজ কিছুটা অবাক হলো এবং পরে বুজতে পারলো, সে যে তার বাবাকে মেসের ম্যানেজার হওয়ার কথা বলেছিল সেই কথাটা সারা গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে।

গ্রামের সবাই বুজেছে সে কোনো ব্যাংক বা অফিসের ম্যানেজার হয়েছে৷ ফলে মরজিনা তাকে ফোন করেছে। যাই ভাবুক, মরজিনা যেহেতু ফোন করেছে আর তাকে ভাউ দিচ্ছে সে কেন এইটার ফায়দা নিবে না। ফলে মরজিনার সাথে মফিজের একটা শখ্যতা হয়ে গেল।

এদিকে আবুলের অবস্থা প্রচন্ড খারাপ। কোন ভাবেই মরজিনার সাথে কথা বলতে পারছে না, মরজিনা সকল যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। মরজিনার বাসার সামনে ঘোরাফেরার সময় আবুল জানতে পারলো, মরজিনা এখন মফিজের সাথে প্রেম করতেছে। এটা শোনার পর আবুলের দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা।

এদিকে গ্রামে এসেছে মফিজ। গ্রামের ছোট্ট ছেলে থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই মফিজ কে দেখে সম্মান করতেছে। এটা দেখে মফিজের মনে এক প্রকার গর্ব গর্ব ফিল হচ্ছে।

মফিজের বাবা গ্রামের সব গন্য মান্য মানুষদের বাসায় দাওয়াত দিয়েছে মফিজের আগমন উপলক্ষ্যে। সবাই এসে মফিজ কে স্বাগতম জানাচ্ছে। আবুল এসেছে মফিজের বন্ধু হওয়ার সুবাদে। এদিকে খাওয়া দাওয়ার পর ছোট্ট একটা আড্ডার আসর বসেছে। আর সেই আড্ডার মধ্যমণী মফিজ৷ কথা বলার কোনো এক পর্যায়ে, এক মুরব্বি মফিজ কে জিজ্ঞাসা করেছে, "তা বাবা তুমি কোন অফিসের ম্যানেজার হয়েছ?"

মফিজ একটু বিচলিত হয়ে বললো, 'কেন আমাদের মেসের! প্রত্যেক মাসে আমাদের মেসে একজন করে ম্যানেজার চুজ করা হয় সারা মাস মেস চালানোর জন্য। আমি গত মাসে মেসের ম্যানেজার হয়েছি।'

মফিজের এই কথা শুনে সবাই হা করে মফিজের দিকে তাকিয়ে রইলো...
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০২০ রাত ৯:৩২
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×