তীর্থক ও দীক্ষক ভাইয়ের কথা মতো বাংলাদেশ নিয়ে লিখতে বসেছি। বাংলাদেশের অতীত, বর্তমান নিয়ে সতীর্থ ব্লগারুরা লিখছেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে লেখা একটু কম, ফাকা মাঠে সুযোগ থাকতে আমি আমার দুপয়সা যোগ করে দিলাম। কমনওয়েলথ গেমস থেকে তৌহিদুলের পলায়ন নিয়ে অন্তত দুটি লেখা চোখে পড়েছে, তবে তৌহিদুলদের পালিয়ে যাওয়া নতুন কিছু নয়, প্রত্যেক অলিম্পিক, কমনওয়েলথেই আমাদের দু-একজন পালায়, আমরা বাকীরা প্রথমে লজ্জিত হই, তারপর তৌহিদুলরা যখন প্রথম মানি অর্ডারটি দেশে পাঠায়, আমরা সব ভুল ক্ষমা করে দেই, উপায় নেই যে, এই টাকায়ই তো আমরা বিএমডাবি্লউ কিনব, হাল ফ্যাশনের মোবাইল সেট আমদানী করব। দেশ ছেড়ে কে না পালাতে চায়, ভিসা পাওয়ার সংবাদ আমাদের সমাজে সচরাচর সুসংবাদ (অন্যান্য ব্লগ দ্্রষ্টব্য)। তবে এই নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই, ভিনদেশে বসতি স্থাপন মানুষের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন দেশে এটা হয়েছে, আমাদের দেশেই তো আর্য থেকে শুরু করে, আরব, তুর্কী, ইরানী, ইউরোপিয়ান কত লোক এসেছে। তবে সময় বদলে গিয়েছে, অভিবাসন বিশ্বায়নের যুগে অনেকটাই gamble, জাপানীজ-ব্রাজিলিয়ানদের ঘটনাটা বলি। 1920 এবং 1930 এর দশকে জাপানের অর্থনৈতিক অবস্থা তুলনামুলক ভাবে খারাপ ছিল, প্রচুর জাপানীজ এ সময় দেশ ত্যাগ করে, দেশ ত্যাগীদের একটা বড় দলের গন্তব্য ছিল ব্রাজিল। ব্রাজিলের অবস্থা কোন কোন ক্ষেত্রে কিছুটা ভালো ছিল, কফি চাষ চলছিল পুরোদমে, যে জন্য প্রচুর শ্রমজীবির চাহিদাও ছিল, জাপান সরকারও দেশের লোকদের বিদায় দেয়ার জন্য উদগ্র ীব, এমনকি ব্রাজিল যাওয়ার ভাড়া পর্যন্ত দিয়ে দেয়া হচ্ছিল। যাহোক 40 এর দশকে বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলে পৃথিবী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অবস্থার নতুন মেরুকরণ শুরু হয়, মাত্র 20 বছরের মাথায় জাপানীজ-ব্রাজিলিয়ানরা অবাক বিস্ময়ে দেখল, দারিদ্্রের কারনে যে জাপান ছেড়ে একদিন তারা পালিয়েছিল তা ক্রমশ বিশ্বের দ্্বিতীয় সর্বোচ্চ ধনী দেশে পরিণত হচ্ছে। ঘটনা এখানেই শেষ নয়, ব্রাজিলের অর্থনৈতিক অবস্থা এর মধ্যে কিছুটা খারাপ হয়ে যায়, বিশ্ব অর্থনীতির কৃষি নির্ভরশীলতা অনেক কমেছে। আশির দশক থেকে জাপানীজ-ব্রাজিলিয়ানরা (এখন ব্রাজিলের নাগরিক), জাপানে ফেরত আসার চেষ্টা করতে থাকে, সমস্যা হচ্ছে এবার জাপানবাসীরা ওদেরকে আর সহজভাবে নিতে পারছে না, তারপরও অনেকে জাপানে কাজ করছে, এবং বছরে অন্তত 2 বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স ব্রাজিলে পাঠায়। বাংলাদেশী তৌহিদুলের এ অবস্থা হবে হলফ করে বলতে পারি না, কিন্তু একদমই যে অসম্ভব তাই বা বলি কি করে। ভারত এবং চীন যে গতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে দশ বছরে এশিয়ায় অন্যান্য দেশে বড় মাপের