somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ-1.1ঃ নাৎসী গনহত্যা (দ্্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ)

১৪ ই মে, ২০০৬ বিকাল ৩:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইতিহাস যখন কাহিনী আকারে পড়ি, প্রায়ই যে ঘটনাটা ঘটে তা হলো চরিত্রগুলোকে মনের অজান্তে সাদা-কালোয় বিভাজিত করে ফেলি। কেউ ভালো আর কেউ খারাপ। ইতিহাসের সংঘর্ষগুলো হয়ে দাড়ায় শুভ-অশুভের নিরন্তর অতি পরিচিত সংগ্রামের কেবলই একটি দৃশ্য মাত্র, শুধু স্থান-কাল-পাত্র-পাত্রীরা বদল হয়। হয়তো এসব অতি সরলীকরনের অনেক সুবিধা আছে, সমস্যা হচ্ছে রঙিন ছবিকে সাদা-কালো করলে যা হয়, অনেক মৌলিক তথ্য বাদ পড়ে যেতে পারে।

দ্্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (1939- 1945) নিয়ে অনেক সিনেমা, ডকুমেন্টারী, বা টিভি সিরিজ দেখেছি, গল্প আলোচনাও কম করি নি, তারপরও একটা গুরুত্বপুর্ন প্রশ্ন কখনও ভালোভাবে মনে আসেনি, প্রশ্ন করার আগেই যখন উত্তরটা পেলাম তখন বুঝতে পারলাম শুধু আমি না অনেকেই এই অতিসরলীকরনে আক্রান্ত হয়েছে। আমার কলিগের বাবা দ্্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে হল্যান্ডে থাকতেন, একদিন কথায় কথায় তিনি বললেন, যুদ্ধের পরে তাদের অনেক আত্মীয় স্বজন দক্ষিন আফ্রকায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়, কারন যুদ্ধে তাদের অনেকে জার্মান বাহিনীকে সাহায্য করেছিলেন। খুব আশ্চর্য হলাম এটা শুনে, কারন আমি আমার কলিগদের ফ্যামিলিকে জানতাম সৎ, ভদ্্র, এবং অনেকটাই উদার মনোভাবের মানুষ হিসেবে, তারা কিভাবে সাক্ষাত ডেভিল হিটলারের লোকজনকে সাহায্য করলেন পরিস্কার হচ্ছিল না। এরপর দ্্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে অনেক ঘাটাঘাটি করেছি, অনেক তথ্য পেলাম যেগুলো সচরাচর সিনেমা, বা ডকুমেন্টারীতে থাকে না। প্রচলিত বর্ণনায় হিটলার, আর তার সাঙ্গপাঙ্গদেরকেই শুধু কোটি কোটি মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়, যে তথ্যটা থাকে না তা হলো, যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতি 3/4 জন জার্মান পুরুষ নাগ িরকের একজন সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছে, অনেকক্ষেত্রেই সাধারন জনগন প্রত্যক্ষভাবে গনহত্যায় ভুমিকা রেখেছে, এবং জার্মানী যখন ডেথ ক্যাম্পে লক্ষ লক্ষ বন্দিকে বিষাক্ত গ্যাস দিয়ে মেরে ফেলছিল তখন নাগরিকরা কোন প্রতিবাদ তো করেই নি বরং অনেকেই যুদ্ধবন্দিদেরকে দাস হিসেবে কলকারখানায় কাজ করিয়েছে। জার্মানী যখন একটার পর একটা দেশ দখল করছিল দেশপ্রেমিক জার্মান নাগরিকরা সেটাকে ভালোভাবেই সেলিব্রেট করত। হিটলার না হয় নরপিশাচ ছিল, তাই বলে কি দেশশুদ্ধ মানুষের কি কোন বিবেক বুদ্ধি ছিল না? এখানেই সরলীকরনের সমস্যা, টিভি সিনেমার দ্্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে এসব উত্তর পাওয়া মুশকিল, বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে বিশ্লেষন দরকার। ঐতিহাসিক চরিত্র গুলোকে পিশাচ আর ফেরেশতায় ভাগ না করে তাদের নির্মোহ বিশ্লেষন করলে বুঝতে পারব উত্তরগুলো যথেষ্ট জটিল।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে হারার পর জার্মানীতে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় (Weimer Republic), যদিও দেশের তখনকার রাজনৈতিক দলগুলোর গনতন্ত্রে আস্থা ছিল না বললেই হয়। এরকম অবস্থায় চরম ডান (Nationalsozialistische Deutsche Arbeiterpartei বা নাৎসী পার্টি) এবং চরম বাম দুধরনের দলের বিস্তার ঘটে, সবদলেরই আবার পেটোয়া বাহিনী (প্রচলিত বাংলায় ক্যাডার) ছিল যেমন নাৎসীদের ক্ষেত্রে SA, SS (Schutzstaffel) বাহিনী। নাৎসী বাহিনীর মুল ভিত্তি ছিল জার্মান জাতীয়তাবাদ, আরো ভালোভাবে বললে বর্ন ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ, হিটলারের Mein Kampf (My Struggle) বইয়ে বিশদভাবে এসব racist বর্ণনা আছে। যাহোক ত্রিশের দশকের শুরতে অর্থনৈতিক মন্দার কারনে এসব বক্তব্য জার্মান নাগরিকদের কাছে যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত মনে হতে থাকে, শেষমেশ 1932 সালে হিটলার বৈধ ভাবেই ক্ষমতারোহন করে।

