দ্্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (1939- 1945) নিয়ে অনেক সিনেমা, ডকুমেন্টারী, বা টিভি সিরিজ দেখেছি, গল্প আলোচনাও কম করি নি, তারপরও একটা গুরুত্বপুর্ন প্রশ্ন কখনও ভালোভাবে মনে আসেনি, প্রশ্ন করার আগেই যখন উত্তরটা পেলাম তখন বুঝতে পারলাম শুধু আমি না অনেকেই এই অতিসরলীকরনে আক্রান্ত হয়েছে। আমার কলিগের বাবা দ্্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে হল্যান্ডে থাকতেন, একদিন কথায় কথায় তিনি বললেন, যুদ্ধের পরে তাদের অনেক আত্মীয় স্বজন দক্ষিন আফ্রকায় পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়, কারন যুদ্ধে তাদের অনেকে জার্মান বাহিনীকে সাহায্য করেছিলেন। খুব আশ্চর্য হলাম এটা শুনে, কারন আমি আমার কলিগদের ফ্যামিলিকে জানতাম সৎ, ভদ্্র, এবং অনেকটাই উদার মনোভাবের মানুষ হিসেবে, তারা কিভাবে সাক্ষাত ডেভিল হিটলারের লোকজনকে সাহায্য করলেন পরিস্কার হচ্ছিল না। এরপর দ্্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে অনেক ঘাটাঘাটি করেছি, অনেক তথ্য পেলাম যেগুলো সচরাচর সিনেমা, বা ডকুমেন্টারীতে থাকে না। প্রচলিত বর্ণনায় হিটলার, আর তার সাঙ্গপাঙ্গদেরকেই শুধু কোটি কোটি মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়, যে তথ্যটা থাকে না তা হলো, যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতি 3/4 জন জার্মান পুরুষ নাগ িরকের একজন সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছে, অনেকক্ষেত্রেই সাধারন জনগন প্রত্যক্ষভাবে গনহত্যায় ভুমিকা রেখেছে, এবং জার্মানী যখন ডেথ ক্যাম্পে লক্ষ লক্ষ বন্দিকে বিষাক্ত গ্যাস দিয়ে মেরে ফেলছিল তখন নাগরিকরা কোন প্রতিবাদ তো করেই নি বরং অনেকেই যুদ্ধবন্দিদেরকে দাস হিসেবে কলকারখানায় কাজ করিয়েছে। জার্মানী যখন একটার পর একটা দেশ দখল করছিল দেশপ্রেমিক জার্মান নাগরিকরা সেটাকে ভালোভাবেই সেলিব্রেট করত। হিটলার না হয় নরপিশাচ ছিল, তাই বলে কি দেশশুদ্ধ মানুষের কি কোন বিবেক বুদ্ধি ছিল না? এখানেই সরলীকরনের সমস্যা, টিভি সিনেমার দ্্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে এসব উত্তর পাওয়া মুশকিল, বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে বিশ্লেষন দরকার। ঐতিহাসিক চরিত্র গুলোকে পিশাচ আর ফেরেশতায় ভাগ না করে তাদের নির্মোহ বিশ্লেষন করলে বুঝতে পারব উত্তরগুলো যথেষ্ট জটিল।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে হারার পর জার্মানীতে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় (Weimer Republic), যদিও দেশের তখনকার রাজনৈতিক দলগুলোর গনতন্ত্রে আস্থা ছিল না বললেই হয়। এরকম অবস্থায় চরম ডান (Nationalsozialistische Deutsche Arbeiterpartei বা নাৎসী পার্টি) এবং চরম বাম দুধরনের দলের বিস্তার ঘটে, সবদলেরই আবার পেটোয়া বাহিনী (প্রচলিত বাংলায় ক্যাডার) ছিল যেমন নাৎসীদের ক্ষেত্রে SA, SS (Schutzstaffel) বাহিনী। নাৎসী বাহিনীর মুল ভিত্তি ছিল জার্মান জাতীয়তাবাদ, আরো ভালোভাবে বললে বর্ন ভিত্তিক জাতীয়তাবাদ, হিটলারের Mein Kampf (My Struggle) বইয়ে বিশদভাবে এসব racist বর্ণনা আছে। যাহোক ত্রিশের দশকের শুরতে অর্থনৈতিক মন্দার কারনে এসব বক্তব্য জার্মান নাগরিকদের কাছে যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত মনে হতে থাকে, শেষমেশ 1932 সালে হিটলার বৈধ ভাবেই ক্ষমতারোহন করে।
পরবর্তি কয়েক বছরে হিটলারের বর্ণভিত্তিক বিশেষ করে ইহুদি এবং জিপসী বিরোধী প্রচারনা বাড়তে থাকে, ইহুদি বিরোধী সভা সেমিনার ইত্যাদি চলতে থাকে (সামপ্রতিক কালে যেমন বাংলাদেশে কাদিয়ানী বিরোধী কার্যকলাপ, একসময় আমরা সমস্যাটা জানতামই না, আবার যখন ওদেরকে আক্রমন করা হলো সাধারন জনগন হিসেবে আমরা কেউ বাচাতেও গেলাম না, একইরকম দেখি অনেক পশ্চিমা মাধ্যমে অবাধ মুসলিম বিরোধী প্রচারনা , যা সাধারন নাগরিকরা সচরাচর প্রতিবাদ করে না)। একসময় জার্মানীতে সংখ্যালঘুদের নাগরিক অধিকার সংকোচন চলতে থাকে। অবস্থা এমন দাড়ায় জার্মানীতে ইহুদিদেরকে সরিয়ে নিয়ে ঘেটোতে (ghetto - যেমন মোহাম্মাদপুরে বিহারী ক্যাম্প) বন্দি করা হয়। জার্মানী বিশ্বযুদ্ধ শুরু করলে যে সব দেশ দখল করছিল, সেখান থেকে ইহুদি, জিপসীদেরকে নিয়ে এরকম ঘেটো বা concentration ক্যাম্পে নিয়ে জড়ো করা হতে থাকে। জার্মান শিল্পপতিরা সোল্লাসে এদেরকে দাস হিসেবে ব্যবহার করতে থাকে, উদাহরণ Friedrich Flick এবং তার DaimlerChrysler (এদের বানানো গাড়ীর মধ্যে আছে Chrysler, Dodge, Jeep, Mercedes-Benz) কোম্পানী। Forced slave labor জার্মানীর জন্য শিল্প বিকাশে খুবই সুবিধাজনক হয়ে দেখা দেয়, এমনকি যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে (1943-1945) জার্মানী যুদ্ধ সরঞ্জামের উৎপাদন কয়েকগুন বাড়াতে সক্ষম হয় কেবল যুদ্ধবন্দিদের ওপর ভিত্তি করে।
1942 সালে নাৎসী জার্মানী সিদ্ধান্ত নেয় সমস্ত ইহুদী, জিপসীদেরকে মেরে ফেলার (Endl
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০০৬ বিকাল ৪:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