প্রভাব পড়তে বাধ্য। যারা গত এক বছরে হায়দ্্রাবাদ বা বাঙ্গালোর গিয়েছেন, একমত হবেন যে কি অভাবনীয় পরিবর্তন হচ্ছে ওখানে, আমার চীনা কলিগের কাছেও শুনেছি সাংহাই বা বেইজিং-এর অবস্থাও তাই। অনেক সময় চামড়ার নীচের পরিবর্তন সহজে ধরা যায় না, ভারত-চীন তো দশ বছর আগেই এর সুচনা করেছে, মিডিয়ায় স্থান পায় নি বলে এখন মাত্র অল্পবিস্তর শোনা যাচ্ছে। আমাদের জন্মগত ভারত বিরোধীতার জন্য তাও ঠিকমত শোনা যায় না। আচ্ছা ভারত আর চীন নিয়ে কেন এত লাফালাফি, অন্যরা কোথায়, উত্তরের জন্য খুজে দেখুন ভারত আর চীন মধ্যে কোথায় সবচেয়ে বেশী মিল, জনসংখ্যা, বিশ্বায়নের যুগে জনসংখ্যাই মুল সম্পদ (এই নিয়ে পরে লিখব), আমদেরও জনসংখ্যা বেশী, জনসংখ্যার চাপে আর ভারতের উন্নতির কারনে আমার ধারণা বংশগত ভারত বিরোধীতা আস্তে আস্তে চাপা পড়ে যাবে (খবর দেখুন, টাটার বিনিয়োগে ভারত বিরোধীরা যথাযথ বাধা দিচ্ছে না)। এখন একটা ভালো স্বপ্ন দেখলে পরিস্থিতি এমন হতে পারে-
2015ঃ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের আদলে দক্ষিন এশীয় ইউনিয়ন তৈরী হল, নাগরিকদের অবাধ যাতায়াত, ব্যবসা বানিজ্য সম্ভব হবে (পাকিস্তান-পছন্দ ভাইয়েরা হতাশ হবেন না, পাকিস্তানেও অবাধ যাতায়াত করতে পারবেন, অনেকটা একই দেশের মতো)।
2025ঃ এশীয় ইউনিয়নের বর্নাঢ্য উদ্্বোধন, এশিয়ার নাগরিকদের আর পাসপোর্টের দরকার নেই, পুরো এশিয়া এখন মহাদেশ না হয়ে একটা দেশের মতো। মধ্যপ্রাচ্য জয়েন করবে কি না একটু সন্দেহ আছে, মাত্র 20 বছরে ওদেরকে অনেক কুপমন্ডুকতা কাটিয়ে উঠতে হবে। এখন এশিয়া যদি দেশ হয়, তাহলে রাজধানী কোথায় হবে? এশিয়ার ব্রাসেলস কে হবে? ম্যাপ দিয়েছি ওপরে, ভালোমতো তাকান, ভারত বা চীনে সম্ভব নয়, কারন ওরা তখন পরাশক্তি, না চাইলেও রাজধানীর পোস্টটা ঢাকা পেয়ে বসতে পারে, মধ্যপন্থ ী দেশ হিসেবে পাওয়াই উচিত। তদ্দিনে নিশ্চয়ই আমরা নাকে খত দিয়ে এশিয়ান হাইওয়ের সাথে যুক্ত হব। ঢাকা হবে কসমোপলিটান শহর, নানা দেশের লোক ভীড় করবে কাজের প্রয়োজনে, ভ্রমন, বা স্রেফ থেকে যাওয়ার জন্য।
2026ঃ কমনওয়েলথ গেমসের আসর বসেছে এশিয়ার রাজধানী ঢাকায়, তৌহিদুলের ছেলে ওয়াহিদুল অস্ট্রেলিয়ান ট্র্যাক এন্ড ফিলড টিমের সদস্য হয়ে ঢাকায় এসেছে, এত বড় শহর দেখে সে অবাক, পুরো বৃহত্তর ঢাকা জেলাই এখন শহরে রূপান্তরিত... ইত্যাদি। (দেখি মুখফোড় ওয়াহিদুলের ঢাকা ভ্রমন নিয়ে কিছু লিখে কি না)।
স্বাধীনতা দিবসে আমার প্রশ্ন বাপ-দাদার কাছ থেকে পাওয়া মুখস্থ চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে একটু সামনের দিকে তাকাতে আমরা পারব কি? এখন আমাদের যাদের বয়স বিশ বা ত্রিশের কোঠায় জীবদ্দশায়ই তারা এর সুফল পাবো, শুধু দরকার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন (পরে ব্যাখ্যা করে লেখার ইচ্ছা আছে)।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০