পরবর্তি কয়েক বছরে হিটলারের বর্ণভিত্তিক বিশেষ করে ইহুদি এবং জিপসী বিরোধী প্রচারনা বাড়তে থাকে, ইহুদি বিরোধী সভা সেমিনার ইত্যাদি চলতে থাকে (সামপ্রতিক কালে যেমন বাংলাদেশে কাদিয়ানী বিরোধী কার্যকলাপ, একসময় আমরা সমস্যাটা জানতামই না, আবার যখন ওদেরকে আক্রমন করা হলো সাধারন জনগন হিসেবে আমরা কেউ বাচাতেও গেলাম না, একইরকম দেখি অনেক পশ্চিমা মাধ্যমে অবাধ মুসলিম বিরোধী প্রচারনা , যা সাধারন নাগরিকরা সচরাচর প্রতিবাদ করে না)। একসময় জার্মানীতে সংখ্যালঘুদের নাগরিক অধিকার সংকোচন চলতে থাকে। অবস্থা এমন দাড়ায় জার্মানীতে ইহুদিদেরকে সরিয়ে নিয়ে ঘেটোতে (ghetto - যেমন মোহাম্মাদপুরে বিহারী ক্যাম্প) বন্দি করা হয়। জার্মানী বিশ্বযুদ্ধ শুরু করলে যে সব দেশ দখল করছিল, সেখান থেকে ইহুদি, জিপসীদেরকে নিয়ে এরকম ঘেটো বা concentration ক্যাম্পে নিয়ে জড়ো করা হতে থাকে। জার্মান শিল্পপতিরা সোল্লাসে এদেরকে দাস হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে, উদাহরণ Friedrich Flick এবং তার DaimlerChrysler (এদের বানানো গাড়ীর মধ্যে আছে Chrysler, Dodge, Jeep, Mercedes-Benz) কোম্পানী। Forced slave labor জার্মানীর জন্য শিল্প বিকাশে খুবই সুবিধাজনক হয়ে দেখা দেয়, এমনকি যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে (1943-1945) জার্মানী যুদ্ধ সরঞ্জামের উৎপাদন কয়েকগুন বাড়াতে সক্ষম হয় কেবল যুদ্ধবন্দিদের ওপর ভিত্তি করে।

1942 সালে নাৎসী জার্মানী সিদ্ধান্ত নেয় সমস্ত ইহুদী, জিপসীদেরকে মেরে ফেলার (Endl
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০০৬ বিকাল ৪:৫৩
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×